পটিয়া রাহাত আলী স্কুলে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে চলছে কোচিং

কাউছার আলম কাউছার আলম

পটিয়া, দক্ষিণ চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ৭:১৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ৭, ২০২০ 567 views
শেয়ার করুন
করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির কারণে শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি আগামী ৬ অগাস্ট পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। এরপরও সরকারি নির্দেশ অমান্য করে পটিয়ার এএস রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ডেকে কোচিং ক্লাস চালু করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
 
গতকাল সোমবার সকালে পটিয়া পৌর সদরের ঐতিহ্যবাহী এএস রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. শাহদাত হোসেন কোচিং ক্লাস চালু করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। যার জন্য স্কুল পরিচালনা কমিটির করো কাছ হতে অনুমতিও নেননি এ স্কুল শিক্ষক।
 
স্কুল সূত্রে জানা যায়, এএস রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণী থেকে ১০ শ্রেণী পর্যন্ত প্রায় আড়াই হাজার শিক্ষার্থী রয়েছেন । করোনার এ সময়ে স্কুলের অভ্যন্তরে কোচিং বন্ধসহ স্কুলের নিয়মিত ক্লাস বন্ধ ছিল সরকারি নির্দেশে। কিন্তু গতকাল সোমবার কোচিংয়ের জন্য শিক্ষার্থীদের ডেকে আনেন এ শিক্ষক। এসময় এমনকি কোচিংয়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মুখে মাস্ক পর্যন্তও ছিলনা। কোচিং এর ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়লে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।
 
এ বিষয়টি জানতে পেরে রাহাত আলী স্কুল কমিটির সভাপতি সরওয়ার হায়দার তাৎক্ষণিক পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা জাহান উপমা এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু আহমেদকে মোবাইল ফোনে অবগত করেন।
 
এ ব্যাপারে কমিটির সদস্য আলী হোছাইন জানান, ৮ম শ্রেণীর কিছু ছাত্রদের ভালো ফলাফলের জন্য ফ্রি কোচিং চালু করা হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. শাহদাত হোসেন কোচিং চালুর বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ৮ম শ্রেণীর ছাত্রদের রেজিস্ট্রেশনের কিছু কাজ থাকায় কাগজপত্রে সই নেওয়া হচ্ছে। তাই তাদের ডেকে আনা হয়েছে।
 
এএস রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সরওয়ার হায়দার বলেন, সরকারি নির্দেশ অমান্য করে প্রধান শিক্ষক স্কুলের ভিতরে কোচিং ক্লাস চালু করেছেন বলে আমি জানতে পেরেছি। কোচিংয়ের একটি ছবি ফেসবুকে দেখতে পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ফোনে জানিয়েছি। সরকারি নির্দেশ মেনে স্কুলের কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য শিক্ষকসহ কমিটির সকল সদস্যকে জানানো হয়েছে। এখন সরকারি নির্দেশ অমান্য করে কেউ নিজ উদ্যোগে কোচিং চালু করলে সেটার দায়ভার ওই ব্যক্তিকে নিতে হবে। তার দায়ভার স্কুল কতৃপক্ষ বা পরিচালনা কমিঠি নিবে না।
 
পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা জাহান উপমা বলেন, আমি বিষয়টি স্কুল কমিটির সভাপতি হতে শুনেছি। তবে আমি তাকে জানিয়েছি এসময়ে কোচিং করার কোন ধরনের সুযোগ নেই। তারপরও কেউ যদি লিখিত অভিযোগ করেন তাহলে প্রয়োজনিয় ব্যাবস্হা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।