বোরকা সাহেদ ও এম পি পাপলু ভাইরাসের পথে কী বিয়ানীবাজার?
দেলওয়ার হোসেন দেলওয়ার হোসেন
আমিরাত প্রবাসি
আওয়ামীলীগের তৃণমূল নেতাকর্মীরা সর্ব ক্ষেত্রে তিরোহিত ও লাঞ্ছিত হচ্ছে।এটি শুধু বিয়ানীবাজারের চিত্র নয় ।সমস্ত বাংলাদেশ একই অবস্থা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া তাদের দেখার মত কোন অভিভাবক নেই বললেই চলে। কারন বর্তমানে নেতারা নিজ স্বার্থ আর বিভিন্ন গ্ৰুপ ও উপ গ্ৰুপ নিয়ে ব্যাস্ত।
আজ যেন দুটি ভাইরাস আক্রান্ত করে রেখেছে গোটা সমাজ ব্যবস্থাকে । করোনা ভাইরাসের যেমনটির আপ-ডেইট ভার্সন আছে এবং বর্তমানে ক্রমে ভাইরাসটি দিন দিন শক্তি হারাতে পারে শোনা যায়। কিন্তু আমাদের দানব সৃষ্টি ভাইরাসের কি হবে? এ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে আমাদের অবস্থা এতটাই খারাপ হবে সামাজিক বিষ ক্রিয়ায় পরিনত হবে।এর সংক্রামক সমাজে ছড়ালে ক্ষতিগ্ৰস্ত হবে আমাদের আপন মানুষ,আপন সংগঠনগুলো ।যার প্রমান আমাদের চিকিৎসা খ্যাতটি এখনও দূর্নীতি থেকে পরিত্রাণ দিতে পারি নি ।এর কারন দলে অনুপ্রবেশকারী বা পরগাছা দূর্নীতিবাজ স্থান দেওয়া একটা ভূল কাজ এবং প্রকৃত নেতা কর্মীর জীবনের হুমকির কারন হতে পারে। সুতরাং এর থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার একটি বানী যথেষ্ট। এই কথাটি ব্যক্তিগত ভাবে খুব অনুপ্রাণিত করেছে আমাকে এবং আমি তা আমার হ্নদয় থেকে বানীটি বিশ্বাস করি ।এই বানীটি হল—
“অসৎ পথে মাংস-পোলাও চেয়ে সৎ পথে নুন ভাত ভাল”
এই সৎ -অসৎ পথ সম্মন্বয় সাধন করে চলা যায় না।আমাদের ইসলাম ধর্মে ও স্পস্টতা
রয়েছে।হারামকে হালাল আর হালাল কে হারাম করা যায় না।আর হারাম কে হালাল করতে গেলে আমাদের ঈমান চলে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়।তাই আমরা সৎ পথের উপার্জন কে হালাল আর অসৎ পথের উপার্জন কে ইসলামের ভাষায় হারাম বলে।
আজ আমাদের সমাজের নিত্য নতুন ভাইরাস গুলোর মুখোশ দিন দিন উন্মোচিত হচ্ছে ।স্রমাট,পাপিয়া,ডাঃ সাবরিনা, সাহেদ, পাপলু এ মানুষ গুলি বৈশ্বিক মহামারির করোনা থেকে ও ভয়াবহ।সাহেদ ও এম,পি পাপলুর দূর্নীতি, অনিয়ম,আদম ব্যবসা,মানিলন্ডারিং সহ সমস্ত বহু অপকর্মের মূল হোতা ছিল তারা। তার গ্ৰামের বাড়ি সাতক্ষীরায় মধ্যবৃও পরিবারে।গ্ৰামেও প্রতারক হিসাবে পরিচিত। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মানুষ যখন জীবন মরন সদ্ধিঃক্ষনে । তখনও তার অমানবিক আচরণের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। করোনা পরিক্ষার নামে সে হাতিয়ে নেয় প্রায় ৩ কোটি টাকা,বিপদগ্ৰস্থ মানুষের কাছে থেকে। দুঃখের বিষয় হল যাদের বুকে মাথা রেখে শান্তি পাওয়ার কথা কথা,আজ ডাঃ সাবরিনার মত নরপশু ,সেই বিশ্বাসের জায়গাটুকু ও নষ্ঠ করে দিয়েছে।আজ সাধারণ মানুষের শান্তির জায়গাটা কোথায়?
