ফোবানার সুখ দুঃখ এর গল্প : ফোবানা এলামনাই ব্রেকফাষ্ট

জুয়েল সাদত জুয়েল সাদত

সাংবাদিক, আমেরিকা

প্রকাশিত: ৩:৪৮ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ 28 views
শেয়ার করুন

 

জুয়েল সাদত,
লস এনজেলস থেকে

গত ৫ সেপ্টেম্বর শনিবার সকাল ৯.৩০ মিনিট ইউনিভার্সেল হিলটনের একটি মাঝারি মানের রুমে বসেছিল ফোবানার এলামনাই এর মিলন মেলা। শুক্রবার রাতের দেরীতে ঘুমের পর সকালে অনেকের উঠতে দেরী হচ্ছিল৷ এলামনাই এর চেয়ারম্যান ড্ক্টর আব্দুস সাত্তার এর টেনশন৷ কেমন হবে এলামনাই এর মিটিং। আগেরদিন তিনি আলাউদ্দিন রেস্টুরেন্টে গিয়ে সকালের নাস্তার অর্ডার করেন৷ আমার সাথে আলাউদ্দিনে দেখা৷ বললেন, নাস্তা এখন থেকে নিচ্ছি। বললাম, নেন৷ ভাল হবে। বললেন নিউজ করেন। নিউজ করে সবাইকে জানালাম।

শনিবার সকাল পৌনে দশটা। সবাই সময়মত আসবেন বললেও সবাই আসলে দেরীতে ৷ সকাল ১০ টার পর আমরা আনুষ্ঠানিক এলামনাই এর অনুষ্ঠান শুরু করলাম৷
জনাব আব্দুস সাত্তার শুরু করলেন। সঞ্চালনার দায়িত্ব পড়ল মাহবুব রহিম এর উপর৷ চমৎকার কথা বলেন তিনি। সবাই আসন গ্রহণ করলেন। মঞ্চে আসন গ্রহণ করলেন, ফোবানার সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। রেহান রেজা, জসিম উদ্দিন, এটর্নি আলমগীর, ডিউক খান, দিলু মওলা, এম রহমান জহির, ডক্টর জয়নাল আবেদীন, ফারুক আহমদ, হাসমত মোবিন, রবিউল করিম বেলাল ইন্জিনিয়ার আবু হানিফ, মিসেস নার্গিস।

মঞ্চের বাহিরেও হল রুমে অনেকেই বসলেন। মাহবুব রহিম সহজ সরল উপস্থাপনায় জমিয়ে রাখলেন।
ফোবানায় ৩৩/৩৪ বছর যাদের তাদের আলোচনা শুরু হল। তারপর ৩২ বছর, ৩০ বছর হিসাবে সিনিয়ররা বলতে লাগলেন ফোবানায় জড়িত হবার সুখ দু:খের গল্প।
ডিউক খান, দিলু মওলা সবচেয়ে প্রবীন ফোবানায়। একই সাথে হাসমত মোবিন, এম রহমান জহির, নুরুল আমিন নুরু বললেন তাদের গল্প। মিসেস নুরু কথা বললেন, কথা বললেন নাহিদা নাসের ইয়াামিন৷ তিনি জানালেন। ফোবানার এই পরিবার তাকে নতুন করে সাংগঠনিক হতে শক্তি যোগায় ।
তিনি বলতে লাগলেন, ফোবানার সবাই তাকে এত সম্মান করেন যে, তিনি ফোবানার সাথেই আছেন সব সময়।

ডিউক খান বলেন, লস এনজেলস থেকে ফোবানার সাথে সম্পৃক্ত, এখন আটলান্টায় থাকলেও ফোবানার সাথে সাড়ে তিন দশক। জসিম উদ্দিন বলেন, ফোবানার সাথে তার সম্পর্কের কথা,আটলান্টায় একাধিক ফোবানার করার গল্প। হাসমত মোবিন বলেন সাড়ে তিন দশক কিভাবে ফোবানার সাথে ছিলেন। নুরুল আমিন নুরু বলেন, ফোবানায় সব সময় পরিবার নিয়ে আসেন। রাতে খাবার পাওয়া যায় না, উনার স্ত্রী ও মিসেস করিম কিভাবে ভাত তরকারি নিয়ে আসেন৷ তাদের দুজনের কনট্রিবিউশন মাহবুব রহিম সুন্দর করে বলতে থাকেন। মিসেস নুরু, মিসেস করিম তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেন। তাদেরকে সম্মানিত করায় ধন্যবাদ জানান।

