চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের এয়াকুবদন্ডী এলাকার গাজীর পাড়ার সন্তান গাজী মুহাম্মদ ইমরোজ হোসেন। ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের সিলেট জোনাল শাখায় প্রভিশনাল অফিসার হিসেবে কর্মজীবনে পা দেন ২০১৯ সালে । পাশাপাশি স্বপ্ন দেখেন আর ভাবতেন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে পড়াশোনর পাঠ ছুুুকিয়ে একজন ইসলামিক স্কলার হয়ে কোরআন সুুন্নার আলোকে সমাজ বাস্তবায়নে দ্বীনের খেদমত করার। জীবনে প্রথম বারের বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে ৩৮ তম বিসিএস-এ(শিক্ষা) তিনি প্রথম হয়ে লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে সক্ষম হলেন। সদ্য ঘোষিত ৩৮তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফলে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন তিনি।
শিক্ষা ক্যাডারে মেধাতালিকায় ১ম অবস্থানে থাকা গাজী মুহাম্মদ ইমরোজ হোসেন পটিয়ার শাহচান্দঁ আউলিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে ২০০৯ সালে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়ে দাখিল পাস করার পর । একই মাদ্রাসা থেকে ২০১১ সালে মানবিক বিভাগ হতে এ প্লাস পেয়ে আলিম পাশ করেন। সেখান থেকেই উত্তীর্ণ হয়ে ২০১১-২০১২ শিক্ষাবর্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখান হতে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ হতে অনার্স মাস্টার্স সম্পন্ন করেন এ কৃতি বিসিএস ক্যাডার।
সারাদেশের মধ্যে তিনি বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে প্রথম হয়েছেন। সদ্য প্রকাশ হওয়া ৩৮তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফলে তিনি সেরাদের সেরা হয়েছেন। এই সফলতার পেছনে পরিবার থেকেই সবচেয়ে বেশি অনুপ্রেরণা পেয়েছেন ইমরোজ তার প্রেরণার সবচেয়ে বড় উৎস তার বাবা-মা।
পটিয়া উপজেলার জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের এয়াকুবদন্ডী এলাকার গাজীর পাড়া গ্রামে তার জন্ম। বাবা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ গাজী মুহাম্মদ ইদ্রিস। মা নুর আয়েশা বেগম। দুই ভাই, দুই বোনের মধ্যে বড় তিনি। ছোট দুই বোন বিবাহিত ছোট ভাই কোরআনে হাফেজ ।
অনুভূতি প্রকাশ করে ইমরোজ জানান, বিসিএসে উত্তীর্ণ হওয়ার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। সত্যিই এটা অন্যরকম অনুভূতি। তিন-চার বছর টানা পরিশ্রমের পর এমন ফলাফল পেয়ে খুব ভাল লাগছে বলে জানান তিনি।
ইমরোজ আরো বলেন, এই অর্জনে আল্লাহর কাছে লাখো কোটি শোকরিয়া ৩৮ তম বিসিএস-এ শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছি।
আমি পড়ালেখার ক্ষেত্রে কোন ধরনের কম্প্রমাইজ করতাম না। সময়ের কাজ সময়ে শেষ করতাম। দেশের শিক্ষা ব্যাবস্হায় কিছুটা হলেও অবদান রাখতে চান ইমরোজ ।পরিবারের বড় সন্তান হওয়ায় দায়িত্বটা একটু বেশি ছিল ইমরোজের । ছোটবেলা থেকেই পড়ালেখার প্রতি ভীষণ মনযোগী ইমরোজের লক্ষ্য ছিল ইসলামিক স্কলার হয়ে কোরআন সুন্নার জ্ঞান অর্জন করে দ্বীনের খেদমত করা। পড়ালেখায় বাবা-মা তাকে উৎসাহ দিয়েছেন সবসময়। ইমরোজ বিসিএসের পড়াশোনা করেছেন মধ্যরাত থেকে ভোররাত পর্যন্ত। পরীক্ষার কয়েক মাস আগে থেকে রাতজেগে পড়াশোনা করেছেন। বিসিএসের জন্য যা কিছু করেছি, সবকিছুই নিজে নিজে। মানুষের নেতিবাচক কথাগুলো আমি সবসময়ই অনুপ্রেরণা হিসেবে নিয়েছি। তবে আমার বাবা মা অনেক সহযোগিতা করেছেন।
তিনি বলেন, ৩৮ তম বিসিএস পরীক্ষা দিয়েছি ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে। বাবা-মা চেয়েছিলেন আমি যেন প্রশাসন ক্যাডার হই। কিন্তু আমার ধ্যান-জ্ঞান ছিল শিক্ষা ক্যাডার ।
ইমরোজ বলেন, যদিও বাবা-মায়ের কথা রাখতে গিয়ে ফরমে প্রথম পছন্দ হিসেবে প্রশাসন ক্যাডার দিয়ে দ্বিতীয় পছন্দ দিয়েছিলাম শিক্ষা ক্যাডার। আমি মনেকরি, প্রশাসনসহ অন্য ক্যাডারের চাকুরেরা তাদের কাজের বাইরে কিছুই করতে পারেন না। কিন্তু একজন আর্দশ শিক্ষক তার মনের সৃজনশীলতাকে প্রকাশ করে দেশ ও জাতির জন্য কাজে লাগাতে পারেন এবং অনেক মানুষের মনে জায়গা করে নিতে পারেন। মানুষ গড়ার কারিগরের এমন পেশায় যুক্ত হতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে করছি।
ইমরোজের বাবা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ গাজী মুহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, পড়ালেখার প্রতি তার প্রবল আগ্রহ ছিল সবসময়। আমি নিজে দেখেছি সারারাত জেগে থেকে পড়াশোনা করেছে। অবশেষে কষ্টের ফল পেয়েছে সে। এ জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে শুকরিয়া আদায় করছি।
তার গৃহিনী মা নুর আয়েশা বেগম বলেন, আমার ছেলে একজন ভালো ছাত্র হিসেবে খুবই মেধাবী, ইসলামী শিক্ষায় ও সমানভাবে পারদর্শী । তার এই সাফল্যে আমি মা হিসেবে আমি খুবই আনন্দিত ও গর্বিত।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার বিকেলে ৩৮তম বিসিএস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করে সরকা রি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। এতে ২ হাজার ২০৪ জন প্রার্থীকে ক্যাডার পদের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া নন-ক্যাডারে আরও ৬ হাজার ১৭৩ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে।


