সুনামগঞ্জের ১২ জনের পরিচয় শনাক্ত, হৃদয় পালের পাসপোর্ট মিলল মিশরের উপকূলে
ইয়াকুব শাহরিয়ার, ইয়াকুব শাহরিয়ার,
নিজস্ব প্রতিবেদক
লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিস যাওয়ার পথে মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলে উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে সুনামগঞ্জের ১২ জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। তবে একই নৌকায় থাকা সুনামগঞ্জের যুবক হৃদয় পালের পাসপোর্ট মিশরের উপকূলে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়ায় তাকে নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলে উদ্ধার হওয়া ২৯ বাংলাদেশির মধ্যে ২৭ জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে সুনামগঞ্জের ১২ জন রয়েছেন। তারা সুস্থ হয়ে বর্তমানে স্থানীয় পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। আরও দুই বাংলাদেশি মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
সুনামগঞ্জের শনাক্ত হওয়া ১২ জন হলেন—তায়েবুর রহমান, মো. মাহফুজ মিয়া, মো. লোহানী আহমেদ, বদর উদ্দিন, সোহেল মিয়া, মো. হোসাইন আহমেদ, আলিম উদ্দিন, সাব্বির হোসেন তালহা, এনাম উদ্দিন, আবু সাঈদ এয়াহিয়া, আব্দুল করিম ও মো. মামুন খান। তাদের মধ্যে আব্দুল করিম জীবিত উদ্ধার হওয়া সহযাত্রীদের একজন।
দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট মানবপাচার চক্রের সহায়তায় লিবিয়ার তবুক এলাকা থেকে বাংলাদেশিসহ অভিবাসনপ্রত্যাশীরা নৌকায় করে গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা করেন। ভূমধ্যসাগরে নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে গেলে সেটি দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ে। প্রায় ১০ দিন সাগরে ভাসমান থাকার পর ১৩ আগস্ট নৌকাটি মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলে পৌঁছায়। পরে অসুস্থ ও অচেতন অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
জীবিত উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নৌকাটিতে থাকা আরও নয় বাংলাদেশি সাগরে মারা গেছেন। তাদের মরদেহ সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সুনামগঞ্জের আব্দুল করিম।
এদিকে, নৌকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া তিনটি পাসপোর্টের মধ্যে একটি ছিল সুনামগঞ্জের হৃদয় পালের। এছাড়া শামীম আহমেদ ও হাবিব উল্লাহর জাতীয় পরিচয়পত্র এবং মো. হাবিব উল্লাহ ও নুর আলমের পাসপোর্টও পাওয়া গেছে।
হৃদয় পাল সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাগলা শত্রুমর্দন পালপাড়ার রন্টু চন্দ্র পালের ছেলে এবং পাগলা সরকারি মডেল হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। গত ৩ আগস্ট লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রার পর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। মিশরের উপকূলে তার পাসপোর্ট পাওয়া যাওয়ায় পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মিশরে বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, সাগরে নিখোঁজ নয় বাংলাদেশির পরিচয় নিশ্চিত করতে জীবিত উদ্ধার হওয়া সহযাত্রীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া জরুরি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সাক্ষাৎকার গ্রহণের সুযোগ দেওয়ার জন্য ইতোমধ্যে অনুরোধ করা হয়েছে।
দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি (শ্রম) মো. জাকির হোসেন জানিয়েছেন, মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করা এবং নিখোঁজ বাংলাদেশিদের নাম-পরিচয় ও ঠিকানা যাচাইয়ের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে আটক বাংলাদেশিদের আইনগত প্রক্রিয়া শেষে দেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তথ্য সূত্র: আরটিভি অনলাইন


