হাওর পর্যটন: অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির স্রোত

প্রকাশিত: ১২:৩৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৬, ২০২০ 842 views
শেয়ার করুন

 

অপূর্ব সৌন্দর্যের আধার বাংলাদেশ, যার প্রাকৃতিক রূপবৈচিত্র্যের কোনও অভাব নেই। এদেশের প্রতি প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে পর্যটনের নানা উপাদান। তেমনই এক নির্মল সৌন্দর্যের ভাণ্ডার বাংলাদেশের হাওরাঞ্চল। বর্ষা মৌসুমে বিস্তীর্ণ জলরাশির কারণে হাওর হয়ে যায় সাগরসদৃশ। কোথাও কোথাও চোখে পড়ে অপরূপ মহিমায় মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা সারিবদ্ধ হিজল,করচের বাগান । আবার অন্যদিকে হাওরের বুকে ছোটো ছোটো দ্বীপের মত গড়ে ওঠা মানব বসতি আর রৌদ্রোজ্জ্বল দখিনা বাতাসে সৃষ্টি হওয়া রুপালি আফাল চোখ জোড়ানো এক অপূর্ব দৃশ্যপট তৈরি করে।

একসময়ে হাওরের মানুষের চলাচলের বাহন ছিল কেবল নাও আর পাও অর্থাৎ বর্ষাকালে নাও আর শুকনো মৌসুমে পাও। কালের পরিক্রমায় হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান বহুলাংশে উন্নতি হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থায় সংযোজন হয়েছে ইঞ্জিনচালিত ছোটো বড়ো ও মাঝারি আকৃতির নৌকা, ট্রলার ও দ্রুতগামী স্পিডবোট। আগে মানুষের একমাত্র ভরসা ছিল হাতে চালিত নৌকা। যা অনেক কষ্টসাধ্য ও যাতায়াতের ক্ষেত্রে ছিল সময়সাপেক্ষ। এখন মানুষ সহজে ও স্বল্পসময়ে পানিপথে যাতায়াত করতে পারে। ইঞ্জিন চালিত নৌকা সংযোজন হওয়ার ফলে একদিকে মানুষের যাতায়াত যেমন সহজ হয়েছে তেমনই অন্যদিকে নৌকা চালকদের রোজগারের ক্ষেত্রও তৈরি হয়েছে।

আগেকার দিনে শুষ্ক মৌসুমে হাওর যখন পানিশূন্য হয়ে যেত, তখন চলাচলের জন্য ছিল না কোনও যান্ত্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থা। মানুষ মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে চলাচল করতো। কিন্তু আজ আর হাওরাঞ্চলের মানুষ পাওনির্ভর নয়। দেশের উন্নয়নে তারাও অংশীদার। ক্রমান্বয়ে চলছে অবকাঠামোগত উন্নয়ন। যার ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। উন্নয়নের ছোঁয়ায় ইতোমধ্যে তারা উন্নত জীবনযাপন করতে শুরু করেছে। হাওরের কোল ঘেঁষে নির্মিত কাঁচা ও অর্ধকাঁচা রাস্তায় সি এন জি চালিত অটোরিকশা, টমটম ইত্যাদি দিয়ে মানুষ যাতায়াত করছে। তাছাড়া কাঁচাপাকা, সরু ও দুর্গম রাস্তায় মোটরবাইক দিয়ে প্রফেশনাল বাইকাররা অর্থের বিনিময়ে মানুষকে পারাপারে সহযোগিতা করছে। এতে উভয় পক্ষই উপকৃত হচ্ছে।

হাওর অঞ্চলে বেড়ানোর জন্য বর্ষাকালই উপযুক্ত সময়। এই সময়ে যৌবনা হাওরকে অবলোকন করা যায় বহুমাত্রিক রূপে। দিনের বেলা রুপোলি আলোর ঢেউখেলানো আফাল আর গোধূলি লগ্নে নিভু নিভু সূর্যের সোনালি আভা চোখজুড়ানো এক অপূর্ব দৃশ্যপট তৈরি করে, যা দেখলে মনে হয় শিল্পীর সুনিপুণ হাতে আঁকা চিত্রপট। এই মৌসুমে হাওর ভ্রমণে গেলে গ্রামবাংলার চিরায়ত রূপ অবলোকন করা যায়। প্রতিদিন পাখিডাকা ভোরে শুরু হয় হাওর যোদ্ধাদের জীবনসংগ্রাম। চলে গভীর রাত অবধি। একদিকে গবাদি পশু রক্ষা, অন্য দিকে পরিবার-পরিজনদের মুখে দু’মুঠো অন্ন তুলে দেওয়ার প্রাণান্তকর চেষ্টা। এ সময়ে বিভিন্ন ধরনের উপকরণ নিয়ে মানুষ ব্যস্ত হয়ে পড়ে জীবনসংগ্রামে।
মাছেভাতে বাঙালি—এই প্রবাদবাক্যে বাংলাদেশের মানুষকে এক কথায় চিহ্নিত করা হয়। কালের বিবর্তনে সেই অবস্থা এখন আর না থাকলেও দেশের বিস্তীর্ণ সব হাওরে মাছের কমতি নেই। তেমনই মৎস্য শিকারেরও রয়েছে হাজার বছরের আবহমান বাংলার বৈচিত্র্যপূর্ণ ঐতিহ্য। বাংলাদেশের একেক অঞ্চলের রয়েছে মৎস্য শিকারের বিচিত্র ধরন। দিনের বেলা মাছ মারার এক রকম কৌশল, রাতের বেলা আবার আরেক রকম। যা পর্যটক ও দর্শনার্থীদের জন্য বিচিত্র এক অভিজ্ঞতা।

