পটিয়া হাসপাতালের আইসোলেশন হতে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন অনেকেই
কাউছার আলম কাউছার আলম
পটিয়া, দক্ষিণ চট্টগ্রাম
পটিয়ায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়াদের মধ্যে তিন ভাগের দুই ভাগের বেশি রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। ফিরেছেন স্বাভাবিক জীবনযাত্রায়ও এছাড়া উপজেলায় এখন পর্যন্ত মৃত্যুর হয়েছে ৫ জনের । সোমবার (২৯ জুন) উপজেলা স্বাস্হ্য কমপ্লেক্সেে করোনাভাইরাস আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ৫ জন রোগী তাদের মধ্যে একজন পটিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার সোমেন বড়ুয়া সহ পটিয়া থানার পুলিশ সদস্যসহ ৪ জন সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে গেছেন।
ফলে উপজেলার হাসপাতালের করোনাভাইরাস আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আরো রোগী আছেন আরো সাত জন। এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ২৮৫ জনে দাঁড়িয়েছে। তার মধ্যে ২৩৭ জন সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরে গেছেন। আরও জানা যায়, গত ২৪ ঘন্টায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে আরও ৫ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনের আওতায় আনা হয়েছে। এ নিয়ে সোমবার উপজেলায় হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন মোট ১৫ জন। কোয়ারেন্টাইন শেষ হওয়ায় ১৭ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইন থেকে অবমুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া এ পর্যন্ত উপজেলা থেকে ৯২৮ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য চট্টগ্রামে স্থাপিত করোনা পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। ফলাফল এসেছে ৭৬৪ জনের। তারমধ্যে ২৯৪ জনের ফলাফল পজেটিভ এসেছে। রির্পোট পেন্ডিং আছে আরো ১৬৮ জনের।
এ পর্যন্ত পটিয়ায় করোনায় মৃত্যু হয়েছে এক শিশুসহ পাঁচ জনের। পটিয়া হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার রাজিব দে জানান, করোনা পজিটিভ হওয়া রোগীদের জন্য বিশ শয্যার আইসোলেশন ইউনিট হতে আজ সোমবার একসাথে আরো ৫ জন পুরোপুরি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেন। এই পর্যন্ত পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশন ইউনিটে ৪৮ জন রোগী সেবা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩১ জন সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন, ৮ জন রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। বর্তমানে ৭ জন রোগী আইসোলেশন ইউনিটে সেবা নিচ্ছেন। সর্বশেষ সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে নতুন সুস্থ ৫ জনকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দিয়ে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরো জানান, আমরা আমাদের সীমিত সম্পদের মধ্যে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে আমার ৬ চিকিৎসকসহ ১৫ জন স্বাস্থ্যকর্মী করোনা রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছি ।
চিকিৎসকসহ সকল স্বাস্থ্যকর্মীর পর্যাপ্ত সুরক্ষার ব্যবস্থা না করলে আমাদের পক্ষে সেবা দেওয়া দুরুহ হয়ে পরবে। তাই মাননীয় হুইপ মহোদয়সহ সকল বিত্তবানদের স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশে দাড়ানোর আহবান জানান তিনি। হাসপাতাল সূত্রে আরো জানা যায়, গত ২৭ মার্চ হতে হাসপাতালে ৫ শয্যার আইসোলেশন ওয়াড প্রস্তত করা হয়। পরর্বতীতে হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর নির্দেশনায় আরো ১৫ টি শয্যা বাড়িয়ে ২০ শয্যার একটি আইসোলেশন ওয়াডে পরিনত করা হয়। আর এ বিশেষ ওয়াডে দিন রাত সেবা দিয়েছেন হাসপাতালের ১৮ জন চিকিৎসক, ১৮ জন নার্স ও ৭ জন স্বাস্থ্যকর্মী করোনা আক্রান্ত রোগীদের সেবায় সার্বক্ষনিক নিয়োজিত আছেন আজ অবধি।


