বুধবার শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদের ৭১তম জন্মদিন উপলক্ষে গোটা সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে সকল স্তরের, শ্রেণী ও পেশার লোক অভিনন্দন জানিয়েছেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাত গঠনের পরে ১৯৭১ সালে দেশের বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং দুবাইয়ের শাসক আমিরাতের প্রথম প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হন। পরে শেখ মোহাম্মদ তার বড় ভাই শেখ মাকতুমের মৃত্যুর পরে ২০০৬ সালে দুবাইয়ের শাসক ঘোষিত হন। এর পর থেকে তিনি দুবাইকে একটি বৈশ্বিক পর্যটন কেন্দ্র এবং ব্যবসায়ের কেন্দ্রবিন্দুতে রূপান্তরিত করে তাঁর পিতা শেখ রশিদ বিন সাঈদ আল মাকতুমের কাজ অব্যাহত রেখেছেন। এবং এই কারণেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স শেখ হামদান বিন মোহাম্মদ এবং বাসিন্দারা শেখ মোহাম্মদকে জন্মদিনে শ্রদ্ধা জানাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে “জাতির গর্ব” এবং আমিরাতীদের “প্রজন্মের অনুপ্রেরণা” হিসাবে আখ্যায়িত করে প্রশংসা ও করেছেন। নানা মন্ত্রণালয় থেকেও তাঁকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়।
ছোটবেলা থেকেই শেখ মোহাম্মদের নেতৃত্বের পথের রুপদান হয়েছিল। ছোটবেলা থেকেই যেন ব্যক্তিত্বে ছিল এক মহান নেতার ছাপ। চার বছর বয়সে তিনি প্রাইভেটে আরবী ও ইসলামিক বিষয়ে শিক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি ছয় বছর বয়সে আনুষ্ঠানিক পড়াশোনা শুরু করেছিলেন এবং ১১ বছর পরে, তিনি ক্যামব্রিজের একটি ইংরেজি ভাষার স্কুলে পড়াশোনা করেন, যেখানে তিনি একটি স্থানীয় পরিবারের সাথে উঠেন এবং সাপ্তাহিক ব্যয় ভাতা হিসাবে £২ দেওয়া হতো, যেটা বর্তমানের কারেন্সী রেট অনুযায়ী প্রায় ১৬৫ দিরহাম এর সমতুল্য।
শেখ মোহাম্মদের পড়াশোনা ছোট পরিবর্তন ঘটিয়েছিল যখন তিনি অ্যালডারশটে একটি ক্যাডেট স্কুলে ভর্তি হন যেটি পরবর্তীতে স্যান্ডহার্স্টের অংশে পরিণত হয়েছিল। সেখানে তিনি পাইলট হতে প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য ইতালি যাওয়ার আগে শীর্ষ কমনওয়েলথের ছাত্র হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেন।
যুবক হিসাবে, তার বাবার ব্যবসায়িক নীতি ও কাজ কে সবচেয়ে কাছ থেকে দেখেছেন যখন মুক্তো শিল্পের পতনের পরে এবং তেল আবিষ্কারের আগে দুবাইকে বাণিজ্যিক ও বাণিজ্য কেন্দ্র হিসাবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন উনি।
এই সকল শিক্ষা এবং সামরিক প্রশিক্ষণের শক্তি ও সাহস মিলিয়ে তৈরী হয়েছিল এক সময়ের আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ও বর্তমান আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও দুবাইয়ের শাসক মহামান্য শেখ মহম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুম।
কিশোর বয়সে শেখ মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুম সাফল্যের গল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের মুখোমুখি হয়েছিলেন যেটি যেটি হচ্ছে বর্তমান আমিরাতের গঠনের সময়কার একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।
১৯৬৮ সালের জানুয়ারিতে, ১৯ বছর বয়সে তিনি তার বাবার সাথে দুবাই ও আবুধাবির মধ্যবর্তী প্রান্তরে, একটি মরুভূমির মাঝে শেখ জায়েদের সাথে আমিরাতের সকল রাজ্যের মধ্যে ইউনিয়ন গঠনে সম্মতি জানাতে সাক্ষাত করতে এসেছিলেন।
এদিকে, তাঁর জন্মদিনে সংযুক্ত আরব আমিরাত বসবাসরত বাংলাদেশিরা মুভেচ্ছা জানিয়েছেন। করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ এবং দেশটিতে থাকা নাগরিকেদের নিরাপত্তার জন্য তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশি কমিউনিটি দুবাইয়ের শাসকের দীর্ঘ জীবন কামনা করে তাঁর নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন।
সূত্র: দি ন্যাশনাল


