মন বলে জনগনের বন্ধু পুলিশ

প্রকাশিত: ৭:১৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৮, ২০২০ 1,139 views
শেয়ার করুন

 

বাংলাদেশ আজ কোন পথে ? পুলিশ আর মাফিয়াদের দৌরাত্ব দেশের সকল অর্জন ধুলায় মিশিয়ে দিচ্ছে।বাংলাদেশে পুলিশের দৌরাত্ব ও অপরাধ আজ প্রথম নয়। পুলিশ কমিশনার কহিনুর মিয়া , ডিবি এসি আকরাম , এসপি বাবুল আখতার , এসপি হারুন অর রশীদ। অবশেষে ওসি প্রদীপ সকলেই পদকপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা। পদক পাওয়া এই সকলের নাম বিতর্কিত অপরাধের সাথে জড়ানো। অপরাধী হবার জন্য তবে কি পদক দায়ী ?

দেখা যায় সবসময় পদক উপযুক্তরা পাননা। লোকে বলে ও প্রতিয়মান যে কোন সরকারের সময় সরকারের নিজস্ব ও প্রভাবশালীদের সুপারিশে এই পদক বানিজ্য হয়। বিতর্কিত পুরুষ্কারের তালিকায় নোবেল , অস্কার , ফিল্ম ফেয়ার বা বাংলাদেশের একুশে পদক সহ সরকারী পদক ও পুলিশের পদক সেরাদের দেওয়া হয় এটা বিজ্ঞজনেরা মানেননা।

স্বাধীনতা বিরোধীকে স্বাধীনতা পদক দিলে পদকের প্রতি কি সম্মান থাকে ? পদক প্রাপ্তি কি তবে দানবে পরিনত হবার কারন ? নাকি পুলিশ পদক পাওয়ার পর সেই পুলিশ কর্মকর্তা জেলাসীর এবং ষড়যন্ত্র স্বীকার হোন ? পুলিশ সবসময় সবকালে সরকারের নিজেস্ব বাহিনী। সেই ব্রিটিশ আমলে যত পুলিশ আফিসার খান বাহাদুর উপাধী পেয়েছেন অধিকাংশ ছিলেন ব্রিটিশ সরকারের দালাল। এমনও শুনেছি সিলেটের এক বৃটিশ পুলিশের দারোগা আপন ভাগ্না কে সঙ্গীসহ বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন করার জন্য সরকারের হাতে ধরিয়ে দিয়ে এসপি ও খান বাহাদুর উপাধী পান সঙ্গে অনেক সম্পদ। তার পরিবার এখন সমাজের কাছে ঐতিহাসিক সম্মানীত । বাংলাদেশের পুলিশ নির্লজ্জ ভাবে নষ্ট হতে শুরু করে ওসি কুদ্দুসের উত্থান দেখে। একজন পুলিশ পরিদর্শক রাতারাতি দেশের সেরা বিত্তবান হয়ে উঠেন। তখন থেকেই সম্পদ অর্জনে পুলিশ প্রতিযোগিতায় নেমে গেছে। ওসি কুদ্দুস মেজর জেনারেল মন্জুর হত্যার সাথে জড়িত বলা হয় । একজন থানা ইনচার্জ কি করে সেই সময় ১৯৮২-১৯৯০ এর মধ্যে এত বিশাল সম্পত্তি ও ধনকুবের হল কোন সরকার কোনদিনও জানার চেষ্টা করেনি। এই পথ ধরে আমাদের পুলিশ সম্পদের নেশায় বিভোর হয়ে প্রতিষ্টানটিকেই বিতর্কিত করে ফেলেছে।

আদতে সকল পুলিশ খারাপ নয়। সৎ পুলিশ না থাকলে জনগন তার আপন ঘরেও নিশ্চিত ঘুমাতে পারতোনা। পুলিশ জনগনের বন্ধু এই শ্লোগান নিয়েই আমাদের পুলিশ। এখনো মানুষ বিপদে পড়লে পুলিসকে ডাকে বা পুলিশের আশ্রয় নেয়। তবুও বিতর্ক পুলিশের সাথে সংসার করে। অনেক ভাল কাজের উধাহরন থাকার পরও পুলিশ এত এত খারাপ কাজ করে যে ভাল কাজের কথা তখন আর কেউ দেখেনা।

