সুখ-দুঃখের এই পরবাস

বদিউল আলম বদিউল আলম

শারজাহ প্রবাসি, ইউএই

প্রকাশিত: 10:50 AM, October 14, 2022 115 views
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

একটা সময় ছিল প্রবাসীরা চেয়ে থাকতেন কখন পোষ্ট বক্স খুলবে, তার প্রিয় জনের দেওয়া একটি চিঠি হাতে  আসবে! সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তন পোষ্ট অফিসেও এসেছে। এখন আর ঐদিকে খেয়াল রাখার দরকার হয় না। তখনকার দিনে একটি চিঠি লিখে পাঠালে, তার উত্তর আসতে আসতে মাস লেগে যেত। একমাস লাগলেও এই অপেক্ষার প্রহর গোনার মজা ছিল কিন্তু আলাদা।পরে এলো ক‍্যাসেট আদান প্রদান। তারপর ল‍্যান্ড ফোন। ল‍্যান্ড ফোনে কথা বলার জন‍্য এক/দুইদিন আগে থেকে প্রস্তুতি রাখতে হতো। এবার এলো মোবাইল। এই মোবাইলে কল দিলে ইনকামিং চার্জ ছিল প্রতি মিনিট পাঁচ টাকা।মোবাইল ফোনটি নিয়ে মেঠো পথ পেরিয়ে বাড়ি বাড়ি যেয়ে হাজির হতেন মোবাইলওয়ালারা।ফিরতেন মোটা অংকের বখশিশ নিয়ে। এরপর বাড়িতে মোবাইল। এখন প্রতি ঘরে ঘরে জনে জনে  মোবাইল।

এখন ইন্টারনেট। ওয়াইফাই।এই ইন্টারনেটের বদৌলতে স্কাইপি, ইমো, হোয়াটসঅ্যাপ, ম্যাসেঞ্জার ব‍্যবহার করে প্রবাসীরা খবরাখবর মিনিটের ভিতরে নিয়ে নিচ্ছেন। তাও আবার ভিডিও কল করে।

কথা প্রসঙ্গে অনেকেই বলেন, ফোনে কথা বলাটা প্রবাসীদের জন‍্য এক প্রকার টনিক। প্রাণশক্তির কাজ করে তা। রাতে কথা বলে পরের দিন কাজে যাওয়ার জন‍্য প্রাণশক্তি  নিয়ে তারা ঘুমিয়ে যান।

  • আবার অনেক প্রবাসী আছেন, রাতে কথা বলার পর আর ঘুমাতে পারেন না।অনেক সময় ষ্ট্রোক করে চির বিদায়ও নেন। আপন জনের কাছে ভাল ব‍্যবহার না পেয়ে চিন্তিত  থাকেন অনেকেই। আজকাল ষ্ট্রোকের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। সবকিছুই আল্লাহ্ তায়ালার হুকুমে হয়। তারপরও প্রবাসীরা নানান রকম টেনশনে থাকেন। প্রবাসীদের প্রিয়জনদের উচিৎ এইসব নিঃসঙ্গ প্রিয়জনের বিরহ কাতর মানুষগুলোকে টেনশন না দেওয়া।

এক পরিবার থেকে একজন বিদেশে আসলে ঘরের বাকি সদস্যরা বসে বসে দিন গুণতে থাকেন কখন তিনি টাকা পাঠাচ্ছেন। সামাজিক কোন প্রকার কাজকর্মে চাঁদার ব‍্যাপারে কথা এলে প্রথমেই মানুষজন  চিন্তা করবেন তাদের ঘরে ৩/৪ জন বিদেশে থাকেন, চাঁদা একটু বেশী করেই ধরতে হবে। এমনকি প্রবাসীদের ঘরের সদস্যরাও এটা মনে করেন ঐখানের ১ দিরহাম বাংলাদেশের ৩০ টাকা। তা হলে টাকা পাঠাতে সমস্যা কোথায়  ? প্রবাসীরাও নিজে খেয়ে না খেয়ে,পরে না পরে তার ইনকামের টাকা  মা, বাবা, ভাই, স্ত্রী সন্তানের জন্য পাঠিয়ে দেন।কিন্তু তারা বোঝেন না কত ত্যাগের মূল্যে কেনা এই টাকা।
ভাই বোন,সন্তান সন্ততি খেয়ে পরে বেঁচে থাকবে, পড়ালেখা করে মানুষের মতো মানুষ হবে।ভবিষ্যতের স্বপ্ন পূরণ হবে। কিন্তু সঠিক পথে পরিচালনার অভাবে প্রবাসীদের স্বপ্ন অনেক ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন হয় না।

পরিশেষে বলবো, ফ্রি কল অর্থাৎ ইমুতে ঘন ঘন কথা বলে নিজের মন মানসিকতা নষ্ট করবেন না। বেশি খবর নিতে গিয়ে দেখা যাবে আপনার নিজের খবর রাখারই সময় পাবেন না। যদি বিশ্বাস না হয়,তাহলে  একবার কল করা কমিয়ে চেষ্টা করে দেখতে পারেন। আপনার প্রশ্নের জবাব, আপনি নিজেই পেয়ে যাবেন।
সকল প্রবাসীদের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও মঙ্গল কামনা করছি।

 

লেখক:  শারজাহ প্রবাসী, সমাজ হিতৈষী