সামাজিক দায়বদ্ধতা

প্রকাশিত: ১২:১০ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৫, ২০২০ 752 views
শেয়ার করুন

সামাজিক দায়বদ্ধতা দায়িত্ববোধ সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যতার জায়গা থেকেই, বেশি বেশি শিক্ষামূলক এবং জনসচেতনতামূলক সামাজিক কার্যক্রম এবং জন উদ্বুদ্ধকরনের মাধ্যমে সমাজের উন্নয়ন প্রসারিত হয়, অতবা প্রচার প্রসারের বাধ্যবাধকতার কারণেই সামাজের আমুল পরিবর্তন ঘটে।

যদিও আমি সমাজ বিজ্ঞানের ছাত্র নয়, তবুও একজন সমাজ কর্মীদের ছোট্ট ছাত্র হিসাবে। আজ এমনই কিছু সামাজিকতার দায়বদ্ধতা নিয়ে কিছু আলোচনা করবো।

সমাজ, সামাজিক ও সামাজিকতা মানুষের বেঁচে থাকার মৌলিক উপাদান। কেউ কেউ বলবে অক্সিজেন না থাকলে আপনি বেঁচে থাকবেন না। হ্যা সেটা সত্যি। কিন্তু দেহের বেচে থেকে লাভ কি? যদি মনটাই মারা যায়। বর্তমান সমাজে মানুষ ছাড়া মানুষের বেঁচে থাকা অকল্পনীয়। বেঁচে থাকার তাগিদেই মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে৷ আর এই ঐক্যবদ্ধতার সূত্রটা ঠিক এমন- মানুষ>> সমাজ>>সামাজিক >>সামাজিকতা>> ঐক্যবদ্ধ ও সুশৃঙ্খল জীবনযাপন। সুন্দর সামাজিক জীবন সব সময়ই আনন্দময়। মাঝে মাঝে সবারই একা লাগতে পারে, সেটা ব্যাপার না । কিন্তু দীর্ঘদিন সমাজবিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকা আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সমাজ থেকে বিচ্ছিন্নতার অনেক কারণ থাকতে পারে, হয়ত কেউ তার চারপাশের মানুষের সঙ্গে মিশতে পারছে না। হয়তো তাদের জীবনযাত্রায় মিল নেই। হয়তো কেউ কেউ তার সহকর্মী ও আত্মীয়স্বজনদের আচার আচরণ, চলাফেরার সাথে নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারছে না। হয়তো একে অন্যকে নিজের যায়গা থেকে উপলব্ধি করতে পারছে না। এমন আরোও হাজারটাও কারন থাকতে পারে। সমাজবদ্ধ মানুষ যদি সামাজিক না হয় তাহলে মানুষে মানুষে দুরত্ব সৃষ্টি হয়, মানুষ একা হয়ে পড়ে। আর মানুষ একা কখনই সমাজে চলতে পারেনা। তাই সমাজে মানুষ নিয়ে বসবাস করতে চাইলে মানুষকে হতে হয় সামাজিক, জানতে হয় জীবন চলার পথে তাকে কখন কি সামাজিকতা অবলম্বন করতে হবে।

একসাথে কাজ করার সুবাদে বিভিন্ন মতাবলম্বী বা সম্প্রদায়ের মানুষের সাথে তাল মিলিয়ে ঐক্যমত পোষণ করে কাজ চালিয়ে যেতে হয়। আমাদের সবার আলাদা ব্যক্তিত্ব থাকলেও অফিস আওয়ারে নিজের ব্যক্তিত্বের প্রভাব যত সম্ভব কম বিস্তার করাটা যুক্তিসঙ্গত। কারণ কারো সাথে মিলেমিশে কাজ করার ক্ষেত্রে ছাড় দেয়ার মন-মানসিকতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই একক আধিপত্য বা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অপরের কাজে বিঘ্ন ঘটার বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে। একঘেয়েমি বা ঘাড়ত্যাড়ামি করবেন না। কাজ করার সময় নিজের মধ্যকার একঘেয়ে স্বভাব পরিহার করতে হবে। একঘুয়েমি আচরণে অপরাপর ব্যক্তির মানসিকতায় প্রচন্ড নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

এতে করে কর্ম পরিবেশে ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়। সহকর্মিদের পারস্পরিক সম্পর্কে দূরত্ব বেড়ে যায়। অধীনস্থ তার ছুটি কারনে বা অকারনে যে কারনেই কাটাক দয়া করে রাগ, গোস্বা, অভিমান করবেন না। সেটা তার প্রাপ্য। উপরন্তু তাকে রিচার্জড হয়ে কাজে ফেরার আমন্ত্রন জানান। সহকর্মী আপনার কাজটা বুঝে দেওয়ার পর ঘরে বাইরে কখন কতক্ষণ ফেসবুকিং কিংবা নেটওয়ার্কিং করলো সে বিষয়ে কানাঘুঁষা করবেন না। কারন স্যোশাল মিডিয়া শুধু টাইম পাসের বা টাইম ওয়েস্টের বিষয় নয়। বর্তমান টেলিকমিউনিকেশন বিপ্লবের যুগে এগুলোর রয়েছে অনেক শিক্ষনীয় দিক। আপনার অফিশিয়াল অনেক সোর্সিংয়ের কাজও আপনার সহকর্মী স্যোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে করছে তা আপনি নিজেও জানেন না।

চারপাশের পরিবেশকে ব্যক্তিগত কোনো বদভ্যাসে নোংরা করবেন না। ব্যক্তিত্ব অনুযায়ী প্রত্যেকের কম-বেশি বদ অভ্যাস থাকতেই পারে। অপরাপর কারো সামনে বিশেষ করে সহকর্মিদের সামনে বদভ্যাসগুলো চর্চা না করাই শ্রেয়। একজনের সাথে অন্যজনের ব্যাপারে পরনিন্দা করবেন না। কারো দোষত্রুটি প্রচার করা কখনোই সভ্য আচরণের মধ্যে পড়ে না। আর অফিসে সব সহকর্মিকে আপনার ভালো না-ও লাগতে পারে। তাই বলে কারো পিছনে তার সম্পর্কে নিন্দা করা ঠিক না। এতে করে আপনার সম্পর্কেই অন্যদের মনে নেতিবাচক ধারণার সৃষ্টি হবে। অন্য ধর্মের সহকর্মীকে ধর্ম নিয়ে এমন প্রশ্ন করবেন না যাতে করে সে বিব্রত বোধ করবে বা মনে কষ্ট পাবে। কারও উপর অযথা হস্তক্ষেপ করবেন না। নিজের কর্মসীমার বাইরে অযথা হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। মনে রাখবেন শিষ্টাচার বহির্ভূত আচরণ আপনাকে সবার কাছ থেকেই আলাদা করে দেবে।