দশ দফা দাবিতে শান্তিগঞ্জে কৃষক-মজুর-মৎস্যজীবীদের বৈঠক

আন্দোলন জোরদারের ঘোষণা

প্রকাশিত: ৯:১৮ অপরাহ্ণ, জুন ২০, ২০২৬ 36 views
শেয়ার করুন

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার শিমুলবাঁক ইউনিয়নে কৃষক, মজুর ও মৎস্যজীবীদের ন্যায্য অধিকার আদায় এবং দশ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এক মতবিনিময় ও সাংগঠনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকাল ৫টায় ইউনিয়নের আক্তাপাড়া গ্রামের ক্লাব ঘরের সামনে কৃষক মজুর মৎস্যজীবী সংগ্রাম কমিটির শান্তিগঞ্জ উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন আক্তাপাড়া গ্রামের প্রবীণ মুরব্বি সোনাফর আলী। উপজেলা শাখার মূখ্য সমন্বয়ক জসিম উদ্দিনের সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন কৃষক মজুর মৎস্যজীবী সংগ্রাম কমিটির কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মিনহাজ আহমদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিনহাজ আহমদ বলেন, কৃষক, শ্রমিক ও জেলেরা দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হলেও তারা নানা বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পেলেও কৃষক ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে না।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, চলতি বছরের বৈশাখ মাসে হারভেস্টার মেশিনের মাধ্যমে ধান কাটার সময় অনেক কৃষক অতিরিক্ত খরচের কারণে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। হারভেস্টার মালিকদের একটি অংশ কৃষকদের জিম্মি করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

এছাড়া তিনি বলেন, নদ-নদী অবমুক্ত রাখতে হবে, যাতে সাধারণ জেলেরা সারা বছর নির্বিঘ্নে মাছ আহরণ করতে পারেন। প্রতিটি ইউনিয়নে অস্থায়ী ধান ক্রয় কেন্দ্র স্থাপন করে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহ করতে হবে। আগাম বন্যা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ফসলহানিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য দ্রুত ও কার্যকর সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। এসব দাবিসহ কৃষক, মজুর ও মৎস্যজীবীদের জীবনমান উন্নয়নে ঘোষিত দশ দফা দাবির বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন কৃষক মজুর মৎস্যজীবী সংগ্রাম কমিটির শান্তিগঞ্জ উপজেলা শাখার সমন্বয়ক সাহেব আলী, সদস্য জোনেদ আহমদ, জাকির হোসেন, স্থানীয় কৃষক তাজুল ইসলাম এবং কুস্তি খেলোয়াড় মান্না মাল।

স্থানীয় লোকজন বলেন, এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নও স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি। বিশেষ করে আক্তাপাড়া গ্রামের ওপর দিয়ে প্রবাহিত পিয়াইন নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণ এবং আক্তাপাড়া-মুরাদপুর সড়ক দ্রুত সংস্কার করা জরুরি। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে এবং স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রার মানও উন্নত হবে।

বৈঠকে উপস্থিত কৃষক, মজুর ও মৎস্যজীবীরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি তুলে ধরেন। তারা সংগঠনের ঘোষিত দাবিগুলোর প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে ভবিষ্যতে অধিকার আদায়ের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে আক্তাপাড়া গ্রামের অর্ধশতাধিক কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ, জেলে ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।