আদর্শিক মুজিবকোট ও আমার বেদনা

প্রকাশিত: ১২:২১ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৩, ২০২০ 1,269 views
শেয়ার করুন

মুজিবকোট হচ্ছে পুরুষদের জন্য তৈরি এক ধরনের কালো কোট। এটি একটি হাতাকাটা, উঁচু-গলা বিশিষ্ট ও নিম্ন অংশে দুটি পকেট ও ছয় বোতাম সমেত নকশাকৃত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক ব্যবহৃত একটি পোশাক।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মানেই বাংলাদেশ। স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর কাছে যা যা প্রিয় ছিল তাই দেশের সকল মানুষের কাছে প্রিয় হয়ে উঠেছে। বঙ্গবন্ধুর বিশেষ পোশাক ছিলো সাদা পাঞ্জাবি-পায়জামা আর ৬ বোতামের কালো কোট। যে কোটটি পরবর্তীতে ‘মুজিবকোট’ নামে বেশি পরিচিতি পায়। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ এবং তাঁকে যারা ভালোবাসতেন তারাই পরবর্তিতে এই ‘মুজিব কোট’ ব্যবহার করতেন।

বর্তমানে তরুণ প্রজন্মের মাঝেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই ‘মুজিবকোট’। পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে যারা রাজনীতি করছেন তারাও এই কোটকে ব্যবহার করছেন। বঙ্গবন্ধুর ভক্তদের কাছে, এই কোট ধারণ করা মানেই বঙ্গবন্ধুকে ধারণ করার সামিল। পায়জামা-পাঞ্জাবির সাথে মুজিব কোট ছাড়াও মোটা ফ্রেমের চশমা, চুরুটের পাইপও বঙ্গবন্ধুর আইকন হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

বঙ্গবন্ধু কত সাল থেকে কালো কোট পরা শুরু করেছিলেন তার কোনো নির্দ্রিষ্ট সময়সীমা পাওয়া যায়নি। তবে মাওলানা ভাসানী এবং শামসুল হক যখন আওয়ামী মুসলীম লীগ করলেন তখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সংগঠনটির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন। ধারণা করা হয়, তখন থেকেই বঙ্গবন্ধুকে এই কোট পড়তে বেশি দেখা যায়। তবে এই কোটটির প্রচলন ‘নেহেরু কোট’ থেকে।

ভারত উপমহাদেশ স্বাধীনের সময় জওহরলাল নেহেরুর (স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী) বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে এই নেহেরু কোটের প্রচলন শুরু হয়। পরে সেখান থেকেই বঙ্গবন্ধু এই কোটটি পড়তেন বলেই এর নাম দেয়া হয় ‘মুজিবকোট’। বঙ্গবন্ধুর স্বভাবতই তার পছন্দের সাদা পায়জামা-পাঞ্জাবির মতই কোটটি ব্যবহার করতেন।

তবে আগরতলা(১৯৬৮) মামলার সময় থেকেই বঙ্গবন্ধু এই কালো কোট পড়া শুরু করেন বলে জানান বিশিষ্ট সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেন।

এই মুজিবকোটে ছিলো ৬টি বোতাম। মুজিব কোটের ৬ বোতাম মানেই শেখ মুজিবের ৬ দফা। স্বধীনতা ঘোষণার পূর্বে শেখ মুজিবের গায়ের কোটটি মুজিব কোট হিসেবে তেমন খ্যাতি লাভ করেনি। কালো হাতাকাটা এই বিখ্যাত কোটটি তখনও লাভ করেনি কালজয়ী কোনো নাম।

জানা জয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের এক ছাত্র তার সহপাঠী তাজউদ্দিনকে সঙ্গে নিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে দেখা দিতে গিয়েছিলেন। তিনি শেখ মুজিবুর রহমানকে অনেক কাছ থেকে দেখলেন, কথাও বললেন দীর্ঘক্ষণ। কথা শেষে ওঠে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু যখন তার কালো কোটটি গায়ে জড়াচ্ছিলেন তখন ওই ছাত্র লক্ষ্য করলেন কোটে ৬টি বোতাম রয়েছে। যা এ ধরনের অন্য কোটের বোতামের চেয়ে কম। এসময় তিনি বঙ্গবন্ধুকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনার কোটের বোতাম ৬টি কেন? উত্তরে বঙ্গবন্ধু তাকে বুকে জড়িয়ে ধরে বললেন, ‘এমন প্রশ্ন এর আগে আমাকে আর কেউ করেনি। তুই প্রথম। এই ৬টি বোতাম আমার ঘোষিত ৬ দফার প্রতীক।’ আর এ কারণেই একটি আদর্শ মুজিব কোটের প্রতিটিতে বোতামের সংখ্যা থাকে ৬টি।

