রাজশাহী নগরীর উপশহর সেনানিবাস এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ওয়্যার হাউজের ফলে জনদুর্ভোগ তৈরি হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া পরিবেশ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির রোপনকৃত চারা তুলে ফেলে পরিবেশ অবান্ধব কর্মকান্ড চালানোর অভিযোগও উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির নাম সাজেদা পারভিন (৭০)। তিনি নগরীর উপশহরের ২ নম্বর সেক্টরের বাসিন্দা। সম্প্রতি অভিযুক্ত ব্যক্তির এক প্রতিবেশি পদ্মা সেতু প্রকল্পের নিরাপত্তা উপদেষ্টা মো. রাশেদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে দেয়া এক লিখিত অভিযোগ থেকে এমনটা জানা গেছে। লিখিত অভিযোগে বলা হয়, গত বছরের ২০ ডিসেম্বর নগরীর উপশহর এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর সবুজায়ন প্রকল্পের ১৪ টি দেবদারু গাছের রোপনকৃত চারা তুলে ফেলেছেন সাজেদা পারভিন ও তার মেয়ে। এর আগে ২০১৫ সালেও তারা পরিবেশ উন্নয়ন কমিটির রোপনকৃত চারা তুলে ফেলেন। এছাড়া রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) নিয়মের তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে ওষুধ কোম্পানিকে ভাড়া দেয়া ওয়্যার হাউজের দুটি ফটক ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে যেকোনো সময় মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলেও অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। পদ্মা সেতু প্রকল্পের নিরাপত্তা উপদেষ্টা মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, “ওই জায়গায় অন্তত ২০০ পরিবারের বসবাস। স্থানীয়রা সকলেই ঝুঁকির মুখে রয়েছেন। এছাড়া ওষুধ কোম্পানিকে ভাড়া দেয়ার ফলে দিনরাত সবসময় ট্রাক-লরিসহ বিভিন্ন গাড়ি চলাচল করে। এতে স্থানীয়দের চলাচলেও সমস্যা হয়।” তিনি বলেন, এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে লিখিতভাবে অভিযোগ দেয়া হয়েছে। সবশেষ সিটি মেয়রকে বিষয়টি লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে দ্রæত কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন রাশেদুল ইসলাম। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত সাজেদা পারভিনের মেয়ে রাজশাহীর শহীদ কর্নেল কাজি ইমদাদুল হক পাবলিক স্কুলের (বিজিবি স্কুল) সহকারি শিক্ষিকা নাজিয়া পারভিন বলেন, “আমাদেরকে হেউ প্রতিপন্ন করতে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এসব অভিযোগ করা হচ্ছে।
সবকিছু নিয়ম মেনেই করা হয়েছে। মিথ্যা এসব অভিযোগে আমাদের মানহানি হয়েছে। তবে আমার মা-বাবা বৃদ্ধ হওয়ায় আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারছিনা। অন্যথায় আমরাই আইনের আশ্রয় নিতাম। এ সুযোগে প্রতিপক্ষ এসব ষড়যন্ত্র করছে।” তবে চারাগাছ তুলে ফেলার বিষয়ে তিনি বলেন, “আমাদের বাড়ির আঙ্গিনায় আমরা নিজেরাই লেবু গাছ লাগিয়েছি।”


