রটেন বারা ও কাটিং বারার দুর্নাম ঘুচাতে ৬ মে লিডার ও কেবিনেট মডেলে ভোট প্রদানের আহ্বান জানিয়ে টাওয়ার হ্যামলেটস এ সংবাদ সম্মেলন

এম এ জামান এম এ জামান

বায়ান্ন টিভি

প্রকাশিত: ৩:০২ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২৪, ২০২১ 158 views
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলকে রটেন বারা ও কাটিং বারার অপবাদ ঘুচিয়ে “বিকন এওয়ার্ড” বিজয়ী লিডার ও কেবিনেট মডেল পদ্ধতি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে টাওয়ার হ্যামলেটস এর বাসিন্দাদের আহ্বান জানিয়েছে লিডার ও কেবিনেট মডেল সমর্থক গোষ্ঠী “আমরা টাওয়ার হ্যামলেটস বাসি”। তারা আগামী ৬ মে’র রেফারেন্ডামে দ্বিতীয় অপশন তথা “বাই দ্যা লিডার” এর পার্শ্ববর্তী ঘরে ক্রস চিহ্ন দিয়ে জনগণের ক্ষমতায়ন ও অধিকার আদায়ের প্রচেষ্টায় শামিল হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান।

২৩ এপ্রিল শুক্রবার বেলা আড়াইটায় লন্ডনের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাথে আয়োজিত পুর্ব নির্ধারিত এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানানো হয়। সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাবেক স্পিকার ও কাউন্সিলার খালেস উদ্দিন আহমদ। এসময় তাঁর বক্তব্য সমর্থন করে বক্তব্য রাখেন লিবডেম পার্টির কাউন্সিলার সাবেক মেয়র পদপ্রার্থী কাউন্সিলার রাবিনা খাঁন, কাউন্সিলার রেইচেল সন্ড্রাস, স্টেপেনি ইটন, কাউন্সিলার আমিনা আলী ও কাউন্সিলার আসমা ইসলাম। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সাবেক লিডার হেলাল আব্বাস, কাউন্সিলার তারেক খাঁন, কাউন্সিলার এহতেশাম হক, কাউন্সিলার সাবিনা আক্তার ও কাউন্সিলার শাহ সোহেল আমিন।

সম্মেলনে মেয়র পদ্ধতির সমালোচনা করে বলা হয় টাওয়ারে হ্যামলেটস এর জনগণ বিগত ১০ বছরে তিক্ত অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। মেয়র পদ্ধতির প্রথম পাঁচ বছরে টাওয়ার হ্যামলেটস পেয়েছে রটেন বারার অপবাদ, মেয়রের উপর নজরদারি করার জন্য নিয়োগ কৃত কমিশনারদের জন্য গুনতে হয়েছে বিশাল অংকের টেক্স পেয়ারের অর্থ। অর্জন করেছে ইলেকশন ইন্জিনিয়ারিং এর অপবাদ এবং একই কারনে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য হবার নজিরও রয়েছে সাবেক একজন মেয়রের।
তাছাড়া বিগত পাঁচ বছরে টাওয়ার হ্যামলেটস কাটিং বারায় পরিনত হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের সংকোচন নীতির দোহাই দিয়ে জনগণকে বিভিন্ন অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। লিভএবল স্ট্রিটের নামে রাস্তাঘাটে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, সিএলএস ও ডে-কেয়ারের ফান্ডিং কাট এবং বাস লেন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা সহ অনেক বিষয় এর অন্তর্ভুক্ত।

এসব কিছু  সম্ভব হয়েছে মেয়র পদ্ধতির শাসন বিদ্যমান থাকায়। এই পদ্ধতির শাসনে এক ব্যক্তির নির্বাহী ক্ষমতা তাকে স্বৈরশাসকে পরিনত করে। এই পদ্ধতির শাসনে জনগণের দাবি বা তাদের প্রতিনিধি কাউন্সিলারদের দাবি উপেক্ষিত হয় বা তাদের দাবি মানতে মেয়র বাধ্য নয়।

সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয় আদালত কর্তৃক অপসারিত সাবেক একজন মেয়রের রেকমেন্ডেশনে ২০১১ সালে বাউন্ডারি কমিশন কাউন্সিলারের সংখ্যা ৫১ থেকে নামিয়ে ৪৫ করা হয়। অথচ টাওয়ার হ্যামলেটস এ প্রতিনিয়ত জনসংখ্যা বেড়েই চলেছে। তাছাড়া পার্শ্ববর্তী নিউহাম বারায় রয়েছে ৬০ জন কাউন্সিলার।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয় লন্ডনের ৩২ টি বারার মধ্যে মাত্র ৪ টি বারায় নির্বাহী মেয়র পদ্ধতি বিদ্যমান। টাওয়ার হ্যামলেটস ও নিউহাম কাউন্সিলে নির্বাহী মেয়রের এই পদ্ধতি পরিবর্তনের দাবির মুখে ৬ মে রেফারেন্ডাম অনুষ্ঠিত হবে।

তারা আরো বলেন সার্বিক পর্যালোচনায় নির্বাহী মেয়র পদ্ধতি ব্যার্থ ও বিতর্কিত। পক্ষান্তরে লিডার ও কেবিনেট মডেল কমিউনিটি বান্ধব, জনগণের ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী এবং যেকোন সময় লিডার পরিবর্তন করার সুযোগ থাকে। তাই তাঁরা কমিউনিটির ক্ষমতায়নে ৬ মে’র রেফারেন্ডামে দ্বিতীয় অপশনে ভোট দেয়ার জন্য পুনরায় আহ্বান জানান।
ভার্চুয়াল এই সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে যুক্ত ছিলেন পপলার লাইম হাউজ লেবার পার্টির সেক্রেটারি আসরা আনজুম, কাউন্সিলার আসমা বেগম, কমিউনিটি নেতা আবুল হোসেন, মশতাক আহমদ আসকর ও ব্যবসায়ী আশিক রহমান প্রমুখ।