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া এম পি ,মন্ত্রী,বড় বড় প্রশাসনিক কর্মকর্তার সাথে ছবি নিয়ে অনেকে অনেক মন্তব্য করেছেন।ডাঃ সাবরিনার পোশাক নিয়েও আলোচনার অন্ত নেই।পোশাক নিয়ে আলোচনা হীনমন্যতার পরিচয় বহন করে।আর ছবি দিয়ে আওয়ামীলিগ নেতৃবৃন্দ জড়িত প্রমান করতে হীন রাজনীতিতে লিপ্ত হয়েছেন ,তারা স্বাধিনতা বিরোধীদের এজেন্ট।না হয় আমার প্রশ্ন সাহেদের মত দূরনীতিবাজকে মন্ত্রী,এম পি , প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পর্যন্ত পৌঁছতে কোন আওয়ামীলীগ নেতা সাহায্য করেছে ।তাকে ধরেন, তার কোন স্বার্থে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছে।
এম পি পাপলু লক্ষীপুর-২ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিল , আওয়ামীলীগ নয়। আওয়ামীলীগ এর কাছে মনোনয়ন চেয়েছিল , আওয়ামীলীগ দেয় নাই।স্বতন্ত্র প্রার্থী টাকার বিনিময়ে ঐ আসনে বিজয়ী হয়। বলাবাহুল্য,তার স্ত্রীও মহিলা সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য।কুয়েতে অর্থ ও মানব প্রাচারে
– আটক পাপলু। শুধু দেশের ভাবমুর্তি নষ্ঠ করেনি ,বিপাকে ফেলেছে সমস্ত কুয়েত প্রবাসীকে।এ দিকে রিজেন্ট গ্ৰোপের মালিক সাহেদ নকল করোনা পরিক্ষার নামে ভূয়া সার্টিফিকেট প্রবাসীদের জন্য লজ্জা ও ভোগান্তির কারন হতে পারে।এ ভোগান্তির পরিত্রাণ পেতে বহু সময় লেগে যেতে পারে।
কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো আওয়ামীলিগ নেতৃবৃন্দের কাছে, আপনারা দুর্নীতিবাজদের নেত্রী পর্যন্ত পরিচয় করিয়ে দিতে নুন্যতম লজ্জা বোধ করেন না । কিন্তু ঘাম ঝরানো পরিশ্রমী কর্মীকে পরিচয় করিয়ে দিতে আপনাদের মাথা ব্যথার কারন হয়ে যায়। অনেকে আবার সুন্দুর সুন্দর ফ্রেইস দেখে পরিচয় করিয়ে দিতে ভালবাসেন।কারন মানূষ সুন্দরের পূজারী,এটা দূষের নয়। প্রধানমন্ত্রী কে ফুল দিতে গেলে দেখা যায় সূন্দর -অসুন্দরদের মধ্যে পার্থক্য ।ছেলে-মেয়েদের বাছাই পর্বে উত্তীর্ণ হতে হয়।এ বৈষম্য কেন? ত্যাগী কর্মীর স্থান আপনাদের মত নেতৃবৃন্দের বুকে পাওয়ার কথা। অনেকে আপনাদের স্বার্থ ফোড়ালে সাধারণ কর্মীদের ফোন টা ধরেন না।এই হল আপনাদের অবস্থা।
তাহলে বিয়ানীবাজার উপজেলার নেতৃবৃন্দ কি ঐ পথে পা বাড়াচ্ছে।অসাধুদের , দূর্নীতিবাজদের চলার পথ সুগম হয় না ।এ পথ বড়ই কাঁটা যুক্ত হয়।আজ কয়েক দিন থেকে বালির ,পাথরের ব্যবসা নিয়ে অন লাইন নিউজ দেখছি।অনেকের অনেক মন্তব্য শুনছি। কিন্তু এমন কাজ করবেন না ,যে কাজে আওয়ামীলীগ নেতা কর্মীর চরিত্রে কালিমা লেপন হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দেশ উন্নয়নের ভিশন যাতে বাধা গ্ৰস্থ না হয়। অবৈধ কোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ, শুধু বিয়ানীবাজারের মান -সম্মান নষ্ঠ হবে না গোটা আওয়ামী পরিবারের মান-মর্যাদা ম্লান হবে। জননেত্রী শেখ হাসিনার করা দূর্নীতিবাজ অসাধুদের তালিকায় নিজের নামটী অন্তর্ভুক্ত করিয়েন না। এই কোটি টাকা লোভী আওয়ামীলিগের নেতার চেয়ে নিলুর্ভ বিশ্বত্ব কর্মীর মূল্য অনেক বেশী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে।
সুতরাং এটি সময়ের দাবি , আওয়ামীলিগের অনুপ্রবেশকারী বা ভিতরের পরগাছা পরিস্কারের।কারন কিছু লোক জামাত বা অন্যান্য দল থেকে পরিকল্পিতভাবে আওয়ামীলীগে ঢুকিয়ে দিয়ার চেষ্টা চলছে।এদের কাজ হবে ফটোসেশন , অনলাইনে ফটো পোস্ট দিয়ে আওয়ামীলিগ প্রমান করা।এ ফটোসেশন শুধু দূর্নীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবে।আর আমরা একজন অন্য জন কে শুধু দূষারোপ করেই যাব ।এতে দলের ভিতর অন্তঃ কোন্দল বাড়বে ।আর আমাদের দর্শকরা করতালি বাজাবে।আবার কিছু লোক অত্যান্ত দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করছে ,যাতে আওয়ামীলীগের তৃণমূল নেতাকে স্থানীয় নিজ দলের এম পি ,মন্ত্রী ,নেতা থেকে কিভাবে দূরে সরিয়ে রাখা যায় ।তাই দ্রুততার সাথে আওয়ামীলিগের তৃনমুল নেতা কর্মী কে আওয়ামীলিগের দায়িত্ব তাদের হাতে ছেড়ে দিয়ে পরগাছা পরিস্কারের সাধারণ নেতাকর্মীদের দাবী।
আওয়ামীলীগের ভিতরে – বাহিরে সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে এক দল।তাই আমাদের নেতা কর্মীকে সচেতন হতে হবে এবং প্রতিটি অপপ্রচারের সাথে সাথে সদ উওর বা জবাব দিতে হবে।না হয় জন নেত্রী শেখ হাসিনার সকল উন্নয়ন, সফলতা অপপ্রচার ও গুজবে ম্লান হয়ে যাবে। অপপ্রচার, দূর্নীতি,অর্থ ও মানব প্রচার ,এ গুলো সমাজে থাকবে, সর্ব ক্ষেত্রে সাবধানতা সকলের জন্য বান্চনীয়।


