কে পাচ্ছেন মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন।
আগামী ২০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পদের উপনির্বাচন।
নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার সাথে সাথে প্রকাশ্যে বিভিন্ন কৌশলে প্রচার শুরু করেছেন তারা। জেলা শীর্ষ পর্যায় থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত যার যার মত করে লবিং করে যাচ্ছেন। যদিও শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেবেন বলে জানিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা।
এদিকে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে- ইতিমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের আমলনামা বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাসহ দলের নিজস্ব উইংয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর হাতে পৌঁছেছে। দুর্নীতিবাজ, বিতর্কিতরা মনোনয়ন পাবেন না এটা দলের নীতিগত সিদ্ধান্ত। অন্যদিকে তৃণমূলের দাবিও ক্লিন ইমেজের প্রার্থী।
প্রবীণ আওয়ামীলীগ নেতা মো. আপ্পান আলী বলেন, আজিজুর রহমানের বিকল্প আমরা পাব না। তবে আজিজুর রহমানকে আদর্শ মেনে কেউ এই পদের জন্য যদি নির্বাচন করে আমরা সাহায্য করব। সততা এবং কর্মদক্ষতায় দলের মনোনয়ন পাবেন সেটাই প্রত্যশা।
বিভিন্ন সূত্রে যানা যায়, উপনির্বাচনে প্রাথী হিসেবে ইতিমধ্যে লবিং শুরু করেছেন আওয়ামীলীগ নেতারা। প্রকাশ্যে এ নিয়ে অনেকে কথা না বললেও তারা ঢাকা কেন্দ্রিক জোর লবিং চালাচ্ছেন।
তবে মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে মূল প্রতিদ্বন্ধিতা হবে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিছবাহুর রহমান , প্রয়াত সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলীর স্ত্রী সাবেক এমপি সৈয়দা সায়রা মহসিন এবং প্রয়াত আজিজুর রহমানের ভাতিজা জেলা যুবলীগ সভাপতি নাহিদ আমদের মধ্যে।
দলের মধ্যে এই তিনজনের রয়েছে জনপ্রিয়তা। তাদের দীর্ঘদিনের অবস্থান আছে স্থানীয় রাজনীতিতে।
মিছবাহুর রহমান
মিছবাহুর রহমান দলীয় সাধারণ সম্পাদক হওয়াতে এগিয়ে আছেন। এছাড়া সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর ৭টি উপজেলা কমিটির সফল সম্মেলন, দলীয় সক্রিয় কার্যক্রম ও দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ ও সু-সম্পর্ক তাকে এগিয়ে রেখেছে। দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলো বিবেচিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
মনোয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মিছবাহুর রহমান। তিনি বলেন- ‘আমি মনোনয়ন চাইব, বাকিটা নেত্রীর সিদ্ধান্ত। দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমার বক্তব্য হচ্ছে, আমাদের নেত্রী যাকে প্রার্থী করবেন তার পক্ষেই কাজ করে যাব। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। এবং নেত্রীর সিদ্ধান্তের প্রতি আমাদের আস্থা আছে। দলের এবং এলাকার জন্য যোগ্য প্রার্থীকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে।’
সৈয়দা সায়রা মহসিন
অন্যদিকে আওয়ামী লীগের নিবেদিত প্রাণ ছিলেন প্রয়াত সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলী। তার অনুসা্রীদের দাবি- সৈয়দা সায়রা মহসিনকে মনোনয়ন দেওয়া হউক। এই পরিবারকে রাজনীতিতে টিকিয়ে রাখতে একজন প্রতিনিধি দরকার বলে তারা মনে করছেন। তবে দলীয় সভানেত্রীর সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন জানিয়ে সৈয়দা সায়রা মহসিন। তিনি বলেন- ‘সৈয়দ মহসিন আলী সারা জীবন মানুষের জন্য কাজ করেছেন। আমিও সেই আদর্শ লালন করি। নেত্রী আমাকে সুযোগ দিলে মানুষের জন্য কাজ করে যাব।’
