সরকারি সহায়তার জন্য অপেক্ষা করলেও এখনো মেলেনি কোন আশ্বাস। করোনা আর বন্যায় এই তাঁত শিল্পে যে ক্ষতি হয়েছে তা পুসিয়ে উঠতে সরকারের সহযোগীতার হাত বারাবে এমনটাই প্রত্যাশা করছেন তাঁত শ্রমিক ও মালিকরা। করোনা ভাইরাসের প্রকট আর বন্যার পানি কমে তাঁত কারখানা থেকে নেমে গেলেও কাঁদা মাটি ও মাকড়সার জালে আটকে তাঁত কুঞ্জ সিরাজগঞ্জের এই তাঁত গুলো। বন্যার পানি ওঠায় মাসাধিকাল বন্ধ থাকায় তাঁত সহ তাতেঁর কাঁচামাল নষ্ট হয়ে গেছে অনেক আগেই। তাই নতুন করে আবার শুরু করার পুজির অভাবে অনেক কারখানাই এখন বন্ধ।
আকস্মিকভাবে বন্যার পানিতে সিরাজগঞ্জের সদর, বেলকুচি, চৌহালী, এনায়েতপুর,উল্লাপাড়া ও শাহজাদপুর উপজেলার তাঁত পল্লী গুলোতে পানি প্রবেশ করায় তলিয়ে ছিলো ছোট বড় প্রায় আট শতাধিক তাঁত শিল্পের কারখানার প্রায় অর্ধ লাখ তাঁত। যমুনা নদীতে পানি কমায় তাঁত কারখান থেকে পানি সরে গেছে ঠিকই কিন্তু তাঁত ঘরের বেহাল দশায় দিশেহারা তাঁত মালিকেরা। বিশ্ব ব্যাপী করোনা ভাইরাসের কারণে তাঁতের তৈরী কাপরের বাজারে চরম ধস নেমেছে অনেক।
এনায়েতপুর এলাকার তাঁতপল্লি সোনাতলা কুদ্দুস আলি (৫৫) বলেন, দুটি তাঁত বন্ধ থাকায় চার সদস্যের পরিবারের জীবন থমকে দাঁড়িয়েছে। পাঁচ মাসে তার ১ লাখ টাকা লোকসান হওয়ায় ঋণগ্রস্থাবস্থায় অবর্ণনীয় কষ্টে দিন কাঁটাচ্ছেন। একইভাবে গত ৫ মাসে আজহার আলি ১৬টি তাঁত বন্ধ থাকায় ১০ লাখ, মৃত মোজাহার আলি১২টি তাঁত বন্ধ থাকায় ৫ লাখ, শাহজাহান আলীর ১০টি হ্যান্ডলুম ও ৮টি পাওয়ারলুম বন্ধ।
জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহম্মেদ সাংবাদিকদের জানান, তাঁত শিল্পকে বাচিয়ে রাখার জন্য ক্ষতি গ্রস্থদের তালিকা তৈরি করে তাঁত বোর্ড ও বানিজ্য মন্ত্রনালয়ের মাধ্যেমে ক্ষতি পুরনের ব্যাবস্থা করা হবে। প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্থ্য তাত মালিক ও শ্রমিক যেন বরাদ্দ পায় সেদিকে নজর রাখা হবে। ইতিমধ্যে চারশত শ্রমিককে আড়াই হাজার করে টাকা দেয়া হয়েছে। বাকীদেরও দেয়া হবে।


