ফ্লোরিডায় ৩০ তম এশিয়ান এক্সপোর সফল সমাপ্তি

লুৎফুর রহমান লুৎফুর রহমান

সম্পাদক ও সিইও, বায়ান্ন টিভি

প্রকাশিত: ৭:২১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৩০, ২০২৬ 64 views
শেয়ার করুন

জুয়েল সাদত

বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ফ্লোরিডার আয়োজনে ৩০ তম এশিয়ান এক্সপো এর ২ দিন ব্যাপী অনুষ্টান সফলভাবে সম্পন্ন হল।

 

সাউথ ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পামবীচ শেয়ারগ্রাউন্ডের চমৎকার ভেন্যুতে ২৫ শে এপ্রিল সন্ধ্যা ৭ টায় কেক কেটে  এবং রিবন কাটিং এর মাধ্যমে ৩০ তম এশিয়ান এক্সপোর শুভ সুচনা হয়।
শুভ উদ্ভোধন অনুষ্টানে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন এর নেতৃবৃন্দ এবং ফেয়ার এর হোস্ট কমিটির সদস্যরা সহ স্পন্সররা উপস্থিত ছিলেন।

উদ্ভোধন অনুস্টানের শুভ সুচনায় আয়োজক বাংলাদেশ এসোসিয়েশন এর সভাপতি এম রহমান জহির বলেন, গত ৩০ টি বছর ধারাবাহিক এশিয়ান এক্সপো সফল করতে  যারা সহযোগিতা করেছেন সকলকে ধন্যবাদ । বাংলাদেশ এসোসিয়েশন এর সাধারন সম্পাদক জনাব আরিফ আহমদ আশরাফ বলেন, এই এক্সপোতে সবার অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা আমাদের অনুপ্রেরণা যোগায়।

কনভেনর তামান্না আহমেদ বলেন, আমরা সকলকে ২ দিনের এশিয়ান এক্সপো উপভোগ করার আহবান জানাই ।  ফেস্টিভ্যাল কমিটির চেয়ারম্যান এস আই জুয়েল, উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে বলেন, একটি চমৎকার কমিটি এটা সফলতায় কাজ করেছে । সবার সহযোগিতা ছাড়া এটা সফল হত না। স্পন্সরদের সহযোগিতায় বিরাট ভুমিকা রেখেছে।

 

১ ম দিন ২৫ এপ্রিল রাত  ৮ টা থেকে ১১ টা পর্যন্ত তিন ঘন্টা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সবাই উপভোগ করেন।

ফেয়ার গ্রাউন্ডে ছিল নানান ষ্টল এবং খাবারের দোকান। বিভিন্ন মুখরোচক খাবারে ভরপুর ছিল।

বিভিন্ন সিটির প্রবাসীরা ফেয়ারগ্রাউন্ডে আসেন, কেনাকাটার পাশাপাশি  নানান খাবার গ্রহণ করেন এবং এশিয়ান এক্সপোর মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। হাজার হাজার প্রবাসীদের পদচারনায় ৩০ তম  এশিয়ান এক্সপো এর ভেন্যু প্রাঙ্গন মুখরিত হয়ে উঠে।

প্রথম দিনের মুল শিল্পী ফিডব্যাক এর রোমেল  ও ভারতীয় কেকার পরিবরেশনা ছিল মনোমুগ্ধকর। রোমেল এর পরিবেশনা ছিল অনন্য।  ভারত থেকে আগত কেকা পুরো অডিয়েন্সকে জমিয়ে রাখেন।
দ্বিতীয় দিনে দুপুর থেকেই শুরু হয় নানান একটিভিটি। দুুপুরে খাবারের দোকান গুলোতে ছিল উপচে পড়া ভীড়। শেয়ারগ্রাউন্ড এর মুল মঞ্চের স্টলগুলোতে ভীর ছিল। নেপা হোলসেল এর চমৎকার স্টলে অনেককে আড্ডা দিতে দেখা যায়। নেপা এবারের গ্রান্ড স্পন্সর সহ পার্টনার হিসাবে ছিল।


তিন দিনের এই ৩০ তম এশিয়ান এক্সপো ফেস্টিভ্যাল এ ২৪  এপ্রিল শুক্রবার ছিল
স্পন্সর এবং গেস্টদের নিয়ে গালা ডিনার। হিলটন ওয়েস্ট পামবীচ এয়ারপোর্টে এর হল রুমে গালা ডিনারে বিভিন্ন স্টেটের অতিথিরা সহ ডোনার, স্পন্সররা ছিলেন। গালা ডিনারে বিজনেস এপ্রিসিয়েশন এওয়ার্ড দেয়া হয়।

