মানুষের ব্যবহার পরিবারসহ সমাজকে আলোকিত করে

প্রকাশিত: ৮:০৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৩, ২০২১ 177 views
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের জাতি-ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে দলমতের সাংস্কৃতিক পার্থক্যকে ইসলাম স্বীকৃতি দিয়েছে এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার বিভিন্ন পর্যায়ে সর্বজনীন শিষ্টাচার বা আদব-কায়দার সাধারণ মূলনীতি অনুসরণের দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে। ইমানের অন্যতম নিদর্শন কোমল ও সুন্দর নমনীয় আচরণের মাধ্যমে পরিস্ফুটিত হয়। স্বভাবে যে ভদ্রলোক কোমল, আচরণে যেজন মার্জিত; সে-ই সবার কাছে সমানভাবে স্বীকৃত ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব হয়।

স্বভাবসুলভ কোমলতা মানুষকে মহীয়ান করে। তাঁর সুমহান চরিত্র শোভায় আলোকিত শান্তির ধর্মের নীতি-নৈতিকতার আদর্শের কাছে দলে দলে অমুসলিমরা সমবেত হয়ে ইসলামের পতাকাতলে আশ্রয় নিয়েছিল। নবী করিম (সা.) সব সময় মানুষের সঙ্গে কোমল ও সদাচরণ করে স্বয়ং উম্মতকে সৃষ্টিজগৎ তথা পরিবার-পরিজনের সঙ্গে নমনীয়তা প্রদর্শনের শিক্ষা দিয়ে বলেছেন, ‘সমস্ত সৃষ্টি আল্লাহর পরিবারভুক্ত, সুতরাং সৃষ্টির মধ্যে উত্তম ওই ব্যক্তি যে আল্লাহর পরিবারভুক্তদের প্রতি সদাচার করে তথা দয়াপরবশ হয়।’

(মিশকাত) কোনো ধরনের লাভের ইচ্ছায় নয় আবার ভয়ের আশঙ্কায়ও নয়; শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের প্রত্যাশায় কোমল ও নমনীয় আচরণের অধিকারী হওয়া প্রত্যেক মুমিনের স্বভাবজাত কর্তব্য। আচরণগতভাবে হৃদ্যতা ও সম্প্রীতির মাধ্যমে মানুষে মানুষে বন্ধুত্বের অবস্থান সুদৃঢ় হয়, শত্রুতা দূরীভূত হয় এবং জনগণের উপকার করার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। পক্ষান্তরে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে ব্যক্তিজীবনের প্রতিটি পদপ্রান্তে আচরণগত উগ্রতা ও কঠোরতা মানুষকে প্রচণ্ড ব্যথিত করে। তাই কোমল ও নমনীয় আচরণ সমাজে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও শান্তিপূর্ণ সহ-অবস্থানের জন্য একান্ত অপরিহার্য।

দেশ গঠনের কাজে উপযুক্ত হওয়ার জন্য সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব হওয়া প্রয়োজন। পৃথিবীকে গড়ার আগে সবার আগে নিজেকে কোমল ও নমনীয় স্বভাবে গড়ে তুলতে হবে। সহনশীলতার প্রচণ্ড অভাব মানুষের জীবনের মূল্যায়ন বিনষ্ট করে দেয়। শুধু মানুষ হিসেবে জাতি-গোষ্ঠী, দলমত-নির্বিশেষে যদি কোমলতা ও নমনীয়তার মাধ্যমে মানবতার কল্যাণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান করা যায়, তাহলে তার সুফল আসে বলপ্রয়োগ ও কঠোর ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রাপ্য থেকে আশাতীত বেশি। কেননা, মানব চরিত্রের অপরিহার্য গুণ কোমলতা ও নমনীয়তা থাকাই মনুষ্যত্বের পরিচায়ক। কোমল স্বভাবের লোকদের সবাই আপন করে নেয় এবং তাদের শত্রুও কম থাকে। ঘোরতর শত্রুরা তার উদারতা ও কোমলতার কাছে হার মানতে বাধ্য হয়। জগৎজুড়ে শ্রদ্ধাভরে যাদের স্মরণ করা হয় তারা প্রত্যেকেই ছিলেন এমনি সদ্গুণে গুণান্বিত।

ভদ্র, মার্জিত, কোমল ও নমনীয় আচরণ মানবিকতার পরিচয় বিকাশের অনুপম ভূষণ। একজন মুসলমান হিসেবে প্রত্যেকের উচিত ইমানের দাবি অনুযায়ী তার স্বভাব-চরিত্রে কোমলতা ও নমনীয়তা আনয়ন করা। তাই কোমল আচরণের অধিকারী হয়ে কঠোরতা ত্যাগে নমনীয়তার মাধ্যমেই সামাজিক শান্তি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনে সচেষ্ট হওয়া বাঞ্ছনীয়।

সীমাবদ্ধতা ও অপারগতার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে ঔদ্ধত্যপূর্ণ অসদাচরণ থেকে বেঁচে থাকার নির্দেশ প্রদান করে ঘোষিত হয়েছে, ‘পৃথিবীতে দম্ভভরে বিচরণ কোরো না; তুমি তো কখনোই পদভরে ভূপৃষ্ঠকে বিদীর্ণ করতে পারবে না এবং উচ্চতায় তুমি কখনোই পর্বত-প্রমাণ হতে পারবে না। এসবের মধ্যে যেগুলো মন্দ, সেগুলো তোমার প্রতিপালকের কাছে ঘৃণ্য।’ (সূরা বনি ইসরাইল, আয়াত: ৩৭-৩৮) মানুষের আচার-আচরণ মার্জিত, শালীন ও ভদ্রোচিত হওয়ার প্রতি ইসলাম জোরালো তাগিদ প্রদান করেছে। তাই মুসলমানদের অবশ্যই ইসলামি জীবনাচরণ বিধিমালার আলোকে কোমলতর স্বভাব-চরিত্র গঠন করতে হবে।

কোনো মানুষ যেন অযথা ভিন্ন দলমতের কারও সঙ্গে অসদাচরণ বা কঠোর ব্যবহার না করে। মানুষের আচার-ব্যবহার ও চলাচলের যেসব বিষয় থেকে গর্ব ও অহংকার ফুটে ওঠে, সেগুলো বৈধ কাজ নয়। অহংকার প্রকৃত পক্ষে মানুষের অন্তরের একটি কবিরা গুনাহ। সুতরাং অর্জিত শোভন আচরণের মাধ্যমেই মানুষ পৌঁছে যায় সম্পর্কের সর্বত্রই অনন্য উচ্ছতায়।