জাল-নৌকা কেনার স্বপ্ন ভেঙে চোখে অন্ধকার—সিএনজিতে হারালেন সবকিছু
ইয়াকুব শাহরিয়ার, ইয়াকুব শাহরিয়ার,
নিজস্ব প্রতিবেদক
মাত্র ২৪ হাজার টাকা। অনেকের কাছে এটি হয়তো খুব বড় অঙ্ক নয়। কিন্তু শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের হাঁসকুড়ি গ্রামের দিনমজুর আলী আহমদ ওলীর কাছে এই টাকাই ছিল নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর শেষ সম্বল। এই অর্থ দিয়ে তিনি একটি জাল, দড়ি ও নৌকা কিনে জীবিকার পথ তৈরি করতে চেয়েছিলেন। পাশাপাশি কিছু পুরোনো ঋণও পরিশোধ করার পরিকল্পনা ছিল তার। কিন্তু একটি অসাবধানতাই মুহূর্তে ভেঙে দিয়েছে তার সব স্বপ্ন। ওলী হাঁসকুড়ি গ্রামের মৃত আবদুল জাহেরের ছেল।
গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বাড়ি ফেরার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ভুলে রেখে আসেন স্ত্রীর ব্যানিটি ব্যাগ। সেই ব্যাগেই ছিল নগদ ২৪ হাজার টাকা, স্ত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং হাসপাতাল থেকে আনা এক মাসের প্রয়োজনীয় ওষুধ।
আলী আহমদ ওলী জানান, স্ত্রীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন। স্ত্রীর নামে একটি ব্যাংক থেকে ঋণ তুলে ৫ হাজার টাকা আগের দেনা পরিশোধ করেন। গাড়ি ভাড়ার জন্য আরও ১ হাজার টাকা আলাদা করে রেখে বাকি ২৪ হাজার টাকা স্ত্রীর ব্যাগে ছিল। উজানীগাঁও পয়েন্ট থেকে সিএনজিতে উঠে পাগলা বাজারে নামার সময় কোলে থাকা সাত মাসের শিশু কান্না শুরু করে। তাড়াহুড়ো করে নেমে যাই। পরে বাড়ির পথে যাওয়াে সময় বুঝতে পারি ব্যাগটি সিএনজিতেই রেখে এসেছি। ব্যাগে টাকাসহ আমার স্ত্রীর এনআইডি কার্ড ও ওষুধ ছিল।
কথা বলতে বলতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন ওলী। অসহায়ের মতো বলেন, আমার সব শেষ হয়ে গেছে। এই টাকা দিয়ে জাল, দড়ি আর নৌকা কিনে কাজ শুরু করতাম। এখন ঋণ শোধ করব কীভাবে, সংসার চালাব কীভাবে, স্ত্রীর চিকিৎসাই বা করাব কী দিয়ে?
অসহায় এই দিনমজুর সমাজের সহৃদয় মানুষের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়ে বলেন, যদি কোনো দয়ালু মানুষ আমার ব্যাগ বা টাকাগুলোর সন্ধান পান, দয়া করে ফিরিয়ে দেবেন। আমি সারাজীবন কৃতজ্ঞ থাকব। মনে করব, আপনি আমাকে এগুলো ভিক্ষা দিয়েছেন।
যোগাযোগ: ০১৬২৪-০৫৯৬৯১
এ বিষয়ে পাগলা বাজার সিএনজি স্ট্যান্ডের ম্যানেজার আবু বকর বলেন, ঘটনাটি শুনে খুব খারাপ লেগেছে। বিষয়টি সব চালককে জানিয়ে দেওয়া হবে। কেউ ব্যাগটি পেয়ে থাকলে যেন দ্রুত আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব ব্যাগটি উদ্ধার করতে।
মানবিকতার এই সময়ে কোনো সহৃদয় ব্যক্তি যদি ব্যাগটি বা এর ভেতরের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও অর্থের সন্ধান পেয়ে থাকেন, তাহলে তা ফিরিয়ে দিয়ে একটি অসহায় পরিবারের মুখে আবারও আশার আলো ফিরিয়ে আনতে পারেন।