ফোবানার এলামনাই, এর গেট টুগেদার এর খবর ছড়িয়ে পড়লে, হোটেলের ফোবানার সবাই হল রুমে আসেন। চেয়ার পর্যাপ্ত ছিল না, অনেকেই দাড়িয়ে কথা শুনেন। মাহবুব রহিম ফোবানার নির্বাচনের উত্তাপে কি হচ্ছে হোটেলের রুমে বলেন মজা করে।

নাস্তা আসে নাই দুপুর ১২ টা, তখন ফোবানার সাবেক চেয়ারম্যান সহ ৩ দশক বা ২ দশক থেকে যারা ফোবানায় আসেন তাদের গল্প, স্মৃতিচারণ করতেই থাকেন।
আটলান্টার আরেফিন বাবুল, চমৎকার করে বলতে থাকেন৷ তিনি কিভাবে এজিএম এ প্রতিবাদ করে যান বছরের পর বছর। সবার কাছে মাপ ও চান ভুল কিছু হলে।
ফোবানার এলামনাই ৮ বছর পর আবার ড. আব্দুস সাত্তারের নেতৃত্বে সচল হওয়ায় উনাকে ধন্যবাদ দেন সবাই৷

নিউইয়র্কের মিসেস নার্সিস আহমেদ , নিউজার্সির ফারুক আহমদ ফোবানার স্মৃতি চারন করেন৷।
নাস্তার সময় পেরিয়ে যায়, গল্প চলতেই থাকে। মাহবুব রহিম একজন অনন্য সঞ্চালক, মজার মজার কথা বলে আটকে রাখেন সবাইকে। সবার জন্য চা ছিল। আলাউদ্দিন থেকে নাস্তা আসতে দেরী হচ্ছিল, আর কথার ফুলঝুরি চলতেই থাকে।

ফোবানার চেয়ারম্যান রবিউল করিম বেলাল ও নতুন চেয়ারম্যান এম রহমান জহির বলেন তাদের গল্প৷ নিউইয়র্কের সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব আবির আলমগীর বলেন তিনি প্রায় তিন দশকের মত ফোবানায়।
সোয়া বারোটায় আব্দুস সাত্তারের অর্ডার করা নাস্তা আসে ১০০ জনের মত তখন ছিলেন, সবাইকে টেবিলে নাস্তা দেয়া হয়৷
তখনও কথা চলতেই থাকে।
সাংবাদিক খালেদ মহিউদ্দিন মাত্র ২ বছর ফোবানায় আসছেন, উনাকে কিছু বলতে বললে তিনি কিছুই বলেন নাই, কারন সবাই নাস্তাই চাচ্ছেন। কথা শুনবেন না কেউ৷
এক স্মৃতির নাটক চলতেই থাকে। ফোবানা নিয়ে সবার দীর্ঘদিনের ভালবাসার এক বন্ধন দৃশ্যমান হতে থাকে।
পাবেল আহমদ ৪১ তম ফোবানায় সবাইকে দাওয়াত করেন। ইনস্টলমেন্টে প্যাকেজ কেনার ঘোষনা দেন৷ তিনি বলেন ১০০ ডলার করে দিতে শুরু করেন৷ পাবেল আহমদ সবাইকে সপরিবারে হিউস্টনে আমন্ত্রন জানান।
মাহবুব ভুইয়া সবাইকে বিজনেস লাঞ্চ এ আহবান জানান৷
সমাপতির বক্তব্য ড. আব্দুস সাত্তার ফোবানায় সাংবাদিকদের অবদান স্বীকার করে ধন্যবাদ জানান। ফোবানায় পজেটিভ নিউজ থাকে বলেই ফোবানা গতিশীল ৷
তিনি আরও বলেন। ফোবানা এলামনাই আগামীতে আরও বড় ভুমিকা রাখবে৷

