বন্যায় জনজীবন ও গবাদি পশুর জীবনে নেমে এসেছে চরম বিপত্তি

আশঙ্কায় আছে গরু ব্যবসায়ীরা

ইউনুস আলী শাওন ইউনুস আলী শাওন

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১২:২৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৬, ২০২০ 727 views
শেয়ার করুন

গত কয়েক দিনে টানা বৃষ্টি ও ভারি বর্ষণে ও উজানের ঢলে সিরাজগঞ্জ এর যমুনার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার উপরে উঠেছে, চারদিকে থৈ থৈ করছে পানি। কোথাও উঁচু জায়গা নেই।বন্যায় ডুবে গেছে চুলা,ঘরের চাল ডুবে গেছে,গরু গোয়াল ডুবিয়ে গেছে, ঘাসক্ষেত তলিয়ে গেছে। গরুগুলোকে ময়লা আবর্জনা আর বালি মাটি দিয়ে উঁচু ঢিবি করে রাখা হয়েছে। শুকনো কিছু খড় কেটে মাঝে-মধ্যে খাবার দেয়া হচ্ছে। আগের মতো খাবার না পাওয়ায় গবাদি পশুগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। এমন দৃশ্য এখন বন্যা কবলিত সিরাজগঞ্জের চোহালী ও এনায়েতপুর থানা সহ জেলার ৩০টি ইউপির চরাঞ্চলের। এ অবস্থায় কোরবানিতে গবাদি পশুর দাম নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে কৃষক ও খামারিরা।

জানা যায়, বর্তমানে যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ৭৪ সে. মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে চরাঞ্চলের ৩৫টি ইউনিয়ন বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। চরাঞ্চলের সবাই কৃষিকাজ ও গবাদি পশু লালন-পালন করে জীবিকা নির্বাহ করে। সারা বছর কৃষকরা চরের সবুজ ঘাস খাওয়ায়ে কস্ট করে দুচারটি করে গরু-ছাগল পালন করে কোরবানির আগে বিক্রি করে। আবার অনেকে দুধেল গাভী পালন করে দুধ বিক্রি করে সংসার চালায়।

বন্যার কারণে চরাঞ্চলের সব ধরনের ফসলসহ ঘাষক্ষেত তলিয়ে গেছে। এমনকি বসতবাড়িও পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

এ অবস্থায় গবাদি পশুগুলো নিয়ে কৃষকরা চরম বিপাকে পড়েছে। চরাঞ্চলের কেউবা ওয়াপদা বাঁধে গবাদি পশু নিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু গবাদি পশুর খাদ্য নিয়ে চরম সংকট দেখা দিয়েছে। এমনিতে কর্ম নেই তার উপর গো-খাদ্যের দাম বাড়ায় গবাদিপশুগুলোকে কেউ ঠিকমত খাবার দিতে পারছে না।

এতে গবাদিপশুগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। দুধেল গাভীগুলোও দুধ দিচ্ছে না। যে গরুগুলো কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে তা শুকিয়ে ওজন কমে যাওয়ায় চরম ক্ষতির শঙ্কা করছে কৃষকরা। এছাড়াও বসতভিটায় পানি ওঠায় হাঁস-মুরগি নিয়েও বিপাকে পড়েছে খামারিরা। বহু কৃষকের হাস-মুরগি নদীতে ভেসে গেছে। ঘরের চালের উপর হাস-মুরগিগুলো রাখছে।

বন্যা কবলিত গাজী ভাই জানান, একটি গাভী পালন করছিলাম। প্রতিদিন গাভী ৮ কেজি দুধ দিতো। কিন্তু এখন ২/৩ সের দুধও দেয় ।এই সল্প দুধে গরুর খাবার জোগার করতে হিমশিম খাচ্ছে, সঠিকভাবে খাবার দিতে না পারায় দুধ কমে গেছে। এখন শুধু বাছুরগুলো দুধ খেয়ে বেঁচে আছে।

কৃষক নুর ইসলাম ও আবু বক্কার জানান, কোরবানির জন্য খুব কষ্ট করে ২ গরু লালন-পালন করেছিলাম। গরুগুলো হৃষ্টপুষ্ট হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে সঠিক খাবার দিতে না পারায় গরুগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। যে গরুর ওজন ১০ মণ ছিল তা এখন ৮ মণে এসে দাঁড়িয়েছে। এখন বিক্রি করলে চরম ক্ষতি হবে।