মানুষের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ সৃজনশীল সততা ও উত্তম চরিত্র

প্রকাশিত: ১০:৪২ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৪, ২০২১ 216 views
শেয়ার করুন
  • 103
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    103
    Shares

 

মানবজীবনের উন্নতি, সফলতা ও সার্থকতা বিকাশের জন্য চরিত্রের গুরুত্ব অপরিসীম। চরিত্রবান ব্যক্তি সত্য ও ন্যায়ের অনুসারী। এ ধরনের মানুষ জাগতিক লােভ-লালসা ও মিথ্যা প্রলােভনে কখনাে প্রলুব্ধ হয় না।এরা আপস করে না অন্যায়ের সাথে। এরা সূর্যের মতাে প্রখর, পর্বতের মতাে অচল এবং প্রয়ােজনে বরফের মতাে বিগলিত। চরিত্রবান মানুষ সবার শ্রদ্ধার পাত্র। চরিত্রবান মানুষের সংস্পর্শে এলে যেকোনাে মানুষ সত্য ও সুন্দর পথের সন্ধান পায়।

অপরদিকে, দুশ্চরিত্র ব্যক্তি সমাজ, দেশ ও জাতির জন্যে অকল্যাণকর। গাড়ি-বাড়ি, ধন-দৌলত, শিক্ষা-দীক্ষা ও সম্মান সবকিছুই মূল্যহীন হয়ে পড়ে যদি কোনাে লােক চরিত্রহীন হয়। চরিত্রহীন ব্যক্তি তার লােভলালসা ও হিংসা-দ্বেষ দিয়ে সমাজ ও দেশকে কলুষিত করে। তারা সামাজিকভাবে পশুর চেয়ে অধম বলে বিবেচিত হয়। তাদের কোনাে মর্যাদা থাকে না। চরিত্রবান ব্যক্তি তার মনুষ্যত্ব ও বিবেক দিয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণের জন্যে কাজ করে। পক্ষান্তরে, চরিত্রহীন ব্যক্তি বিষধর সাপের মতাে ভয়ংকর। এ ধরনের ব্যক্তিরা প্রয়ােজনে যেকোনাে ভয়ংকর কাজ করতে দ্বিধা করে না। তাই প্রত্যেক মানুষকে জীবনে সফলতার জন্যে দেশ ও জাতির কল্যাণের জন্যে সাধনার মাধ্যমে উত্তম চরিত্র গঠন করতে হবে। জগৎ-সংসারের সকল জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তি তাঁদের মহৎ চরিত্রের জন্যেই স্মরণীয় ও বরণীয় হয়ে আছেন।

তাঁদের উত্তম চরিত্র সকলের আদর্শ। কথায় বলে, সম্পদ হারিয়ে গেলে কখনাে কখনাে পুনরুদ্ধার করা যায়, কিন্তু চরিত্র হারালে তা আর ফিরে পাওয়া যায় না। চরিত্রবান ব্যক্তি যেমন নিজ জীবনকে আলােকিত ও সুন্দর করে তেমনি সমাজ, দেশ ও জাতিকে আলােকিত করে। তাই কোনাে জাতিকে উন্নত করতে হলে অবশ্যই উন্নত চরিত্রের জাতি গঠন করতে হবে। সৎ চরিত্র মানুষের অমূল্য সম্পদ চরিত্র এবং সততাই মানুষের জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। মানব চরিত্রই উন্নত ও সমৃদ্ধ জাতির প্রধান জীবনী শক্তি। যে জাতির চরিত্র যত দৃঢ় হবে সে জাতি তত উন্নত এবং সভ্য হবে। চরিত্রবান ব্যক্তি সদা আনন্দে থাকেন। দুশ্চিন্তা তাকে

গ্রাস করতে পারে না। কারণ তার মধ্যে অবৈধ সম্পদ উপার্জন করে উচ্চভিলাষের মন মানুষিকতা নাই। সৎ উপার্জনের মাধ্যমে তিনি যা আয় করেন তাতেই সন্তুষ্ট থাকেন। আজ সমাজে বিশৃংখলা এবং অরাজকতা সৃষ্টির অন্যতম কারণ হচ্ছে যার যা আছে তাতে সন্তুষ্ট না থেকে পরধনে মত্ত হওয়া। এতে অনেক সময় এক শ্রেণির মানুষের মধ্যে পরশ্রীকাতরতা সৃষ্টি হয়। পরশ্রীকাতরতাও অশান্তির অন্যতম একটি কারণ। পৃথিবীর জ্ঞানী ব্যক্তিরা চরিত্রকে জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ হিসেবে গ্রহণ করায় যুগ যুগ ধরে চির ভাস্বর হয়ে আছেন। তাদেরকে শত শত বছর পরও ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ আজ স্মরণ করছেন, করছেন অনুকরণ।

এর কারণ হচ্ছে সৎ চরিত্র ধারণ করে জীবন-যাপন এবং নশ্বর ধরণীর প্রতি বিমুখতা। ধরণীর প্রতি বিমুখতা মানে এই না ঘর-সংসার ত্যাগ করে সন্যাসী/ বৈরাগি হওয়া। ছেলে- মেয়ের ভরণ-পোষণ মেটাতে যতটুকু অর্থ বিত্ত আবশ্যক তা হক্ব-হালাল ভাবে করতে শরীয়তে কোন বাধা নাই। উত্তম চরিত্রের অধিকারীরা সর্বদা সত্য কথা বলেন, ন্যায়ের পথে চলেন, ওয়াদা রক্ষা করেন, ভালো কথা বলেন, বড়দের সম্মান করেন, ছোটদের প্রতি স্নেহ-মমতা ও দয়া প্রদর্শন করেন, আমানত রক্ষা করেন, মানুষের উপকার করেন, মানবিকতা থাকে তার ব্যবহারে, শালীনতা ও শিষ্টতা বজায় রাখেন। উদারতা, কৃতজ্ঞতা, নিঃস্বার্থপরতা, লজ্জাশীলতা বজায় রাখার সঙ্গে সঙ্গে অন্যের সঙ্গে ভালো ব্যবহার ও মানুষের কল্যাণ কামনা করেন সর্বদা।

তারা পবিত্র ও সৎ জীবনযাপন করেন, ন্যায়- বৈধ ও সৎ উপায়ে উপার্জন করেন এবং আচরণে ভদ্রতা দেখান।সব সময় সত্য কথা বলেন, সকল ভালো ও বৈধ কাজে স্বামীর আনুগত্য করেন, শশুর-শাশুড়ীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন। আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করেন, পাড়া-প্রতিবেশীর সঙ্গে উত্তম আচরণ করেন, যথাসম্ভব তাদের সাহায্য-সহযোগিতা করেন। তাদের বিপদে দুঃখিত হন, তাদের খুশিতে আনন্দিত হন। চরিত্রবান ব্যক্তি যেমন নিজ জীবনকে আলােকিত ও সুন্দর করে তেমনি সমাজ, দেশ ও জাতিকে আলােকিত করে। তাই কোনাে জাতিকে উন্নত করতে হলে অবশ্যই উন্নত চরিত্রের জাতি গঠন করতে হবে।