বঙ্গমাতার প্রতি লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের বিনম্র ও গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন

জুম মিটিংয়ে বায়ান্ন টিভির লুৎফুর রহমান ও তিশা সেনরে অংশ গ্রহণ

এম এ জামান এম এ জামান

বায়ান্ন টিভি

প্রকাশিত: ১:১৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৯, ২০২০ 664 views
শেয়ার করুন

 

 

গভীর ও বিনম্র শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসায় বাংলাদেশ হাই কমিশন, লন্ডন আজ স্মরণ করলো বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের অনুপ্রেরণার একান্ত আশ্রয়, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিণী, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবকে। জুম মিটিংয়ে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে তরুণ প্রজন্ম যোগ দিয়েছেন। এ সভায় যোগ দিয়েছেন বায়ান্ন টিভির সম্পাদক লুৎফুর রহমান ও বার্তা সম্পাদক তিশা সেন।

গতকাল সময় বিকাল ৩টা হতে ৬টা পর্যন্ত (বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা থেকে ১১টা) লন্ডনের কেন্সিংটন রয়েল বারো’র ২৮ কুইন্স গেইটস্হ বাংলাদেশ হাইকমিশনের চ্যান্সেরী ভবনে বঙ্গমাতার ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এক ভার্চুয়াল ওয়েবিনার আয়োজন করা হয়, যার শিরোনাম ছিলো – “Bangamata Sheikh Fazilatunnesa Mujib : A Symbol of Sacrifice, Courage and Duty”। অনলাইন বৈঠকের ফোরাম Zoom এর মাধ্যমে অনুষ্ঠিত এই ওয়েবিনারে বাংলাদেশ থেকে বিশিষ্ট অতিথিবর্গ যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপ ও আয়ারল্যান্ড থেকে বিশিষ্ট প্রবাসী নেতৃবৃন্দ ও বুদ্ধিজীবীগণ এবং বাংলাদেশ হাইকমিশন পরিবারের সকলে এই গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবিনারে অংশগ্রহণ করেন।

ওয়েবিনারে সভাপতিত্ব করেন এবং স্বাগত ভাষণ দেন যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের মান্যবর হাইকমিশনার সাঈদা মুনা তাসনিম। প্রধান অতিথি হিসেবে ঢাকা থেকে যোগদান করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর ও তাঁর রাজনৈতিক সচিব এবং সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একান্ত সচিব, সুপরিচিত অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ডঃ মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। অনুষ্ঠানে অন্যতম অতিথি বক্তা ছিলেন লন্ডন থেকে একুশের অমর সংগীতের রচয়িতা প্রখ্যাত কলামিস্ট-সাংবাদিক আবদুল গাফফার চৌধুরী, এবং ঢাকা থেকে সমকালীন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ লেখক-ঔপন্যাসিক সেলিনা হোসেন। এছাড়াও লন্ডন থেকে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট চিকিৎসক, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের গাইনীকলজিস্ট, লন্ডন প্রবাসী সর্বজনশ্রদ্ধেয় চিকিৎসক ডাঃ হালিমা বেগম আলম। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন লন্ডন প্রবাসী বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতা ও যুক্তরাজ্যে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত ও আন্দোলন সংগঠক সুলতান মাহমুদ শরীফ এবং বিশিষ্ট সমাজকর্মী ও কমিউনিটি সংগঠক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক। বঙ্গমাতাকে নিয়ে এক অনবদ্য কবিতার আবৃত্তি করেন এবং নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করেন লন্ডন প্রবাসী বাংলাদেশী কমিউনিটির বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও টেলিভিশন উপস্থাপক, আবৃত্তিকার উর্মি মজহার।

ওয়েবিনারের শুরুতেই বাংলাদেশ হাই কমিশনের কনফারেন্স হলে দূতাবাসের সকল কূটনীতিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতিতে ঢাকা থেকে প্রেরিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতির বাণী পাঠ করেন বাংলাদেশ হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার মুহাম্মদ জুলকার নাঈন। বঙ্গমাতার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাণী পাঠ করে শোনান বাংলাদেশ হাই কমিশনের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ মাহবুবুর রশিদ এস.পি.পি., এন.ডি.ইউ, পি.এস.সি।