নাহিদ আহমদ
এদিকে জেলা যুবলীগ সভাপতি এবং সদ্যপ্রয়াত আজিজুর রহমানের ভাতিজা পরিবারের মনোনিত প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে আছেন নাহিদ আহমদ। আজিজুর রহমানের প্রতি যে আবেগ তৃণমূল থেকে কেন্দ্রে রয়েছে তা তাকে প্রার্থী হতে এবং নির্বাচিত হতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
মৌলভীবাজারে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে বটবৃক্ষ ছিলেন আজিজুর রহমান। দলীয় সভানেত্রীর কাছেও একজন সৎ নেতা হিসেবে শ্রদ্ধা ও গ্রহণযোগ্য নেতা ছিলেন এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ। তিনি চিরকুমার থাকায় তার নিজের কোন ছেলে মেয়ে বা স্ত্রী নেই। তার আপন ভাতিজা জেলা যুবলীগ সভাপতি ক্লিন ইমেজের নেতা হিসেবে পরিচিত নাহিদ আহমদ আজিজুর রহমানের উত্তরসূরি হিসেবে তার পরিবার থেকে মনোনয়ন চাইবেন। আজিজুর রহমানের প্রতি সাধারণ মানুষের আবেগ এবং এই পরিবার থেকে বর্তমানে রাজনীতিতে সক্রিয় নাহিদ আহমদের নিজের অবস্থান মিলে শেষ পর্যন্ত দলীয় প্রধানের সুদৃষ্টি তিনি পেতে পারেন বলে প্রচার রয়েছে। সেই সাথে বিভিন্ন উপনির্বাচনের ইতিহাস থেকে দেখা গেছে- প্রয়াত নেতাদের পরিবার থেকেই উত্তসুরি নির্বাচিত করা হয়েছে। যদি মৌলভীবাজারের ক্ষেত্রে দলের চিন্তা এমন হয় সেক্ষেত্রে নাহিদ আহমদের প্রতিদ্বন্ধি কেউ থাকবেনা।
এ বিষয়ে নাহিদ আহমদ বলেন- ‘চাচার হাত ধরেই আমার রাজনীতিতে আসা। চাচার যে আদর্শ ছিল, সেটাই আমাদের শিখিয়েছেন। দল ও দলীয় প্রধানের প্রতি আনুগত্য এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি না করা। আমি চাই চাচার অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করতে। সেই সাথে জনমানুষের সেবার স্থানকে দলীয় অফিস না করে সব স্তরের, সব দলের মানুষের আস্তার জায়গা হিসেবে চাচার তৈরী করা অবস্থান ধরে রাখতে। যদি সুযোগ পাই চাচার মত নৈতিকতা, আস্থা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেই কাজ করে যাব।’
সুয়েল আহমেদ
মনোনয়ন দৌড়ে অংশ নিয়েছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য সুয়েল আহমেদ। তিনিও লবিং করে যাচ্ছেন। করোনাকালীন সংকটে সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করেছেন। এটি তার জন্য পজিটিভ মনে করছেন।
সুয়েল আহমদ বলেন- ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে রেখে আমি নীরবে দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। এতে চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই। যদি নেত্রী মনে করেন আমি যোগ্য ,তাহলে সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করে যাব।
এমএ রহিম (সিআইপি)
আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীর মধ্যে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি, বিগত জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী, সাবেক ব্রিটিশ কাউন্সিলর, শিক্ষানুরাগী, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা এমএ রহিম (সিআইপি)-এর নামও জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে।
আওয়ামী লীগের আরো যাদের নাম শোনা যাচ্ছে
এছাড়াও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুর রহমান বাবুল, মহকুমা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি, প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা ও জাতীয় পরিষদ সদস্য মো. ফিরোজ।