নিশ্চয়ই সকলের মনে আছে কক্সবাজার পৌরসভার কাউন্সিলর একরামের ক্রসফায়ার ? সেখানেও পুলিশ অফিসারের নাম এসেছে। একরাম ও পরিবারের মধ্যে ফোন আলাপের মুহুর্তে তাকে হত্যা করা হয় যা রেকর্ড হয় এবং ভাইরাল হয়ে যায়। দেখা যায় পুলিসের ভুমিকা সঠিক নয়।

আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাও একটি আছে। কিছুদিন পূর্বে সিলেট থেকেই একজন ফোন করে বললেন নেহাত গরীব এক লোক কিডনিজনিত সমস্যায় ওসমানিতে মারা যান। অন্য রোগে মৃত্যু করোনা নয়। লাশ নিয়া বিয়ানীবাজার যাবার সময় রাস্থায় পুলিশ লাশ আটকিয়ে দশ হাজার টাকা নিয়া গেছে। লাশের কাছেও পুলিশ ঘুষ খায়। হায়রে বন্ধু।

আবার দেশের যে কোন পরিস্তিতি এই পুলিশ জনগনের পাশে থাকে সবার আগে। সম্রাট – সাহেদরা গ্রেফতার হোন পুলিশেরই হাতে।পুলিশ বাহিনী রাষ্ট্রর আইন শৃক্ষলা রক্ষা করার প্রধান প্রতিষ্ঠান। নীরিহ জনগনের জান মানের নিরাপত্তা তাদের হাতে। এমন একটি প্রতিষ্ঠান ও তাদের শীর্ষ কর্মকর্তারা যদি বারবার অপরাধে জড়িয়ে যান তবে জনগন বিপাকে পড়ে। জনগন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে শুরু করে। অপরাধী বেপোরয়া হয়ে উঠবেই তখন। পুলিশের লেনদেন প্রকাশ্যে ঘটে। ঘুষ বানিজ্যের এই চিত্র সকলেই জানে। যারা দেখার তারা দেখে না দেখার ভান করে। সকলেই এক , কে কাকে ধরবে ? শিক্ষক – সাংবাদিক থেকে শুরু করে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান নির্লজ্জ দূরনীতির আঁখড়ায় পরিনত। চোর রাতের অন্ধকারে চুরী করে। তার লজ্জা আছে। নির্লজ্জ আমলা , নেতা ও পুলিশ পকেট কাটে প্রকাশ্যে। নেতারা মানুষের ঘরবাড়ী জমি দখল করে। আয়ের সাথে সম্পদের বিস্তর ফারাক। অথচ এরাই বুক ফুলিয়ে হাটে । দেখার কেউ নাই। বিবেক বর্জিত।

১৮৬০ সালে আমেরিকায় মাফিয়া রাজের উদ্ভব হলে প্রশাসন বিচার ও পুলিশ বিভাগে অসৎ কর্মকর্তা কর্মচারীর জন্ম হতে থাকে। বিচারক সততা হারিয়ে ক্রিমিনালদের পক্ষ নিতে থাকলে একদল দেশপ্রেমিক পুলিশ ও মাদক নিয়ন্ত্রন কর্মকর্তাকে দেওয়া হয় অঢেল ক্ষমতা প্রায় শত বছরের মাফিয়া রাজ কিছুটা নিয়ন্ত্রন করা হয় ১৯৮১-৮৮ সালের ভেতর। ঘুষ – দুর্নীতির লাগাম টানা হয়। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।

 

এই মহামারীর সময়ে বাংলাদেশের পুলিশ সাহসিকতা ও মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। অনেকে প্রাণ হারিয়েছেন। আমরা তাদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরন করেছি। পেশাজীবিদের মধ্যে বাংলাদেশে পুলিশের কর্মকর্তা কর্মচারী মারা গেছেন সবচেয়ে বেশী। বাংলাদেশের জনগনের মনে যখন পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জল থেকে উজ্জল হবার পথে ঠিক তখনই অবসরপ্রাপ্ত মেজরক সিনহা রাশেদ কে পুলিশ লিয়াকত কতৃক খুন জনমনে আতন্ক ও স্বপ্ন ভঙ্গের কারন হয়ে উঠেছে। এই হত্যার পর নানান গুজব ও হত্যাকে রাজনীতিকরণ নিয়ে জনগন বিভ্রান্ত। কিছু আতেল আর ইউটিউবাররা এমন ভাবে ব্যাপারটি মিডিয়ায় বিশ্লেষন করছে যেন তারা হত্যার সময় সামনে ছিল। বলা হচ্ছে একজন এসএসএফ অফিসারের রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা জেনে যাওয়া তার মৃত্যুর কারন। এসএসএফ এর একজন অফিসারের রাষ্ট্রিয় গোপনীয়তা কতটুকু জানা সম্ভব ?