২ য় দিন রোববার  অনুষ্টানের সুচনায় স্বাগত বক্তব্যে  বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অফ ফ্লোরিডার সভাপতি এম রহমান জহির বলেন, যারা দীর্ঘ এই পথ চলায় সাথে ছিলেন সবাইকে ধন্যবাদ। স্পন্সর, ভেন্ডর, মিডিয়া, শিল্পী, মিউজিশিয়ান এবং হোস্ট কমিটির একটি বিশাল টীমের সমন্বয়ে আজকের ৩০ তম এক্সপো সফল হচ্ছে।

৩০ তম এক্সপোর চেয়ারম্যান  এস আই জুয়েল বলেন, আজকের এই ৩০ তম এশিয়ান এক্সপোতে উপস্থিতি সবাইকে ধন্যবাদ। আমাদের হোস্ট কমিটির সবার সহযোগিতায় এত বিশাল ইভেন্ট সফলতা পাচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি এশিয়ান কালচারকে উপস্থাপন করতে।

কনভেনর তামান্না আহমেদ বলেন, আমাদের এই ফেস্টিভ্যাল টা সফল করতে বিশেষ ভাবে এম রহমান জহির ও আশরাফ আহমেদ এর ঋন আমরা শোধ করতে পারব না। বাংলাদেশ এসোসিয়েশন ই এটার মুল শক্তি। ইনশাআল্লাহ আগামীতেও আমরা আরও ভাল এক্সপো করব।  অনেক ছোট, বড়  শিল্পীদের পরিবারের অনেক অবদান রয়েছে। শতাধিক শিল্পী এটার সথে সম্পৃক্ত।

উদ্ভোধনী মঞ্চে সকল গ্রান্ড স্পন্সরদের পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়। স্পন্সরদের অনেকেই শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন এবং আগামীতে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
শুভেচ্ছা বক্তব্য  রাখেন লস এনজেলস ফোবানার কনভেনর ডক্টর জয়নাল চৌধুরী এবং মেম্বার সেক্রেটারি ইন্জিনিয়ার মোহাম্মদ ইকবাল। তারা দুজনই ৪০ তম লস এনজেলস ফোবানায় সকলকে আমন্ত্রন জানান।


তৃতীয় দিন রোববারে বিকাল ৪ টা থেকে শুরু হয় নানান দেশের কালচারাল পারফর্মেন্স। এশিয়ান বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতির ছোয়া পাওয়া যায়। বৃষ্টির মধ্যেও মায়ামীর বিভিন্ন শহরের প্রবাসীরা আসতে শুরু করেন। শত শত, হাজার হাজার প্রবাসীদের উপস্থিতি ছিল দেখার মত। খাবারের স্টলে ছিল উপচেপড়া ভীড়।

সন্ধ্যা ৬ টা থেকে শুরু হয়ে স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠনদের পারফর্মেন্স। জনাব টিপুর কারিগর এর পরিবেশনা ছিল মনোমুগ্ধকর। টিপু ব্যাক স্টেজের সহযোগিতা করেন৷
সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব আতিকুর রহমানের
গ্রন্থনায় এবং একঝাক শিল্পীর পরিবেশনায় একটি ২০ মিনিটের  গীতিনাট্য ফেস্টিভ্যাল দর্শকদের মুগ্ধ করে রাখে। ভার্জিনিয়া থেকে আগত ঐস্বর্য বনিক ও অস্পরা বনিক এর পারফর্মেন্স ছিল অসাধারন। দুবোন খুব ভাল পারফর্ম করে।

সন্ধ্য ৭ টায় বাংলাদেশের  জাতীয় সংগীত শিল্পী নকুল কুমার বিশ্বাস এর পরিবেশনা  দর্শকরা উপভোগ করেন।। নকুল কুমার বেশ কয়েকটি গান পরিবেশন করেন।
সেরেনিটি হেল্থ সিষ্টেম এর উদ্যেগে রাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়৷ ফ্রী রাফেল টিকেটে ৩ টি টিভি উপহার দেয়া হয়, লটারীর মাধ্যমে।