২ ঘন্টার এলামনাই ব্রেকফাষ্ট মিটিংটা হয়ে উঠেছিল এক স্মৃতি রোমান্থন।
সবাই ফোবানাকেই ভালবাসেন৷ ফোবানা করতে করতে অনেকের ছেলেমেয়েরা বড় হয়ে তারাও ফোবানায় আসতে শুরু করেছে। ফোবানার ভেটারান এটিএম আলম,বলেন – ফোবানার গল্প বলে শেষ করা যাবে না৷ অনেকেই এসেছেন। চলেও গেছেন। আমরা ফোবানাকে ভালবেসেই আছি।
জি আই রাসেল, ফোবানার একাধিক কনভেনশন এর কনভেনর৷ দীর্ঘ দিন ফোবানায় আছেন৷ রাসেল বলেন – চক্রান্ত করে গত ৫ বছর তাকে বাহিরে রাখা হলেও মুল ফোবানা ছাড়েন নাই৷ তিনি জানেন না কি তার অপরাধ ছিল? এখন আর জানতেও চান না৷ সবার সাথেই থাকবেন।

৪০ বছরের ফোবানায় এখনও অনেকেই আছেন যারা ৩৩ বা ৩৪ টি ফোবানায় এসেছেন৷ তাদের গল্পের শেষ নাই৷ সেই সময়টায় নানা শহরে এত মানুষ জন ছিল না৷ সংগঠন ছিল না৷ কিছু স্বপ্নবোনা মানুষ ফোবানা তৈরী করেছিলেন৷ তাদের অনেকেই ছিলেন এই এলামনাই মিটিং এর রুমে।। সুখ দুঃখের গল্পের শেষ নাই৷
আটলান্টার ডাক্তার মানিক ও মিসেস মানিক লস এনজেলস কমিউনিটির সবাইকে ও ফোবানা পরিবারকে স্মরন করে বলেন। আমাদের জন্য দোয়া করবেন। আমার ছেলের জন্য দোয়া করবেন। মিসেস মানিক এই ফোবানা পরিবারকে একটি অনন্য প্লাটফর্ম দাবী করে সবার জন্য শুভেচ্ছা জানান। কনভেনর ডক্টর জয়নাল আবেদীন বলেন, আমি দীর্ঘদিন থেকে এই ফোবানায় আছি। কোন চাওয়া পাওয়ায় নয়, ফোবানা ভালবাসি। লস এনজেলস এ চারটি ফোবানা করেছি সবাইকে নিয়েই। ফোবানার সব সময় ভাল চাই। বিভাজনে বিশ্বাসী নই।

ইন্জিনিয়ার আবু হানিফ, একজন চ্যান্সেলর । ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি  ফোবানার সাথে সম্পৃক্ত দীর্ঘদিন , তিনি ফোবানার স্পন্সর থেকে ফোবানা পরিবারের একজন। অনেক সুন্দর সুন্দর মানুষের মিলন মেলা ফোবানা। ফোবানার সাফল্য কামনা করেন

ফোবানা এলামনাই এর গেট টুগেদার ব্রেকফাষ্ট এ আরও উপস্থিত ছিলেন নাহিদুল খান সাহেল,  ডক্টর প্রিয়লাল কর্মকার , খালেদ রউফ, মহিউদ্দিন দুলাল, কাজী নাহিদ ও মিসেস নাহিদ, বাবুল হাই, রানা খান,মিম খান,সাম রিয়া, সামসুূূ্দ্দিন, শামসুদ্দিন সাগর,এস আই জুয়েল, আবু রুমি, করিম সালাউদ্দিন, ফরহাদ হোসেন,জনাব আজমল হোসেন, ইন্জিনিয়ার  মোহাম্মদ ইকবাল, জাবেদ চৌধুরী, মারুফ ভুইয়া, মুজিব উদ্দিন, জুয়েল সাদত, রিয়াজ আহমেদ, এন্থনি পিউস গোমেজ, সানি, মোহাম্মদ কাজল, মিসেস কাজল, আব্দুল মোমিন  সহ আরো অনেকেই। প্রায় শতাধিক ফোবানা সদস্যরা উপস্থিতি ছিলেন ।

অনেকেই ছিলেন, নাম অনেকের মনেও পড়ছে না। তবে খুবই  জমজমাট আড্ডা ছিল।

অনেক মহিলা সদস্যরা ছিলেন তাদের  সবার নাম জানিনা বলে উপস্থাপন করতে পারলাম না। আগামীতে জানাব সবার নাম।

এই গল্প আমাদের অমিমাংসিত রয়ে গেল। বাকীটা আমরা হিউষ্টনে শুনব।

—————————————–

জুয়েল সাদত / ফোবানা মিডিয়া টীম