বাণী পাঠের পর বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জীবন, কর্ম এবং সংগ্রামের ওপর মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়, যা উপস্থিত দর্শক-শ্রোতার এবং ওয়েবিনারে যুক্ত প্রায় দেড় শতাধিক সম্মানিত অতিথি কে আবেগাপ্লুত করে।

এরপর মহীয়সী নারী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং পঁচত্তরের এর ১৫ আগস্টের কালরাতে ঘাতকের বুলেটে শাহাদাৎ বরণকারী বঙ্গবন্ধু পরিবারের সকল সদস্যদের আত্মার মাগফিরাত, পারলৌকিক মুক্তি এবং তাঁদের দুই কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানাসহ বাংলাদেশের সর্বাঙ্গীণ মুক্তি, কল্যাণ, উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বের মহামারী করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তির কামনায় পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত ও বিশেষ দোয়া করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রথম সচিব (পাসপোর্ট ও ভিসা) এএফএম ফজলে রাব্বি। অনুষ্ঠান ঘোষণা করেন দূতাবাসের কাউন্সেলর (পলিটিক্যাল) দেওয়ান মাহমুদুল হক। সার্বিক সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেন কাউন্সেলর (পলিটিক্যাল) ও দূতালয় প্রধান স্বদীপ্ত আলম।

ওয়েবিনারে হাই কমিশনের মিনিস্টার (কন্স্যুলার) মোঃ লুৎফুল হাসান, মিনিস্টার (প্রেস) আশিকুন নবী চৌধুরী, মিনিস্টার (পলিটিক্যাল) এ এফ এম জাহিদুল ইসলাম, কমার্শিয়াল কাউন্সেলর এস এম জাকারিয়া হক, সহকারী প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট কর্নেল সোহেল আহমেদ, প্রথম সচিব (পলিটিক্যাল) মাহফুজা সুলতানা, প্রথম সচিব (পলিটিক্যাল) মোঃ মনিরুল হক, এ্যটাশে (কন্স্যুলার) এইচ এম ফয়সাল আহমেদ এবং সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। হাই কমিশনের কূটনীতিকবৃন্দের সহধর্মিনীগণও Zoom অ্যাপের মাধ্যমে এই ওয়েবিনারে যোগদান করেন।

স্বাগত বক্তব্যে বঙ্গমাতার প্রতি বিনম্র ও গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের মান্যবর হাইকমিশনার সাঈদা মুনা তাসনিম বলেন, “বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ছিলেন বাঙালি জাতির অধিকার আদায়ের সংগ্রামে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একজন সুযোগ্য ছায়াসঙ্গী, বিশ্বস্ত সহচর এবং বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের সহযোদ্ধা। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সংগ্রামে প্রতিটি পর্যায়ে – সেই বাহান্নর ভাষা আন্দোলন ৫৪’র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন ৬৬’র ছয় দফা দাবী, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ও সর্বোপরি ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে তথা প্রতিটি সংগ্রামেই তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধুর আশা-ভরসার স্থল, মমতার আশ্রয় এবং সকল অনুপ্রেরণার উৎস। তাঁর সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বঙ্গবন্ধু যে দীর্ঘ সময় কারাবরণ করেছেন, সেই কঠিন সময়গুলোতে তিনি সুযোগ্য সহধর্মিনী ও ছায়া সঙ্গীর মতো বঙ্গবন্ধুর জেল থেকে পাওয়া নির্দেশনা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।”

