সুন্দরবনের সুন্দরী গাছ কেটে বনবিভাগের ট্রলারেই পাচার

প্রকাশিত: ৩:০৮ পূর্বাহ্ণ, মে ৭, ২০২০ 665 views
শেয়ার করুন

করোনা পরিস্থিতি ও চলমান লকডাউনের মধ্যে দিনে দুপুরে সুন্দরবনের কর্তন নিষিদ্ধ সুন্দরী ও কাকড়া গাছ কেটে তা পাচারের অভিযোগ উঠেছে বনবিভাগের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। পূর্ব সুন্দরবনের ঢাংমারী ষ্টেশনের ষ্টেশন অফিসার (এসও) মোঃ আনোয়ার হোসেন খাঁন বনের ঘাগরামারী এলাকা থেকে সুন্দরী ও কাকড়া গাছ কেটে তা ট্রলারযোগে পাচার করছিল। বুধবার (৬ই মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পাচার কাজে ব্যবহৃত করা হয় বনবিভাগের পতাকাবাহী ট্রলার। বনবিভাগেরই ট্রলারে থাকা গাছ পাচারকারী তরুন বলেন, এ গাছ তাদের ষ্টেশন অফিসার আনোয়ার সাহেব ঘাগরামারী থেকে কেটে আনার অনুমতি দিয়েছেন।

এদিকে ঢাংমারী ষ্টেশনের ষ্টেশন অফিসার (এসও) মোঃ আনোয়ার হোসেন খাঁন দাবী করে বলেন, ঘাগরামারী টহল ফাঁড়ি থেকে এ গাছ আমাদের ষ্টেশনের (ঢাংমারী) স্থাপনা তৈরীর কাজে আনা হচ্ছিল। এ ব্যাপারে তাদের উর্দ্ধতন কর্মকর্তার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু বনবিভাগের পতাকাবাহী ট্রলারে গাছ নেয়ার সময় ছিলনা কোনও বনরক্ষী, ছিল তিনজন পাচারকারী।

বনবিভাগের স্থাপনা তৈরীর কাজে কোন গাছ ব্যবহার করতে হলে তাদের জব্দকৃত গাছ ছাড়া ব্যবহার করতে পারবেনা বলে জানান পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মোঃ এনামুল হক। ঢাংমারী ষ্টেশনের ষ্টেশন অফিসার আনোয়ার হোসেন খাঁনের সুন্দরবনের সদ্য গাছ কাটার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘উনি তাকে (এসও আনোয়ার) বলেছেন তাদের ষ্টেশনের জেটি নির্মাণের জন্য ওই গাছ নেয়া হচ্ছিল। তবে সেটি সদ্য কাটা কিনা আমি বলতে পারব না।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাংমারী ষ্টেশনের ষ্টেশন অফিসার আনোয়ার হোসেন খাঁন ও ঢাংমারী ষ্টেশনের আওতাধীন ঘাগরামারী টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রউফের বিরুদ্ধে গাছ কেটে পাচারসহ নানা রকম অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। ঢাংমারী ষ্টেশন সংলগ্ন ভোজনখালী গ্রামের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা মুজিবর রহমান, সাবেক ইউপি মেম্বর মোঃ আফসার আলী ও সঞ্জয় কুমার বর্মন অভিযোগ করে বলেন, ঢাংমারী ষ্টেশন অফিসার আনোয়ার হোসেন এবং ঘাগরামারীর ভারপ্রাপ্ত কর্মকতার্ আব্দুর রউফ তাদের লোক (দালাল) দিয়ে সুন্দরবন থেকে প্রতিনিয়তই কর্তন নিষিদ্ধ সুন্দরী, কাকড়া ও বাইনসহ বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান গাছ পাচার করে থাকেন। যারা এসব অপকর্মের প্রতিবাদ করে তাদের বিরুদ্ধে হরিণ পাচারের মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেন বলেও অভিযোগ ওই গ্রামবাসীর।

আরও অভিযোগ রয়েছে বনবিভাগের এই দুই কর্তার সকল অনিয়মে সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন ভোজনখালী গ্রামের বাসিন্দা বাদল ও ট্রলার মাঝি রহিম নামের দুই ব্যক্তি (দালাল)। বনকর্তা আনোয়ার ও রউফের সহযোগী বাদল এবং রহিমের অত্যাচারে অতিষ্ট গ্রামের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ।

পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোঃ বেলায়েত হোসেনের কাছে ফোনে ঢাংমারী ষ্টেশনের ষ্টেশন অফিসার আনোয়ার হোসেন খাঁনের কর্তন নিষিদ্ধ সুন্দরী ও কাকড়া গাছ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে বিষয়টি আমি দেখছি বলেই ফোন কেটে দেন।

এ বিষয়ে বনবিভাগের খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) মঈন খাঁনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, সুন্দরবন থেকে সদ্য গাছ কেটে ষ্টেশনের কোন স্থাপনা তৈরী করার কোন সুযোগ নেই। দীর্ঘদিনের জব্দকৃত গাছ দিয়ে এসব স্থাপনা করতে গেলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের অনুমতির প্রয়োজন। কোন কর্মকর্তা বনের গাছ কেটে থাকলে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।