আমি আজ ৩৪ বছর যাবৎ স্বক্রিয় বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কর্মী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি ।
ছাত্রলীগ থেকে আজ আওয়ামীলীগ হয়েছি এরই মধ্যে জীবন মৃত্যুর মুখোমুখি ও হতে হয়েছে কিন্তু কখনো থেমে যাই নি আর আগামীতে ও এই আদর্শ বুকে ধারণ করে যেনো পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে পারি এটাই আমার ব্যক্তিগত কামনা ।
এখন পর্যন্ত আমি একটিবারের জন্য ও মুজিবকোট পরিনি কারণ আমি মনে করি মুজিবকোট পরার জন্য যে যোগ্যতা প্রয়োজন সেটি আমি এখনো অর্জন করতে পারিনি।

এটি আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি কিন্তু দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় হলো যে , আমি যখন দেখি
এই ঐতিহাসিক ও আদর্শিক মুজিবকোট আজ বিভিন্ন রং আর বোতাম ৬ টা না ৫ টা পরে নেতা কর্মীরা ঘুরে বেড়াচ্ছে !!! তখন হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হলে ও কিছু বলতে পারিনা কারণ তারা সকলেই আমার সিনিওর অথবা জুনিয়র কি বলবো আর তারা কি ভাববে ইত্যাদি কারণে বলা হয় না ।

কিন্তু একই আদর্শিক নেতা কর্মী হয়ে যখন এই মহান মুজিবকোট কে বিকৃত করবেন তখন দুঃখ ও বেদনা ছাড়া কি আর করার থাকে ?
কি কারণে এই বিকৃতি টা হচ্ছে জানার দরকার বলে আমি মনে করি কারণ মূল উৎপাটন না করলে এই বিকৃতি রোধ সম্ভব না ।
প্রথমতঃ যারা এটি তৈরী করছে সেই গার্মেন্টস সে এটিকে পোশাকী রূপে ব্যবসায়িক ভাবে তৈরী করছে তার মুনাফা অর্জনের লক্ষে , সে বা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান জানে না এটি কোটি কোটি মানুষের আদর্শের প্রতীক , শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রতীক ।

দ্বিতীয়তঃ যিনি মুজিব কোট পরিধান করছেন তার ও অজ্ঞতা রয়েছে তিনি এটি পোশাকি রূপেই দেখছেন তার জানা নেই যে এই মুজিবকোটের ইতিহাস ।

তৃতীয়তঃ আওয়ামী পরিবারের নেতা কর্মীরা ই বেশীর ভাগ পরে থাকেন তারা সভা সমিতিতে যাচ্ছেন তাদের মধ্যে ভাবখানা এমন যে মুজিবকোট পরে গেলে নিজেকে একটু আলাদা করে নেয়া যাবে অর্থাৎ কর্মীদের নিকট বড় নেতা সাঁজার একটা বাহানা বা কৌশল । বড় নেতা হোক এতে আমার আপত্তি থাকবে কেন ?

কিন্তু দুঃখ হয় তিনি বড় নেতা যখন দেখি তিনি ও বিকৃত মুজিবকোট পরে এসেছেন তার মানে দাড়ায় তিনি অজ্ঞতাবশত এ কাজটি করেছেন আর এখানেই আমার দুঃখ ও বেদনা আপনি নেতা আপনি শিখাবেন আমরা শিখবো কর্মী সমর্থক ও অজ্ঞ জনতা আপনার বক্তৃতা শুনবো কিন্তু আপনি নিজেই বিকৃত মুজিবকোট পরে কি বলবেন আর কি শিখবো ?

বড় নেতাকে অবশ্যই জনতে হবে শিখতে হবে তারপর আপনি যা বলবেন আমরা তা শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা দিয়ে তা গ্রহণ করবো ।
এই ঐতিহাসিক, আদর্শিক মুজিবকোট কে সংরক্ষণ কল্পে রাষ্ট্র কে একটি আইনানুগ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত বলে মনে করি তা না হলে মুজিবকোট বিকৃতির অতল গহবরে তলিয়ে যেতে পারে বলে সুধীজনের ধারণা ।