বর্ষায় ভাসান জলে পালতোলা নৌকাগুলোকে হাওরের দখিনা বাতাস শন শন শব্দে উড়িয়ে নিয়ে চলে এবং সেই সঙ্গে বিস্তীর্ণ জলরাশির ছন্দের তালে ভেসে যাওয়া দৃশ্য পর্যটকদের জন্য রোমাঞ্চকর এক অনুভূতি তৈরি করে। আর এইসব দৃশ্য অবলোকন কেবল হাওরাঞ্চলেই সম্ভব। তাছাড়া জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য, কৌশল ও বিভিন্ন ধরনের উপকরণ পর্যটকদের জন্য উপভোগের বাড়তি একটা বিষয়। পড়ন্ত বিকেলের মিষ্টি রোদ আর বিভিন্ন ধরনের পাখপাখালির হৃদয়কাড়া কলতান আর তাদের নীড়ে ফেরার দৃশ্য দেখলে খুব সহজেই যে কেউ বিমোহিত হবে। অন্ধকার রাতে হাওরের ভাসানজলে অসংখ্য ডিঙি নৌকায় বাতি জ্বালিয়ে মাছ ধরায় দৃশ্য আর মেঘের আড়াল ভেদ করে বিচ্ছুরিত চাঁদের আলোয় আলোকিত ঢেউয়ের মেলবন্ধনে তৈরি হয় অন্যরকম এক মোহনীয় রূপ!
হাওর কোনও স্থায়ী জলাশয় বা জলাধার নয়। বর্ষায় যেখানে দিগন্ত বিস্তৃত জলরাশি। শুষ্ক মৌসুমে সেখানেই পড়ে থাকে বিলের তলায় শান্ত জল। উপরে নীল আকাশ আর নিচে মাইলের পর মাইল চোখ জুড়ানো সবুজ ধানের খেত। এ কারণেই বলা হয়ে থাকে, ‘বর্ষায় নাও, শুকনায় পাও—এটাই উজান-ভাটির বাও’।

শীতকালে হাওরকে ঘিরে দেশি-বিদেশি পাখিদের বিচরণে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। এ সময়ে দেশীয় পাখিদের পাশাপাশি এশিয়ার উত্তরাংশের সাইবেরিয়া থেকে বিভিন্ন প্রজাতির হাঁস এবং জলচর নানা পাখি পরিযায়ী হয়ে আসে। এসব অতিথি পাখির মধ্যে ভূতিহাঁস, গিরিয়াহাঁস, ল্যাঞ্জাহাঁস, বালিহাঁস, গুটি ঈগল, কুড়া ঈগল, রাজ সরালি, পান ভুলানি, কাস্তেচড়া, পানকৌড়ি.বেগুনি কালিম, মেটেমাথা টিটি ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। শীতে হাওরের রূপ-বৈচিত্র্য আর চেনা-অচেনা পাখিদের মিলনমেলা পর্যটকদের জন্য অনন্য এক আকর্ষণ।

বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের চারটি জেলা—সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জসহ নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার প্রায় সাত লাখ চুরাশি হাজার হেক্টর জলাভূমিতে চারশত তেইশটি হাওর নিয়ে হাওরাঞ্চল গঠিত। এর মধ্যে সুনামগঞ্জে সর্বোচ্চ একশত তেত্রিশটি, কিশোরগঞ্জে একশত বাইশটি, নেত্রকোনায় আশিটি, সিলেটে তেতাল্লিশটি, হবিগঞ্জে আটত্রিশটি, মৌলভীবাজারে চারটি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিনটি হাওর রয়েছে। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি জেলার আটচল্লিশটি উপজেলা নিয়ে গঠিত বিস্তীর্ণ এই হাওরাঞ্চলের আয়তন প্রায় চব্বিশ হাজার বর্গকিলোমিটার। এই বিশাল অঞ্চলে পর্যটনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

সাগরসদৃশ সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরের বিস্তীর্ণ জলরাশি আর ভারতের মেঘালয়ের খাসিয়া, জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে সারি সারি হিজল-করচ শোভিত, পাখিদের কলকাকলিতে মুখরিত টাঙ্গুয়ার হাওর মাছ, পাখি এবং অন্যান্য জলজ প্রাণীর এক বিশাল অভয়াশ্রম।টাঙ্গুয়ার হাওর বাংলাদেশের বৃহত্তম গ্রুপ জলমহালগুলোর এক‌টি। দেশের উত্তর-পূর্ব প্রান্তে সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা এবং তাহিরপুর উপজেলাস্থিত জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ মিঠা পানির এ হাওর বাংলাদেশের দ্বিতীয় রামসার এলাকা। বর্তমানে মোট জলমহালের সংখ্যা একান্নটি এবং মোট আয়তন ছয় হাজার নয়শত বারো দশমিক কুড়ি একর। তবে নলখাগড়া বন, হিজল করচ বনসহ বর্ষাকালে সমগ্র হাওরটির আয়তন দাঁড়ায় প্রায় কুড়ি হাজার একর।

টাঙ্গুয়ার হাওর প্রকৃতির অকৃপণ দানে সমৃদ্ধ। এ হাওর শুধু একটি জলমহাল বা মাছ প্রতিপালন, সংরক্ষণ ও আহরণেরই স্থান নয়। এটি একটি মাদার ফিশারি। হিজল করচের দৃষ্টি নন্দন সারি এটিকে করেছে মোহনীয়। এ ছাড়াও নলখাগড়া, দুধিলতা, নীল শাপলা, পানিফল, শোলা, হেলঞ্চা, শতমূলি, স্বর্ণলতা, বনতুলসী ইত্যাদি সহ দুইশত প্রজাতিরও বেশি গাছগাছালি রয়েছে এ অঞ্চলে। শীত মৌসুমে ব্যাপক পাখির আগমন ও অবস্থানে মুখরিত হয় টাঙ্গুয়ার হাওর। বিলুপ্ত প্রায় প্যালাসেস ঈগল, বৃহদাকার গ্রে-কিংস্টর্ক, শকুন এবং বিপুল সংখ্যক অতিথি পাখি যা পর্যটক ও দর্শনার্থীদের চোখে এক অবিস্মরণীয় দৃশ্য। স্থানীয় জাতের পাখি পানকৌড়ি, কালেম, বৈদর, ডাহুক নানা প্রকার বালিহাঁস, গাংচিল, বক, সারস প্রভৃতির সমাহারও বিস্ময়কর। কোনও কোনও স্থানে এক কিলোমিটারের বেশি এলাকা জুড়ে শুধু পাখিদের ভেসে থাকতে দেখা যায়। প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটক ও দর্শনার্থীর পদচারণায় মুখরিত থাকে টাঙ্গুয়ার হাওর।

বাংলাদেশের বৃহত্তম মিঠাপানির জলাভূমি হিসেবে পরিচিত হাকালুকি হাওর। পাহাড় পরিবেষ্টিত হাকালুকি হাওরের পূর্বে পাথারিয়া ও মাধব পাহাড় এবং পশ্চিমে ভাটেরা পাহাড়। মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলার পাঁচটি উপজেলায় বিস্তৃত হাকালুকি হাওর। ছোটো বড়ো দুইশত আটত্রিশটি বিল নিয়ে গঠিত এ হাওরের রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। বর্ষাকালে এই হাওরে ধারণ করে এক অনবদ্য রূপ। চারদিকে শুধু পানি আর পানির খেলা, বিস্তৃত জলরাশি কারণে এ হাওর রূপ ধারণ করে ভাসমান সাগর মতো। আদিগন্ত বিস্তৃত জলরাশি। জলের মাঝে মাঝে দুই-একটি বর্ষীয়ান হিজল, তমাল বৃক্ষ। সে এক অপরূপ দৃশ্য! হাকালুকি হাওরে পাঁচশত ছাব্বিশ প্রজাতির উদ্ভিদ, চারশত সতেরো প্রজাতির পাখি, এর মধ্যে একশত বারো প্রজাতির অতিথি পাখি ও তিনশত পাঁচ প্রজাতির দেশীয় পাখি। এছাড়া একশত একচল্লিশ প্রজাতির অন্যান্য বন্যপ্রাণী, একশত সাত প্রজাতির মাছ, তন্মধ্যে বত্রিশ প্রজাতি বিভিন্ন পর্যায়ে বিপন্নপ্রায়। এছাড়াও রয়েছে নানা ধরনের কীট-পতঙ্গ, জলজ ও স্থলজ ক্ষুদ্র অনুজীব।

হাওর-বাঁওড় ও সমতলভূমির বৈচিত্র্যময় ভূ-প্রকৃতির একটি বিস্তীর্ণ জনপদ হলো কিশোরগঞ্জ জেলা।
এ জেলা হাওর এলাকার জন্য বিখ্যাত। হাওরই হল এ জেলার অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। শুধু অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেই নয় এই হাওর এলাকা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যও অনেক জনপ্রিয়। হাওর-বাঁওড়, নদী, সমতলভূমি ও ভাটির বৈচিত্র্যময় ভূ-প্রকৃতির একটি বিস্তীর্ণ জেলা কিশোরগঞ্জের রূপসুধা গ্রহণ করতে সারাদেশ থেকেই এখানে পর্যটকেরা আসে। নিকলি, অষ্টগ্রাম, ইটনা হাওরের পাশাপাশি কিশোরগঞ্জের আরেকটি বিখ্যাত হাওরাঞ্চল হলো মিঠামইন। নৌকা ভ্রমণের পাশাপাশি মালিকের দরগা ও দিল্লির আখড়া ঘিরে প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে হাজারও মানুষের পদভারে মুখরিত থাকে এই হাওরাঞ্চল। কিশোরগঞ্জের পানিবেষ্টিত অষ্টগ্রাম উপজেলায় অষ্টগ্রাম হাওর অবস্থিত, বর্ষাকালে দ্বীপের মতো মাথা উঁচু করে থাকা গ্রামগুলো শীতকালে নতুন রূপ ধারণ করে। জেলেদের জীবনচিত্র ও গ্রামীণ জীবনের স্বাদ পেতে প্রতিদিন পর্যটক ও দর্শনার্থী মুখরিত করছেন অষ্টগ্রাম হাওর।

বিশাল জলরাশির বুকে বিচ্ছিন্ন ছোটো ছোটো গ্রাম। যেন একেকটা ছোটো ছোটো দ্বীপ। হাওরজুড়ে গলা ডুবিয়ে থাকা হিজল গাছের সারি বা পানির নিচ থেকে জেগে ওঠা করচের বন কিংবা শুশুকের লাফ-ঝাঁপ মুহূর্তেই আপনার মন ভালো করে দেবে। কিশোরগঞ্জ হাওর এমনই।নৌকা চলতে শুরু করা মাত্রই হারিয়ে যেতে হয় জলরাশির রাজ্যে। দূর থেকে আরও যত দূরে চোখ যাবে, স্নিগ্ধ গ্রামের মতোই শান্ত অথই পানি প্রাণ জুড়িয়ে দেবে। জলের সীমানা শেষ হতেই যেন বিস্তৃত আকাশ। তারই মাঝখানে কিছু ঘরবাড়ি। নৌকা চালকদেরই বসবাস এখানে। মাছ ধরার সঙ্গেও জড়িত এ অঞ্চলের মানুষ। প্রতিদিন শহরের বিভিন্ন বাজারে এ হাওরের মাছ বিক্রি হয়। কিন্তু তাদের মূল পেশা কৃষি। হাওরে শুষ্ক মৌসুমে মাইলের পর মাইল ফসলি জমি, ধূলিওড়া মেঠোপথও আকর্ষণ করে পর্যটকদের।

অপার সম্ভাবনাময় হাওর পর্যটনের বিকাশ ঘটাতে এখনই প্রয়োজন হাওরাঞ্চলের মানুষের মাঝে গণসচেতনতা সৃষ্টি করা। নির্বিঘ্নে যাতায়াতের জন্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পর্যটক ও দর্শনার্থীদের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা। শুষ্ক ও ভেজা বর্ষার হাওর অঞ্চলের অমিত সম্ভাবনাকে সুষ্ঠুভাবে কাজে লাগাতে পরিকল্পিত বহুমুখী উদ্যোগ বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

আমাদের বিশ্বাস সরকারি ও বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগে হাওরকে পর্যটন উপযোগী করে গড়ে তোলার সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে খুলে যাবে অপার সম্ভাবনার দুয়ার আর হাওরের উদ্দাম ঢেউয়ের মতো ফুলে ফেঁপে উঠবে আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির স্রোত।

লেখক – পর্যটক, পর্যটন লেখক,ও সংগঠক