পৃথিবী সম্পর্কে যা কিছু উৎকৃষ্ট বলা বা চিন্তা করা হয়েছে, তাহা জানাই হচ্ছে সংস্কৃতি। সংস্কৃতির স্বরূপ উদঘাটন করতে গেলে আবৃত্তিকেই প্রথমে প্রাধান্য দিতে হয়। প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে ভারত, জাপান ও বাংলাদেশেই প্রথম আবৃত্তি চর্চার সূত্রপাত। কিন্তু গভীর পরিতাপের বিষয় হলো এই যে, আমাদের দেশে এতো এতো আবৃত্তি শিল্পী থাকার পরেও ভালো মানের আবৃত্তিকারের সংখ্যা খুবই কম। এরজন্য দায়ী, আমরা নিজেরাই! কারণ, একজন সংস্কৃতি কর্মীকে যদি ভালো লাগা মাধ্যমের কথা জিজ্ঞেস করা হয় তবে প্রথমে সে সংগীত বা অন্যকিছুকে বেছে নেবে। তার মানে আবৃত্তির প্রতি মানুষের কৌতুহল খুবই কম। আর যে কারণেই আবৃত্তি শিল্পীর খুবই অভাব আমাদের বাংলাদেশে।
আবৃত্তিকার বজলুর রহমান খোকন জানান, আবৃত্তি হচ্ছে সংস্কৃতির ধারক এবং বাহক। একে বাদ দিয়ে সংস্কৃতির অস্তিত্ব কল্পনা অসম্ভব প্রায়। জনপ্রিয় এ আবৃত্তিকার বর্তমান সময়ের একজন আলোচিত ও গুণী শিল্পী! তাঁর কন্ঠ মাধুরতা এতো প্রখর যে, শোনা মাত্রই যেন শ্রোতাকুল মুগ্ধ হয়ে যায়।বাংলাদেশের ক’জন শীর্ষ বাচিক শিল্পীর তালিকায় তিনি নিজের নামটিও লিখিয়েছেন অবলিলায়। তাঁর জনপ্রিয় আবৃত্তির মধ্যে, ভাত দে হারামজাদা, ফেরিওয়ালা, বিদ্রোহী, দারিদ্র, নুরুলদীনের সারাজীবন,কামরুল হাসান এর “অনেক বছর পেড়িয়ে গেছে স্বাধীনতার”বৃষ্টি চিহ্নিত ভালোবাসা,দারিদ্র, চা পানের ইতিবৃত্ত, কেউ কথা রাখেনি, যা চেয়েছি যা পাবোনা, যদি ভালোবাসা পাই, উল্লেখযোগ্য।
ত্রিতাল পরিবেশনায় উচ্চারণ আবৃত্তি পরিষদের ব্যানারে নির্মীত এসব অনলাইন পরিবেশনা ছাড়াও নন্দিত এ আবৃত্তিকার বিভিন্ন জাতীয় স্টেজ প্রোগ্রামেও অংশগ্রহণ করে থাকেন। বিভিন্ন সাহিত্য সংগঠন কর্তৃক পুরষ্কৃত এবং সম্মাননা সনদে ভূষিত হয়েছেন অগণীত বার।আবৃত্তি চর্চা ছাড়াও তিনি একজন কবি, নাট্যকার, গীতিকার, বিজ্ঞাপন কন্ঠদাতা এবং অনলাইন সংবাদ পাঠক। মঞ্চনাটক নিয়েও তিনি নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন। তার লিখিত শতাধিক মঞ্চনাটকের মধ্যে সিকান্দার, বাদশা ফেরআউন, অবশেষে, বন্দী সোলেমান, ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও রম্য নাটক ও দেশাত্ববোধক নাটক রচনাতেও তিনি বিশেষ পারদর্শী। গীতিকার হিসেবেও রয়েছে তার বিশেষ খ্যাতি!
দেবা মন্ডল পরিচালিত, ভারতীয় সিনেমা “গোধূলী বেলা” তে তিনি গীতিকার হিসেবে কাজ করছেন।সম্প্রতি ঐ সিনেমার শুটিং চলছে কলকাতা সহ পৃথিবীর বিভিন্ন রাষ্ট্রে।সংবাদ মাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ের করোনা বিপর্যয় কালে তিনি পরিবার পরিজন নিয়ে গ্রামের বাড়িতেই অবস্থান করছেন এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি অনুকুলে এলেই তিনি পুনঃ সংস্কৃতি চর্চায় ফিরে আসবেন।