কিছু ঘটলেই সরকারকে জড়ানোর একধরনের ঘৃন্য তৎপরতা দৃশ্যমান। সাধারন মানুষ সাজানো মিথ্যা শুনতে শুনতে বিশ্বাস করতে শুরু করে। এই কাজটিই একশ্রেনীর বুদ্ধিজীবিরা করে যাচ্ছেন। এতে সমস্যা হয় বিচারিক প্রক্রিয়ার। মিডিয়া ট্রায়াল করে জন মতামত গড়ে উঠলে সত্য বিচার পাওয়া কঠিন। বিচারকের উপর চাপ থাকলে সঠিক রায় পাওয়া দুস্কর।

  • বাংলাদেশে পুলিশ দ্ধারা মানুষ অনবরত হয়রানীর স্বীকার হচ্ছেন ।পত্রপত্রিকা মারফত জানা যায় পুলিশ যে কাউকেই ধরে অর্থ দাবী করে নাহলে ইয়াবা সহ চালান দেবার হুমকি দেয় । কিছুদিন আগে জঙ্গি বানানোর হুমকি দেওয়া হত এখন দেওয়া হয় ইয়াবার। দুঃখজনক সত্য ইয়াবা অর্থাৎ মাদক ব্যবসা রাজনৈতিক ও পুলিশী আশির্বাদ ছাড়া চলতে পারেনা। সারা বাংলাদেশে বর্তমানে ইয়াবা ছড়িয়ে আছে। করোনার চেয়ে কোন অংশে কম বিপজ্জনক নয় এই ড্রাগ। দেশ গড়তে হলে এবং উন্নতি টিকিয়ে রাখতে হলে মাদকমুক্ত তরুন ও যুব সমাজকে গড়া প্রয়োজন সবার আগে। সেই সাথে দ্রুত জনমনে পুলিশের থেকে হারানো বিশ্বাস ও আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। না হলে কে কখন ফেসে যাই বা খুন হই এই আতংক নিয়ে সভ্য দেশ এগিয়ে যেতে পারেনা। দেশের দুই প্রতিষ্ঠান পুলিশ আমাদের ,সেনাবাহিনীও আমাদের। দুটোর প্রয়োজন দেশের জন্য অনস্বীকার্য। এই দুই প্রতিষ্টানের সম্মান রক্ষা করা একান্ত জরুরী। পুলিশ আজ ইমেজ সংকটে। লেনাবাহিনী মানুষের কাছে এখনো সম্মানীত। তবে সেনাবাহিনী জোসেফ নিয়া বিব্রত। জোসেফ সেনা প্রধানের ভাই না হলে ঘটনা তামাদী হয়ে যেত এতদিনে। সম্পন্ন বিচারে সাজা প্রাপ্ত কোন অপরাধীকে রাষ্ট্র ক্ষমা করে দিলে আমার মনে হয় বিচারবিভাগের উপর মানুষের আস্থা নষ্ট হয়।

 

যারা একদিন বিডিআর ও আর্মীকে মুখোমুখী করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলে ক্ষমতাচ্যুত করতে পিলখানা হত্যাকাণ্ড ঘঠিয়েছিল সেই সকল ষড়যন্ত্রকারীরা আজও সক্রিয়। এরা যেকোন ঘটনায় রাষ্ট্রকে জড়াতে চায়। এদের প্রতিহত করে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে যেমন এগিয়ে যেতে হবে তেমন। দ্বায়িত্বশীল সকলকেই সতর্ক ভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে যাতে বিতর্ক সৃষ্টি না হয় । সরকারকে বিতর্কিত করার জন্য সরকারী দল ও সরকারের অন্যান্য যন্ত্র দায়ী সবচেয়ে বেশী। ব্যক্তির কারনে সরকার বিতর্কিত হউক এটা কাম্য নয়। আসুন সকলে স্ব স্ব জায়গা থেকে দেশের কল্যানে কাজ করি অন্যায়ের প্রতিবাদ করি। তবেই একজন রাষ্ট্র নায়ক দেশকে এগিয়ে নিতে পারেন। বাংলাদেশ এগিয়ে যাবেই। দেশের কল্যান হউক। জয় বাংলা।

সাবেক জিএস, সিলেট সরকারি কলেজ।