রাত ৯ টায় মঞ্চে আসেন এই সময়ের
ক্রেজ আরজিন। চমৎকার পরিবেশনা ছিল অসাধারন। রাত সাড়ে নয়টায় এক্সপোর বিভিন্ন স্পন্সরদের এওয়ার্ড প্রদান করেন এক্সপো চেয়ারম্যান এস আই জুয়েল।
রাত ১০ টায় মঞ্চে আসেন বিশ্বজিৎ। ৪৫ মিনিট সংগীত পরিবেশন বিশ্বজিৎ, বিশ্বজিত হিন্দি ও বাংলা গান পরিবেশন করেন। বিশ্বজিৎ দর্শকদের সাথে মিশে গান পরিবেশন করেন। রাত সাড়ে ১০ টায় মঞ্চে আসেন শ্রুতি৷ ইন্ডিয়ান জনপ্রিয় শিল্পী শ্রুতি অনেকগুলো জনপ্রিয় গান পরিবেশন করেন। শ্রুতির গান পরিবেশনের সময় উপস্থিত ছিলেন হাজার হাজার দর্শক।
বিশ্বজিৎ ও শ্রুতির পরিবেশনা সবাই উপভোগ করেন।

শ্রুতির গানের মাধ্যমে ৩০ তম এশিয়ান এক্সপো ফেস্টিভ্যাল এর সমাপ্তি ঘটে। চমৎকার উপস্থাপনার জন্য মাইশাকে ক্রেষ্ট প্রদান করেন বিশ্বজিৎ ও শ্রুতি।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে এস আই জুয়েল  ও এম রহমান জহির সকল কে ধন্যবাদ জানিয়ে ২ দিনের এশিয়ান এক্সপোর সমাপ্তি ঘোষনা করেন।। ২ দিনের এশিয়ান এক্সপোতে ২ শতাধিক শিল্পী পারফর্ম করে মাতিয় রাখেন।

এবারের ৩০ তম এশিয়ান এক্সপো ফেস্টিভ্যাল এ মিডিয়া কাভারেজে ছিল টাইম টিভি, সময় টিভি, এন টিভি, বাংলা ভিষন, প্রথম আলো।


৩০ তম এশিয়ান এক্সপো ফুড এন্ড কালচারাল এর ২ দিনের অনুষ্ঠানে আগত অতিথি ও শিল্পীরা হিলটন হোটেলকে মাতিয়ে রাখেন । শনিবার ও রোববার রাতে বসে গানের আসর। হোস্ট কমিটির আতিথেয়তা এবং চমৎকার আয়োজনে কোন ত্রুটি ছিল না৷  বিশেষ করে এম রহমান জহির সব সময় অতিথিদের সহযোগিতা করেন। চেয়ারম্যান এস আই জুয়েল নানা ব্যাস্থতায়ও বিভিন্ন স্টেটের অতিথিদের হসপিটিলিটি করেন। কেনসাস,আটলান্টা, ভার্জিনিয়া, নিউইয়র্ক, নিউজার্সি ও ফ্লোরিডার নানা শহরের অতিথিরা পুরো তিনদিনের ইভেন্টের প্রশংসা করেন।
৩০ তম এশিয়ান এক্সপো কে সফল করতে অনেকেই জড়িত ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম যারা ছিলেন –
মনজুর চৌধুরী, মোহাম্মদ আলমগীর, সাজ্জাদ হোসেন, জুয়েল সাদত, আলী আক্কাস,কাজী সুলতানা, আনোয়ারুল করিম,কামরুল চৌধুরী, মিজানুর রহমান, মেরিনা মজুমদার, আনিসুর রহমান শামীম,মনিরুল ইসলাম, লিরা রহমান,নাজমুল হাসান মুস্তফা, মাসুদা ইসলাম পপি,আব্দুল জলিল,আবু আকবর,,মাইশা আহমেদ, সিমান্ত,রাইসা উদ্দিন,ইমারাইদ খান,শাকিল,জয়তি,এস ইসলাম,হাসান মুরাদ,নুরুল ইসলাম,মনোয়ারুল ইসলাম, মোহাম্মদ এন সাদাত,সীমা কুন্ড,তাহমিনা আনিস রীমা,সোহাগ,অনিক দেব,আতিকুর রহমান,রাসেল মূর,তাজুল ইসলাম, কামরুল চৌধুরী মোহাম্মদ রনি, সৈয়দ কামাল প্রমুখ।

জনাব রাসেল মীর এর সম্পাদনায় একটি সুভেনির প্রকাশিত হয়৷ ফ্লোরিডার গভর্নর ডি সান্টেস একটি বানী প্রদান করেন।