করোনায় মারা গেলেন পটিয়ার মুক্তিযোদ্ধা মহসীন খাঁন

কাউছার আলম কাউছার আলম

পটিয়া, দক্ষিণ চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ৩:০৬ অপরাহ্ণ, জুন ১৭, ২০২০ 664 views
শেয়ার করুন

 

ঢাকার সিকদার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ ১৭ জুন বৃহস্পতিবার সকল সাড়েসাতটার সময় দক্ষিণ চট্টগ্রামের মুক্তিযুদ্ধকালীন কোম্পানী কমান্ডার ও প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা মহসীন খাঁন (৭৫) মারা গেলেন। পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১২ জুন শুক্রবার সিকদার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সংকটাপন্ন অবস্থায় ভর্তি করা হয়। ভর্তির হওয়ার পর তার শরীর হতে করোনার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ১৪ জুন তার শরীরে করোনার উপস্থিতি পাওয়া যায়।

এসময় তাকে আইসিইউ ভেন্টিলেটরে রেখে এক ব্যাগ প্লাজমা দেওয়া হয়। যদিও আরো উন্নত চিকিৎসার জন্য সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সহায়তা চেয়েছিলেন তার পরিবারের লোকজন। আরো জানা যায়, মহসীন খাঁন ১৯৮৫ ও ১৯৯১ সালে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলা পরিষদের দুইবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। এছাড়া পটিয়ার জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের তিনবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন ৭১’এর রণাঙ্গনের এ যোদ্ধা। রাজনৈতিক জীবনে স্যার আশুতোষ সরকারী কলেজ সংসদের ভিপি ও জিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্রলীগের এই ডাক সাইটে নেতা ১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা পরবর্তী অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে জুলুম-নির্যাতনের শিকার ও একাধিকবার কারাবরণ করেন। মহসীন খাঁনকে ‘জীবন্ত কিংবদন্তি’ উল্লেখ করে একটি বই রচনা করেছেন অধ্যাপক ওমর ফারুক। মুক্তিযোদ্ধা মহসীন খাঁনের ছোট ছেলে মোহাইমিনুল ইসলাম জানান, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে অসুস্থ হয়ে পড়েন আমার বাবা । চট্টগ্রামের কোন হাসপাতালে ঠাঁই না পাওয়া মহসীন খাঁনকে রাতেই ঢাকায় নিয়ে যান স্ত্রী ও সন্তানরা। শুক্রবার ভোররাতে রাজধানীর গুলশান এলাকায় সিকদার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। সেখানের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকালে ডাক্তার বলেছেন তিনি হার্ট এর্টাক করে মারা গেলেন। আমরা বাবার মরদেহটি নিয়ে ঢাকা হতে সড়ক পথে রওনা দিয়েছি। যথা সম্ভব আজ বাদে এশা পটিয়া উপজেলার জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের নাইখাইন গ্রামে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাপন করা হবে। প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা মহসীন খাঁনের চিকিৎসার বিষয়টি তদারকি করছিলেন মুক্তিযোদ্ধা হাজী খায়ের জাহান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট্রের চেয়ারম্যান ও পুলিশ কর্মকর্তা মো. নাজিম উদ্দীন। যুদ্ধকালীন পুরো সময় কোম্পানী কমান্ডার ছিলেন কিংবদন্তি মুক্তিযোদ্ধা মহসীন খাঁন। অন্তিম মুহুর্তে তিনি সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে একটু উন্নত চিকিৎসা জন্য কাকুতি মিনতি করেছিলেন কিন্তু পান নি। মৃত্যুকালে তিনি ২ স্ত্রী, ২ ছেলে ও ৩ মেয়ে সহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।