আমাদের স্বপ্নপূরণের যাত্রা

প্রকাশিত: ৬:৫৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১০, ২০২০ 824 views
শেয়ার করুন

মানুষের এই স্বল্প জীবনে কত স্বপ্ন, কত আক্ষাংকা, অল্প জীবনে কত চাওয়া!! সে কামনার সন্তান মোরা তবুও গর্ব কত। ‘স্বপ্ন সেটা নয় যেটা তুমি ঘুমিয়ে দেখো। স্বপ্ন সেটা যেটা তোমায় ঘুমোতে দেয় না। স্বপ্ন হবে দিবালোকের সত্য কাজে জন্য বিভাজন নয়, স্বপ্ন হবে সহাবস্থান ও সম্প্রীতির।

‘সূর্যের মতো দীপ্তিমান হতে হলে প্রথমে তোমাকে সূর্যের মতোই পুড়তে হবে। ”যদি তুমি তোমার কাজকে স্যালুট কর, দেখো তোমায় আর কাউকে স্যালুট করতে হবে না। কিন্তু তুমি যদি তোমার কাজকে অসম্মান কর, অমর্যাদা কর, ফাঁকি দাও, তাহলে তোমায় সবাইকে স্যালুট করতে হবে।’

প্রাত্যহিক জীবনে ‘সফল’ ও ‘অসফল’ এই দু’টো শব্দের সাথে যেন আমাদের নিত্য ওঠা-বসা। বিভিন্ন মানুষের চোখে শব্দ দু’টোর সংজ্ঞায়িত রূপও কিন্তু বেশ ভিন্ন। একেকজনের দৃষ্টিভঙ্গির উপর নির্ভর করে শব্দ দুটোর বিশ্লেষণ। আবার আমাদের চলমান জীবনে শব্দ দুটোর তাৎপর্য এতটাই যে যে এর কোনো সীমা-পরিসীমা নেই। যেকোনো সময় এর দিক পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে। পৃথিবীতে কেউ চিরজীবন জীবিত রবে না।

তাই বলে কেউ কি চায় আপনের মায়া ত্যাগ করে এই ধরণী থেকে স্বল্প সময়ে বিদায় নিতে? সেই ছোটবেলা থেকে শুনে আসা একটি বাক্য “ব্যর্থতাই সাফল্যের চাবিকাঠি যার মর্মার্থ বুঝে উঠতে আমাদের জীবনের অনেকটা সময়ই পার হয়ে যায়। আমাদের চারপাশে তাকালে দেখতে পাবো সফল ব্যক্তির চাইতে অসফল লোকের সংখ্যাই বেশি। এর জন্য একটি দেশের কর্মব্যবস্থা যেমন দায়ী, তেমনি দায়ী আমাদের নিজস্ব কিছু চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। অসফলতা মানুষের জীবনের বিভিন্ন মোড়ে এসেই ধরা দিতে পারে। কেউ চাকরি ক্ষেত্রে, কেউ ব্যবসায়, কেউ পড়ালেখায়,এখন আসা যাক অন্য প্রসঙ্গে। ধরুন, আপনি একজন অসফল মানুষ। জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপেই হয়তো আপনার ভুল ছিল।

আজ পার হয়ে গেছে অনেকটা সময়। মন শুধু চাইছে যদি ফিরিয়ে আনা যেত হারিয়ে যাওয়া সময়, তবে নতুন করে গড়তাম এই জীবন।
এই ভাবনা ভাবা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু বিশ্বাস করুন, সেই হারিয়ে যাওয়া সময়টা যদি আজ আবার ফিরিয়েও দেওয়া হয়, তবু জীবনে কোনো পরিবর্তন আসবে না। কারণ আমরা আগের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এখনও পেছনের দিকে তাকিয়ে রয়েছি। সামনে পড়ে থাকা সময়ের সাথে নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার চেষ্টা করা থেকে এখনো বিরত। প্রতিটি দিন, প্রতিটি মুহূর্তেরর জন্য কৃতজ্ঞ হোন। আমি শুধু মানুষকে ছোট ছোট, অর্থহীন মানসিক চাপ নিয়ে ব্যতিব্যস্ত থাকতে মানা করতে চাই। দুশ্চিন্তায় নিজেকে হারাতে বারণ করতে চাই। মনে রাখবেন,

দিনের শেষে আমাদের সবার ভাগ্যেই শেষ বিদায় লেখা আছে, তাই আপনার সময়কে সঠিকভাবে ব্যবহার করুন। মহৎ কজে সময় ব্যয় করুন, সময়ের অপচয় রোধ করুন। সিদ্ধান্ত নিন সময়কে কত ভালোভাবে ব্যবহার করা সম্ভব।আমরা সবসময় অন্যের আনন্দ দেখে নিজে কতটা দুঃখী তা ভাবার চেষ্টা করি। এই ধারণা থেকে আমাদের বের হওয়া খুব জরুরী। অন্যের আনন্দকে সম্মান করে নিজে কীসে আনন্দ পাই সেদিকে নজর দিতে হবে। নিজেকে অন্যের কাছে দুঃখী হিসেবে প্রতীয়মান না করে আমার যা কিছু আছে তাই নিয়ে খুশি থাকার অভিপ্রায় আপনার প্রতি অন্যের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতেও বাধ্য করবে।প্রতিটি অসফল মানুষের জন্য দেশ একটি বিশাল আশ্রয়।

নিজের দেশকে ভালোবেসে, নিজের দেশের জন্য কিছু করার প্রত্যয় এনে দিতে পারে এক ভালো লাগার তৃপ্তি,আমাদের জীবনটা খুব স্বল্প সময়ের। এই ক্ষুদ্র জীবনে আমরা শুধু পাওয়ার হিসেবই করে যাই। এই জীবন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অনেক যোগ-বিয়োগে পরিপূর্ণ। পৃথিবীতে এমন কোনো মানুষ নেই যার জীবনের ডায়েরি শুধু পাওয়ার হিসেবে ভর্তি। জীবনে অনেক উত্থান-পতন আসবে, ঘাত-প্রতিঘাত আসবে। কিন্তু জীবন তার নিজের আঙ্গিকেই বয়ে চলবে। তাই এই ক্ষণস্থায়ী জীবনে প্রতিদিনকার যেটুকু পাওয়া তারই যথাযথ উপলব্ধি রাখা একান্ত জরুরি। ভবিষ্যতে অনেক বড় কিছু করব, সেই ভাবনা থেকে দূরে সরে এসে আজ নিজের জীবনে কী সুন্দর ঘটলো তার হিসেব করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।