সম্পর্ক ও বন্ধুত্ব

প্রকাশিত: ১:৫০ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৮, ২০২০ 748 views
শেয়ার করুন

সম্পর্ক বলতে আমরা সাধারণতঃ বুঝি একজন অপরের সাথে চেনা জানা ও আন্তরিকতায় জড়িয়ে পড়া এবং ভাবের আদান প্রদান করা ।

সম্পর্ক কত প্রকার ? সম্পর্ক সাধারণতঃ দুই প্রকার যেমনঃ (১) রক্তের সম্পর্ক (২) সৃষ্ট সম্পর্ক ।

(১) রক্তের সম্পর্ক : এটি প্রাকৃতিক ভাবে প্রাপ্য , মহান সৃষ্টি কর্তা তাঁর ইচ্ছায় কাকে কার গর্বে বা ঔরসে সৃষ্টি করবেন তিনি ই জানেন । এখানে আমাদের কোন ইচ্ছা বা অনিচ্ছার মূল্য নেই বা করার ও কিছু নেই তিনিই নির্ধারণ করবেন কোথায় কিভাবে কার জন্ম হবে কে হবেন তার পিতা মাতা ভাই বোন এবং আত্মীয় স্বজন ।
আমাদের কারো কিছু করার নেই বা জন্ম গ্রহণ করে বড় হওয়ার পর ও কেউ অস্বীকার করতে পারবেন না যে আমি তাঁর পুত্র কিংবা ভ্রাতা নই অর্থাৎ আমৃত্য এই সম্পর্ক কে স্বীকার করে যেতে হবে এটা থেকে বের হবার সকল দোয়ার বন্ধ থাকে তাই রক্তের সম্পর্ক থেকে বের হওয়া যায় না অস্বীকার করা যায় না এ বন্ধন চিরন্তন সত্য এবং এতোই শক্তিশালী যে তা ছিড়ে ফেলা অসম্ভব ও অবাস্তব ।
রক্তের সম্পর্ক না চাইতেই প্রাকৃতিক ভাবে প্রাপ্য হয় অর্জিত হয় এতে কৃতিত্বের কিছু নেই ।

(২) সৃষ্ট সম্পর্ক :
মানুষ তার শৈশব, কৈশোর, যৌবন এমনকি তার চলার পথে জীবনের পরতে পরতে অচেনা অজানা মানুষের সাথে দেখা হয় কথা হয় পরিচয় হয় ঘনিষ্টতা হয় ভালোবাসা হয় , একে অন্যের সাথে তার মনের মিল খুঁজে পায় এবং এতে করে বিভিন্ন ভাবে কিছু সম্পর্ক সৃষ্টি হয় একেই আমরা সৃষ্ট সম্পর্ক বলে থাকি ।
হৃদয়ের ছোঁয়া পেয়ে মনের সাথে মন মিলে যায় একে অন্যের চলা বলা কাজ কর্ম কে শ্রদ্ধা করা ভালো লাগা ইত্যাদিতে কিছু গভীর সম্পর্ক সৃস্ট হয় তাকেই আমরা বন্ধুত্ব বলে থাকি ।
বন্ধুত্ব এক স্বর্গীয় অনুভূতি একে অন্য কে এমন ভাবে আঁকড়ে ধরে যেখানে কোন বাঁধা বিপত্বি তাদের থামাতে পারে না , একে অন্যের স্বানিধ্যের জন্য কাছে পাওয়ার জন্য ব্যাকুল থাকে । বন্ধুত্বের সম্পর্ক সৃষ্টির মাধ্যমে মানুষের গর্ব ও কৃতিত্ব থাকে কারণ এই সম্পর্ক প্রাকৃতিক ভাবে প্রাপ্য না কিংবা এটা কারো দয়ার দান না এই সম্পর্ক নিজের আচার আচরণ দ্বারা সৃষ্ট সে জন্য বুক ফুলিয়ে বলা যায় আমার বন্ধু এই সেই । যোগযোগ এমন একটা মধ্যম যেটার কারণে রক্তের সম্পর্ক ও দূরে চলে যায় আবার অচেনা অজানার সাথে সৃষ্ট সম্পর্ক ও যোগাযোগের কারণে গভীর হয়ে যায় , আপন ভাই ও পর হয়ে যায় যোগাযোগ না থাকলে । কেউ কারো খবর না রাখলে কি করে আপন ভাইয়ের সাথে সম্পর্ক থাকে ? থাকে না তবে অস্বীকার করা যাবে না যে সে আমার ভাই না । আবার নতুন পরিচিত ব্যক্তিটি সব সময় যোগাযোগ করে বিপদে পাশে দাঁড়ায় সে জন্য সে আরো ঘনিষ্ট হয়ে যায় বন্ধুত্বের বন্ধনে ।
রক্তের সম্পর্ক ছাড়াই যে সম্পর্ক তোমার আপদ বিপদে সাথে থাকবে সেই সম্পর্ক একটা পবিত্র সম্পর্ক । বন্ধুত্ব একটা অন্যরকম সস্পর্ক যে সম্পর্কে বয়সের কোন সীমা রেখা থাকে না । যে সম্পর্কে তুমি কোন ভয় ছাড়াই সব কথা হাসি কান্না ,সুখ -দুঃখ -বেদনা সব বলা যায় প্রাণ খুলা আলোচনা করা যায় , যেখানে বিচ্ছেদের কোন ভয় থাকে না ।
তাই আদর্শিকতার মিল ও বন্ধুত্বের সম্পর্ক আমাদেরই সৃষ্টি গর্ব ও অহংকারের এই বন্ধন যেনো অটুট থাকে এটাই প্রত্যাশা