পত্রে বলা হয়, হাওরবেষ্টিত শান্তিগঞ্জ উপজেলার মানুষের জীবন-জীবিকা মূলত বোরো ধান চাষের ওপর নির্ভরশীল। চলতি মৌসুমে উপজেলার বিপুল পরিমাণ জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। তবে অতিবৃষ্টির কারণে অনেক এলাকায় জমি জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে, ফলে কৃষকরা সময়মতো ধান কাটতে পারছেন না।
এতে করে ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে এবং কৃষকরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত ধান কেটে ঘরে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস থেকে রাজনৈতিক দল, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যুব সংগঠন এবং স্থানীয় জনগণকে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে ধান কর্তন কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
শান্তিগঞ্জ কৃষি কর্মকর্তা আহসান হাবীব জানিয়েছেন, এ বছর শান্তিগঞ্জ উপজেলায় হাওর-নন হাওর মিলিয়ে ২২ হাজার ৬১২ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছিলো৷ এর মধ্যে শুধু হাওরে ১৮ হাজার ৩৮১ হেক্টর। যা থেকে ১০ হাজার ৪২৫ হেক্টর ধান কাটা শেষ, যা হাওরে রোপন কত মোট ধানের প্রায় ৫৭ শতাংশ। নন হাওরের ধান খুব একটা ঝুঁকিতে নেই। এ পর্যন্ত নন হাওরে রোপন হয়েছে ৪ হাজার ২৪১ হেক্টর যার ১০ শতাংশ কর্তন সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি বলেন, জেলার সিদ্ধান্ত অনু্যায়ী শ্রমিক সংকট কাটাতে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী ও রাজনৈতি সংগঠনকে আহ্বান জানানো হয়েছে যে, কৃষকদের পাশে দাঁড়ান। সমাজের উপকারে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা এই সংকট মোকাবিলা করতে হবে। জামালগঞ্জে এক কৃষাণীর ধান কেটে দিয়েছেন আনছার বাহিনী। সকলের সহযোগিতায় আমরা এবার বৈশাখী ধান ঘরে তুলতে হবে।