হাতীবান্ধায় মাছ চুরিতে বাঁধা দেয়ায় কৃষককে মারধর

হাসান মাহমুদ হাসান মাহমুদ

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৮:৫০ অপরাহ্ণ, জুন ১৫, ২০২০ 581 views
শেয়ার করুন

 

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় মাছ চুরিতে বাঁধা দেয়ায় বাহার উদ্দিন (৫০) নামে এক কৃষককে বেধড়ক পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহত ওই কৃষক বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য-কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় গত শনিবার (১৩ জুন) রাতে আহতর ভাতিজা আব্দুর রাজ্জাক বাদী হয়ে ৬জনকে আসামী করে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

এর আগে গত বুধবার (১০ জুন) সকালে উপজেলার দক্ষিন জাওরানী এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্তরা হলেন, উপজেলার দক্ষিন জাওরানী এলাকার মৃত মনির উদ্দিনের ছেলে লাল মিয়া (৫৫), চাঁন মিয়া (৪৫), আজিজুল ইসলাম সুরুজ (৪০), ফালান মিয়া (৩০) ও একই এলাকার লাল মিয়ার ছেলে হায়দার আলী (২৫) এবং আজিজুল ইসলাম সুরুজের ছেলে আপেল (২০)। আহত বাহার উদ্দিন উপজেলার ওই এলাকার মৃত আলী হোসেনের ছেলে এবং ওই এলাকায় মাছ চাষ করেন (কৃষক)।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দক্ষিন জাওরানী এলাকায় স্থানীয় বাহার উদ্দিন, নূর আমিন ও কাজল মিয়া শেয়ারে মাছ চাষ করেন। অভিযুক্তরা প্রায় রাতের আধারে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ চুরি করে। এদিকে ঘটনার দিন ভোরে অভিযুক্তরা কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরা শুরু করলে বাহার উদ্দিন বাঁধা দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা বাহার উদ্দিনকে মারধর করেন। বাহার উদ্দিনের আত্মচিতকারে স্থানীয়রা ছুটে আসলে তারা পালিয়ে যায়। পরে পরিবারের লোকজন বাহার উদ্দিনেক উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য-কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন।

সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য-কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, মাথা, বাম পা ও ডান হাতে ব্যান্ডেজ করা বাহার উদ্দিন ক্ষত স্থানের অসহ্য যন্ত্রনা নিয়ে হাসপাতালের বেডে শুয়ে কাতরাচ্ছে। এ সময় বাহার উদ্দিনের সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমি গরিব মানুষ। এলাকার একজনের সাথে যৌথ ভাবে মাছ চাষ করি। অভিযুক্তরা প্রায় রাতের আধারে মাছ চুরি করে। মাছ চুরির সময় তাদের বাধা দিলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে বেধড়ক মারধর করে।

আমার মাথায় প্রায় ২৫টি ও হাতে-পায়ে প্রায় ১০ টি সেলাই দেয়া হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠ বিচার চাই। এ বিষয়ে অভিযুক্ত আপেল বলেন, আমরা বাহার উদ্দিনের প্রজেক্টে কোন মাছ ধরি নাই। আমাদের জমিতে মাছ ধরার জন্য জাল ফেলি। উল্টো বাহার উদ্দিন সেই জালের
উপর তার জাল ফেলে। এ নিয়ে আমার বাবা তাকে মারধর করে। এ বিষয়ে হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হবে।