শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেল ৩টায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে দোয়া ও মিলাদ পরিচালনা করেন প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা কাজী জমিরুল ইসলাম মমতাজ এবং সিনিয়র সহ-সভাপতি মাও. এম ইলিয়াছ আলী।
প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ জানান, দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় ভবনটি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে ছিল। নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি দায়িত্ব গ্রহণের পর ভবনটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা, প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং সাংবাদিকদের জন্য ব্যবহার উপযোগী করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ভবনের অবশিষ্ট কাজ শেষ না হলেও সাংবাদিকদের পেশাগত কার্যক্রম সচল রাখতে অনানুষ্ঠানিকভাবে ভবনটি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা এবং সরকারি বরাদ্দ নিশ্চিত হলে অবশিষ্ট নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আয়োজন করা হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক হোসাইন আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াকুব শাহরিয়ার, অর্থ সম্পাদক নোহান আরেফিন নেওয়াজ, দপ্তর সম্পাদক জামিউল ইসলাম তুরান, প্রচার সম্পাদক আলাল হোসেন, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রহমান জামী, কার্যনির্বাহী সদস্য কুহিনুর রহমান নাহিদ, মামুন আহমদ, সোলাইমান আহমদ কামরান ও তোফায়েল আহমদ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাকালীন দপ্তর সম্পাদক এম এ বারিক।
সভাপতি সোহেল তালুকদার বলেন, এই ভবন শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি শান্তিগঞ্জের সাংবাদিক সমাজের দীর্ঘদিনের স্বপ্নের প্রতিফলন। অসমাপ্ত অবস্থায় হলেও এখান থেকেই সাংবাদিকদের পেশাগত কার্যক্রম পরিচালিত হবে। আমরা সরকারি বরাদ্দ, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, প্রবাসী ও স্থানীয় শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতায় খুব দ্রুত ভবনটির সব কাজ সম্পন্ন করে এটিকে একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও সাংবাদিকবান্ধব প্রেসক্লাবে রূপান্তর করতে চাই।
সাধারণ সম্পাদক হোসাইন আহমদ বলেন, শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাব সবসময় দায়িত্বশীল, বস্তুনিষ্ঠ ও পেশাদার সাংবাদিকতার পক্ষে কাজ করে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। ক্লাবকে ঘিরে যেকোনো বিভ্রান্তি, অপপ্রচার বা ষড়যন্ত্রের জবাব আমরা আইনসম্মত ও সাংগঠনিকভাবেই দেবো। একই সঙ্গে সকল সাংবাদিককে ঐক্যবদ্ধ রেখে জনগণের কল্যাণে কাজ করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাবের যাত্রা শুরু হয়। ২০১১ সালে জয়কলস ইউনিয়নের তেঘরিয়া গ্রামের গোপেন্দ্র কুমার দাশ ও অতুলকৃষ্ণ দাশ প্রেসক্লাবের নামে চার শতাংশ জমি দান করেন। পরে ২০১৯ সালে তৎকালীন তথ্য মন্ত্রণালয়ের ৩০ লাখ টাকার বরাদ্দে তিনতলা ভিত্তিবিশিষ্ট একতলা ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়। ২০২০ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে নির্মাণকাজের উদ্বোধন হলেও ২০২২ সালে প্রায় ৭৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় কাজ বন্ধ হয়ে যায়। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ১৭ জুন নতুন কমিটি দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভিন্ন দাতা ও শুভানুধ্যায়ীদের আর্থিক সহযোগিতায় অবশিষ্ট কাজ পুনরায় শুরু হয়। সেই ধারাবাহিকতায় অসমাপ্ত ভবনেই আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করল শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাব।