কোরবানী ও হালাল প্রাসঙ্গিক কথা

প্রকাশিত: ১০:৪৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৫, ২০২০ 917 views
শেয়ার করুন

 

হালাল ভাবে উপার্জিত অতি কষ্টের টাকায় অধিকাংশ মানুষেরর কোরবানী আদায় হয় না একটি ভুলের কারণে শুধু একটি ভুল । এই ভুল টি কি সেটা জানার প্রয়োজন আছে ? সাধারণতঃ আমরা যা কিছুই করি না কেন তা করার পূর্বে সে বিষয়ে জানা এবং বুঝা জরুরী কিন্তু আমরা জানা বা বুঝার তোয়াক্কা না করে অপরের দেখানো পথে চলি অন্যকে অনুস্মরণ করি এটা মোটেও উচিত নয় কারণ বিষয়ের আলোকে নিজের জ্ঞান অর্জন ই উত্তম ও শ্রেষ্ঠ পথ ।

কোরবানীর সময় আমরা মারাত্মক একটি ভুল করে থাকি কিন্তু সবাই নয় অধিকাংশ মানুষ এই ভুল করে থাকি ।
কি ভুল ? আমরা দেখি কোরবানীর সময় হুজুরকে নিয়ে আসা হয়েছে হুজুরকে দিয়ে গরু অথবা যে কোন পশু কোরবানী দেয়া হবে বলে তারপর সবাই ধরে গরু অথবা পশুটিকে শুইয়ে দিয়ে ছুরি হুজুরের হাতে এগিয়ে দিয়ে বলা হয় হুজুর এই নেন ৭ টি নামের তালিকা ।

একটি কাগজে ৭ জনের নাম পিতার নাম দিয়ে হুজুর কে বলা হয় এই সাত নামে আপনি কোরবানী করে দেন এবং হুজুর তালিকাটি হাতে নিয়ে সেটি সবাইকে শুনিয়ে পড়ে পশুর গলায় ছুরি চালিয়ে দিয়ে কোরবানী দেন ।
এই তালিকার মধ্যে আবার কেউ কেউ তার পরিবার পরিজনের নামের সাথে মহানবীর নাম ও সংযুক্ত করে থাকেন এটা নিঃসন্দেহে ভালো কথা কিন্তু আমার আলোচনার বিষয় এখানে মারাত্মক ভুল হচ্ছে যা অজ্ঞানতা বা অজ্ঞতার কারণে হয়ে যাচ্ছে আমরা তা খেয়াল ও করছি না ।

যদি কোন প্রাণী আল্লাহর নাম ব্যথিত অন্য কারো নামে জবাই করা হয় তাহলে সেটা কোরবানী তো দূরের কথা ওর মাংস খাওয়া শুয়োরের মাংস খাওয়া যেমন হারাম তেমনি হারাম হয়ে যাবে ।

কারণ কোরবানীর প্রাণীকে জবাই করতে হলে আল্লাহর নামে জবাই করতে হবে । আমরা চাই আমাদের পিতা-মাতা, দাদা- দাদী, স্ত্রী- সন্তানদের নামে জবাই করতে এবং এইবার কোরবানীতে পরিবারের সদস্য সংখ্যা বেশী হলে গতবার যার নাম দেয়া হয়েছে এইবার ওর নাম বাদ দিয়ে গতবার যার নাম দেয়া হয়নি এইবার তার নাম দেয়া হয় এবং এ নিয়ে পরিবারে অনেকের মাঝে মান অভিমানের ও সৃষ্টি হয় এগুলোই আমরা করে থাকি কারণ আমরা বাঙালী মুসলমান ।

হুজুর ৭ জনের নাম সবাইকে শুনিয়ে পড়ে কোরবানী দিয়ে বিদায় হন এই ৭ জনের নামে কোরবানী হলো আমরা তৃপ্ত আনন্দিত । খাবার টেবিলে বসে ও আলোচনা এই বার আপনি কার কার নামে কোরবানী দিলেন ভাই ? গর্ব ভরে উত্তর আমি এই এই নামে কোরবানী দিয়েছি ইত্যাদি আমরা করি এবং করে থাকি কিন্তু আমাদের এ কোরবানী কি হালাল হলো ? সংক্ষেপে না এটি সম্পূর্ণ হারাম হয়ে গেছে ।

আমি হারাম বলার কেউ না এবং এটি আমার কথা ও নয় পবিত্র কোরআন শরীফের সূরা মায়েদার ৩ নাম্বার আয়াত অনুযায়ী সম্পূর্ণ হারাম তাহলে দেখি কি আছে এই আয়াতে সূরা আল মায়িদা আয়াত-৩ অর্থ
حُرِّمَتْ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةُ وَالدَّمُ وَلَحْمُ الْخِنْزِيرِ وَمَا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ وَالْمُنْخَنِقَةُ وَالْمَوْقُوذَةُ وَالْمُتَرَدِّيَةُ وَالنَّطِيحَةُ وَمَا أَكَلَ السَّبُعُ إِلَّا مَا ذَكَّيْتُمْ وَمَا ذُبِحَ عَلَى النُّصُبِ وَأَنْ تَسْتَقْسِمُوا بِالْأَزْلَامِ ۚ ذَٰلِكُمْ فِسْقٌ ۗ الْيَوْمَ يَئِسَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ دِينِكُمْ فَلَا تَخْشَوْهُمْ وَاخْشَوْنِ ۚ الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا ۚ فَمَنِ اضْطُرَّ فِي مَخْمَصَةٍ غَيْرَ مُتَجَانِفٍ لِإِثْمٍ ۙ فَإِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ
আয়াত-৩ অর্থ : তোমাদের জন্যে হারাম করা হয়েছে মৃত জীব, রক্ত, শুকরের মাংস, যেসব জন্তু আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে উৎসর্গকৃত হয়, যা কন্ঠরোধে মারা যায়, যা আঘাত লেগে মারা যায়, যা উচ্চ স্থান থেকে পতনের ফলে মারা যা, যা শিং এর আঘাতে মারা যায় এবং যাকে হিংস্র জন্তু ভক্ষণ করেছে, কিন্তু যাকে তোমরা যবেহ করেছ। যে জন্তু যজ্ঞবেদীতে যবেহ করা হয় এবং যা ভাগ্য নির্ধারক শর দ্বারা বন্টন করা হয়। এসব গোনাহর কাজ। আজ কাফেররা তোমাদের দ্বীন থেকে নিরাশ হয়ে গেছে। অতএব তাদেরকে ভয় করো না বরং আমাকে ভয় কর। আজ আমি তোমাদের জন্যে তোমাদের দ্বীনকে পূর্নাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার অবদান সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্যে দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম। অতএব যে ব্যাক্তি তীব্র ক্ষুধায় কাতর হয়ে পড়ে; কিন্তু কোন গোনাহর প্রতি প্রবণতা না থাকে, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা ক্ষমাশীল।

কথা হলো যে সব জন্তু আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে উৎসর্গ করা হয় তা সম্পূর্ণ হারাম । তাহলে কিভাবে এটি কে হালাল করা যায়?
আমরা ৭ টি নাম হুজুর এর নিকট দিবো এবং সাথে বলতে হবে হুজুর এই ৭ জনের পক্ষ থেকে মহান আল্লাহর নামে আপনি কোরবানী দিয়ে দেন তাহলে আর কোন বাঁধা থাকলো না এই ছোট কথা না বুঝে আমরা বিশাল ভুল করে থাকি ।
মহান আল্লাহপাক সকলকে জানার ও বুঝার তৌফিক দান করুন – আমীন ।