অস্ত্র তৈরি কারখানায় পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে ৩ ডাকাত নিহত

৫ পুলিশ আহতের খবর পাওয়া গেছে

প্রকাশিত: ৫:২৫ অপরাহ্ণ, মে ৬, ২০২০ 686 views
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের টেকনাফে ডাকাতদলের অস্ত্র তৈরি কারখানায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে দুই সহোদরসহ তিন শীর্ষ ডাকাত নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় ৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল হতে ১৮টি বিভিন্ন ধরনের দেশি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ২শ রাউন্ড গুলি ও ৫৫ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

কক্সবাজার টেকনাফের অন্যতম সন্ত্রাসী জনপদ, অবৈধ অস্ত্র তৈরীর কারখানা, মাদক চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ, অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়কারী চক্রের কেন্দ্রস্থলে পুলিশের এই দুঃসাহসী অবৈধ অস্ত্র এবং মাদক উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়।

জানা যায়, আজ বুধবার (৬ মে) ভোরে টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ নেতৃত্বে ও এসআই মশিউর রহমানসহ টেকনাফ মডেল থানা পুলিশের বিরাট একটি দল উপজেলার হ্নীলা রঙ্গিখালী গাজী পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্র তৈরীর কারখানা,মাদক চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ, অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়কারী চক্রের কেন্দ্রস্থলে অভিযানে গেলে স্বশস্ত্র সন্ত্রাসীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করলে পুলিশের ইন্সপেক্টর লিয়াতক,মশিউর রহমান, সনজিব দত্ত, সৈকত বড়–য়া, মিথুন ভৌমিকসহ ৫জন সদস্য আহত হয়। তখন পুলিশ কৌশলী অবস্থান নিয়ে শক্তি সঞ্চয়ের পর পাল্টা গুলিবর্ষণ করে হামলা চালালে স্বশস্ত্র গ্রুপের সদস্যরা পালিয়ে যায়। তখন পুলিশ অস্ত্র তৈরীর কারখানায় তল্লাশী করে ১৮টি দেশী-বিদেশী অবৈধ অস্ত্র, ২শ রাউন্ড গুলি, ৫৫ হাজার ইয়াবাসহ রঙ্গিখালী মাদ্রাসা পাড়ার মৃত আব্দুল মজিদ ওরফে ভুলাইয়্যা বইদ্যের পুত্র নুরুল আলম (৪০), ছৈয়দ আলম (৩৫) ও শব্বির আহমদের পুত্র আব্দুল মোনাফ (২০) কে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে।

পরে আহত পুলিশ সদস্য এবং উদ্ধারকৃত সন্ত্রাসীদের চিকিৎসার জন্য টেকনাফ উপজেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে আহত পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসা দিয়ে গুলিবিদ্ধ সন্ত্রাসীদের আরো উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করে। মৃতদেহ পোস্টমর্টেমের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ এই অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হচ্ছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সূত্রে আরও জানা গেছে, চলতি বছরে এ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ টেকনাফে ৩৬ জন নিহত হয়েছে। তার মধ্যে ২২ জন সক্রিয় ডাকাত ছিল। সদস্য কমে যাওয়ায় ক্ষতি পুষিয়ে নিতে নতুন করে সদস্য সংগ্রহ শুরু করেছিল ডাকাত দলগুলো। এর আগে ২০১৮ সালের মে থেকে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলমান মাদক বিরোধী অভিযানে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনায় ৫৬ রোহিঙ্গাসহ ২০৯ জন নিহত হয় কক্সবাজার জেলায়। মোট মাদক বিরোধী অভিযানে এ পর্যন্ত ২৪৫ নিহত হয়েছে।