তিনি আরো বলেন “মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ এর ২৫শে মার্চের কাল রাতের পর মুক্তিযুদ্ধের পুরোটা সময় জুড়েই যখন বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানীদের হাতে কারাবন্দি, তখনো অসীম সাহস ত্যাগ তিতিক্ষা আর দৃঢ় মনোবলের দ্বারা তিনি নিজের দুই পুত্র সন্তান কে যুদ্ধের ময়দানে প্রেরণ করেছেন। আর ছোট পুত্র এবং তাঁদের দুই কন্যাকে নিয়ে সংগ্রাম ও প্রার্থনারত থেকেছেন দেশ ও জাতির মুক্তি কামনায়, বঙ্গবন্ধুর মুক্তি কামনায়। মায়ের পরম স্নেহে, ভালোবাসায়, তিনি নিজের পরিবারকে এবং দেশ ও জাতিকে স্বাধীন সার্বভৌম অস্তিত্বের সন্ধানে পৌঁছে দিতে রেখেছেন পর্বতপ্রমাণ ঐতিহাসিক ভূমিকা। তাইতো তিনি আমাদের বঙ্গমাতা।”

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী এবং বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর তোফায়েল আহমেদ সংগ্রামমুখর দিনগুলোতে বঙ্গবন্ধুর প্রতি, দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি এবং সর্বোপরি বাংলাদেশের প্রতি বঙ্গমাতার অপরিসীম অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় পাকিস্তানিদের কূটচালে বঙ্গবন্ধুকে প্যারোলে মুক্তি দেয়ার প্রস্তাব মেনে না নেয়ার জন্য দৃঢ়চিত্তে অবিচল থাকার সুচিন্তিত পরামর্শ দিয়েছিলেন বঙ্গমাতা। এবং বঙ্গবন্ধুর তাঁর পরামর্শ গ্রহণ করেছিলেন। তার সেই পরামর্শে ই বাংলার জনগণের অধিকারের দাবিতে সোচ্চার থেকে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানীদের প্রস্তাব ঘৃণা ভরে প্রত্যাখ্যান করেন। সত্য উন্মোচিত হয় এবং অচিরেই গণদাবির কাছে মাথা নত করে মিথ্যা আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধুসহ সকল রাজবন্দীকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে বাধ্য হয় পাকিস্তানি সামরিক জান্তা। এরপরই শেখ মুজিবুর রহমানকে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করে বাংলার ছাত্র-জনতা। ঐতিহাসিক এই মাত্র খানের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকতে পেরে তিনি যে গর্বিত উল্লেখ করে প্রবীণ নেতা তোফায়েল আহমেদ বলেন, বঙ্গমাতার একটি দূরদর্শী ও সুচিন্তিত পরামর্শের কারণেই হয়তো বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতি তার ইতিহাসের ভাগ্যরেখা পরিবর্তন করে বঙ্গবন্ধুর অবিচল নেতৃত্বে পেয়েছিলো এক স্বাধীন মানচিত্রের দিশা। কারাগারে বসে নিঃসঙ্গ বন্দীত্বের সময়গুলোতে আত্মজীবনী লেখার পরামর্শ বঙ্গবন্ধুকে দিয়েছিলেন বঙ্গমাতা। ফলস্বরূপ আমরা পেয়েছি দুটো ঐতিহাসিক প্রামাণ্য গ্রন্থ – বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ এবং ‘কারাগারের রোজনামচা’। তিনি নিজেও বঙ্গবন্ধুর এই দুটি অমূল্য গ্রন্থের এক ভক্ত অনুরক্ত পাঠক বলে জানান প্রবীণ নেতা, সাবেক বানণিজ্যমন্ত্রী, তোফায়েল আহমেদ। এ আয়োজন এর জন্য তিনি বাংলাদেশ হাইকমিশন, লন্ডনকে, বিশেষভাবে, মান্যবর হাইকমিশনারকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি, রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একান্ত সচিব (পি.এস.) ডঃ মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, বঙ্গমাতা কেবলমাত্র স্বাধীনতা সংগ্রামেই নয়, স্বাধীন সার্বভৌম দেশেও আরো ত্যাগী ও মহিমাময় অবদান রাখেন। বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সঞ্চিত সম্পদ নিজেদের জন্য ব্যবহার না করে সদ্য স্বাধীন দেশের পূনর্গঠনের মহতি লক্ষ্য নিয়ে মানুষের জন্য অকাতরে বিলিয়ে দেন এবং নিজেদের সব সম্পদ তিনি সরকারি তোষাখানায় জমা দিয়েছিলেন, যা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।

