সিলেটে আমব্রেলার “পরিবেশ প্রেমী অ্যাওয়ার্ড ২০২২” প্রদান

মাহবুব জয়নুল মাহবুব জয়নুল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৬:১৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৯, ২০২২ 291 views
শেয়ার করুন

আমব্রেলা ইয়ুথ ফাউন্ডেশন পরিবেশের খাদ্য হিসেবে গাছ উপহার দিতে দ্বিতীয়বারের মতো ‘পরিবেশপ্রেমী অ্যাওয়ার্ড ২০২২’ প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে প্রদান করা হয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের পশ্চিম বঙ্গের কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে।

পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে আমব্রেলা ইয়ুথ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজন করে আসছে৷ তারই ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয়বারের মতো দেশব্যাপি গাছ লাগানোর প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। 

 শনিবার (৮ অক্টোবর) রাতে নগরের বন্দরবাজারস্থ একটি অভিজাত হোটেলের হলরুমে ‘পরিবেশপ্রেমী অ্যাওয়ার্ড ২০২২’ প্রদানের মাধ্যমে এই কর্মসূচির সফল সমাপ্ত হয়। 

এবার দেশ বিদেশে বাংলাদেশের প্রকৃতি ও পরিবেশ নিয়ে কাজ করা দুইজন ব্যক্তি ও একটি সংগঠনকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে৷ সোস্যাল ও ক্লাইমেট একটিভিস্ট এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন এর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য, সিলেট কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম, পরিবেশপ্রেমী অ্যাওয়ার্ড ২০২২ এর কি-নোট স্পিকার ও জাতিসংঘের শিশু স্পীকার এবং চাইলএন্ডডি এর ফাউন্ডার ফাতিহা আয়াত, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দ্বারা পরিচালিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন প্রাধিকারকে এই বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।

প্রতিযোগিতার মাধ্যমে গাছ লাগিয়ে আমব্রেলা কর্তৃক দেশসেরা পরিবেশপ্রেমী সংগঠন হয়েছে খুলনা বিভাগের সাতক্ষীরার শরুব ইয়ুথ টিম, দ্বিতীয় হয়েছে কুমিল্লার চান্দিনা গার্ডেন লাভার্স সোসাইটি এবং তৃতীয় পুরষ্কার লাভ করেছে রংপুর বিভাগের ঠাকুরগাঁও এর অক্সিজেন স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন। 

 

এছাড়া বিভাগীয় সেরা হিসেবে খুলনা বিভাগ থেকে অভয়ারণ্য , ঢাকা বিভাগ থেকে বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল প্রটেকশন অথোরিটি (বেপা), চট্রগ্রাম বিভাগ থেকে ওয়ানম্যান আর্মি, রংপুর বিভাগ থেকে ব্রাইট হিউমেনিটি , ময়মনসিংহ বিভাগ থেকে স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন রাঙ্গামাটিয়া , সিলেট বিভাগ থেকে ফেয়ার ফেইস জগন্নাথপুর, রাজশাহী বিভাগ থেকে স্বপ্নচূড়াকে “পরিবেশে প্রেমী অ্যাওয়ার্ড-২০২২” প্রদান করা হয় এবার।

 

এমনকি পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত অংশগ্রহণকারি সকল সংগঠনকে ‘ফ্রেন্ড অব এনভায়রনমেন্ট’ হিসেবে অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়৷ অ্যাওয়ার্ড এর পাশাপাশি সকল সংগঠনকে সনদপত্র প্রদান করা হয়।

গাছ লাগানোর প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারি সকল সংগঠনকে ‘ফ্রেন্ড অব এনভায়রনমেন্ট’ হিসেবে সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়৷ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আমব্রেলার উপদেষ্টা এবং ক্রাউন সিমেন্ট ডিস্ট্রিক্ট ইনচার্জ (সিলেট-সুনামগঞ্জ) ইকবাল হোসাইন।

প্রধান অতিথির বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক, সিলেট রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি ( ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট এন্ড অপারেশন) এম এ জলিল ৷ বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ছামির মাহমুদ,

 

পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থা এর সভাপতি কাশ্মীর রেজা প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আমব্রেলার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. বাদশা মিয়া।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আমব্রেলার উপদেষ্টা, হিউম্যানেটারিয়ান প্রফেশনাল এবং ডেনিশ রিফিউজি কাউন্সিল, কক্সবাজার, বাংলাদেশের টিম লিডার আতিক রহমান।

 

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বিশ্বব্যাপি প্রাকৃতিক দূর্যোগ সৃষ্টির অন্যতম কারণ বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তন৷ যা একেবারেই নির্মূল করা সম্ভব না হলেও পরিবেশের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে এর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক, সিলেট রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি ( ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট এন্ড অপারেশন) এম এ জলিল বলেন, দেশের ৩০ টি জেলার পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা আজ এক মঞ্চে দাঁড়িয়ে পরিবেশ রক্ষায় একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার করছেন এটা আমাদের জন্য অনেক আশার কথা। 

বাংলাদেশে বর্ষা মৌসুমে গাছ লাগানোর উৎকৃষ্ট সময়৷ তাই বর্ষা ঋতুকে উপলক্ষ করে আমব্রেলা ইয়ুথ ফাউন্ডেশন স্বেচ্ছাসেবী পরিবার পরিবেশের খাদ্য হিসেবে গাছ উপহার দিতে প্রতিবছর মাসব্যাপি ‘পরিবেশপ্রেমী অ্যাওয়ার্ড ২০২২’ প্রজেক্ট শুরু করে।

 এবছর দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের পশ্চিম বঙ্গের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে।

 

আমব্রেলার ফাউন্ডার ও সভাপতি মো. বাদশা মিয়া জানান, সম্প্রতি ভয়াবহ বন্যায় একটি বিষয় সকলের মনে দাগ কেটেছে যে, ‘মানুষ মানুষের জন্য’ এই ভাবধারায় উদ্ভুদ্ধ হয়ে বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছেন আমব্রেলা পরিবারের স্বেচ্ছাসেবীরা৷ খাবার দেয়া থেকে শুরু করে ঘরবাড়ি বানিয়ে দেয়া অব্যাহত রাখা হয়৷ যেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠক বা সংগঠন আছেন সম্মুখভাগে।

একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হিসেবে আমরাও মানুষের সেবায় আমাদের কাজ অব্যাহত রেখেছি৷ তবে আমরা মানুষকে খাদ্য দেয়ার পাশাপাশি প্রকৃতির খাদ্য হিসেবে আমাদের দ্বারা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবেশকে গাছ উপহার দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলাম৷ এটি এখন একটি সফল ও বৃহৎ উদ্যোগ হিসেবে দেশব্যাপি প্রশংসা পাচ্ছে।