প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক ও লেখক সেলিনা হোসেন বঙ্গমাতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, তাঁর জীবন ও সংগ্রামের কাহিনী এবং নারী অধিকার ও নারীমুক্তির ক্ষেত্রে তাঁর বিশেষ অবদান বাঙালির জীবনে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।। তাই তিনি নিজে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে অনুরোধ জানিয়েছেন যেন বঙ্গমাতার ওপর একটি বিশেষ কোর্স ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন এ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ ডিপার্টমেন্টের পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

যুক্তরাজ্য প্রবাসী প্রথিতযশা চিকিৎসক ও সমাজকর্মী ডাক্তার হালিমা বেগম আলম বঙ্গমাতার প্রতি তাঁর একান্ত শ্রদ্ধা নিবেদন করে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, বঙ্গমাতার কনিষ্ঠা কন্যা শেখ রেহানার জন্মের সময় বঙ্গমাতার পাশে নিবিড় সান্নিধ্যে থাকার ও সেবা করার সুযোগ তাঁর হয়েছিলো। তাঁর মতো সাহসী এবং দৃঢ়চেতা নারী তিনি পৃথিবীতে আর দেখেনি। বঙ্গমাতার সেবা করার সেই সুযোগ তাঁর জীবনের অন্যতম স্মরণীয় স্মৃতি এবং সৃষ্টিকর্তার বিশেষ রহমত বলে উল্লেখ করে ডাক্তার হালিমা আবেগাপ্লুত ও স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন, যা ওয়েবিনারে অংশগ্রহণকারী সকলকেই গভীরভাবে আবিষ্ট করে।

বঙ্গমাতার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে কিংবদন্তী একুশের অমর গানের রচয়িতা, লন্ডন প্রবাসী সাংবাদিক-কলামিস্ট আব্দুল গাফফার চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু যেমন সমার্থক তেমনি বঙ্গবন্ধু এবং বঙ্গমাতা তেমনই সমার্থক। বাংলাদেশের ইতিহাসের সাথে বঙ্গবন্ধুর মতোই তিনিও আঁষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছেন। তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করেন প্রথিতযশা প্রবীণ এই কলামিস্ট।

বঙ্গমাতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বিশিষ্ট কমিউটি নেতা এবং যুক্তরাজ্যে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক সুলতান মাহমুদ শরিফ বলেন, এ আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশ হাইকমিশন বঙ্গমাতার প্রতি এক ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেছে।

জাতির অন্যতম অভিভাবক, মহীয়সী নারী এবং বঙ্গবন্ধুর ছায়াসঙ্গী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের স্মরণে এই ওয়েবিনার আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ হাইকমিশনকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান যুক্তরাজ্য প্রবাসী কমিউনিটি নেতা ও বিশিষ্ট সমাজকর্মী সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক।

বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড, ইউরোপ এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা ভক্তরা এবং আমন্ত্রিত অতিথিগণ এই ওয়েবিনারে যোগদান করেন। আলোচনা এতটাই প্রাণবন্ত ও তথ্যবহুল এবং উপভোগ্য ছিল যে ঘন্টার নির্ধারিত অনুষ্ঠান প্রায় সাড়ে তিন ঘন্টা পর্যন্ত চলে। অংশগ্রহণকারী সকলেরই আলোচনায় বক্তব্য রাখার সুযোগ না থাকলেও ইনবক্সে টেক্সট করে তাঁরা বাংলাদেশ হাইকমিশনের এ উদ্যোগের ব্যাপক প্রশংসা করেন এবং বঙ্গমাতার প্রতি বিনম্র ও গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।