জুয়েল সাদত :

চিন্ময় আচার্য্য, আমার এক পরম আত্বীয়।
এই আত্বীয়ের সাথে ২ বার দেখা হয়েছিল মাত্র। থাকেন মিশিগান – আমি ফ্লোরিডায়।
দুবারই তিনি আমাকে অনেক সম্মানিত করেছিলেন ভালবাসা দিয়ে।
ভালবাসা একটি জিনিস যা মাপা যায় না, অনুভবে মাপা যায়।। বাতাসের মত জিনিসটা দেখা যায় না।
প্রথমবার ২০২১ সালে আমি মিশিগান গিয়েছিলাম, কমিউনিটির সবাইকে নিয়ে কনসুলেট নিয়ে একটি মতবিনিময় করব বলে, তিনি সহযোগীতা করেছিলেন। সেদিন তিনি আসলেন, প্রথম দেখা, অনুষ্ঠান শেষ হল তিনি আমাকে একটি প্যাকেট দিলেন। সেখানে ২টি টি শার্ট।
ছোট জিনিস কিন্তুু গভীরতা অনেক।
দ্বিতীয়বার ২০২৫ সালে,মিশিগান গেলাম। সব কাজ ফেলে চলে আসলেন। লাঞ্চ করিয়ে জুমার নামাজে মসজিদে ড্রপ করলেন। তারপর বাম এর মেলায় গেলাম, আমার সাথে সব সময় ছিলেন। প্রচন্ড ভালবাসেন অনুভব করি।। আমাকে ছায়ার মত আগলে রাখেন।
যাক, তিনি একজন অনন্য মানুষ। পুরোমাত্রায় একজন সাংবাদিক। একটি নিউজ পাঠালে সেটাকে বদলে উনার মত করে ছাপান। সুপ্রভাত মিশিগান একটি অসাধারন কাগজ৷। suprobhat michigan মিশিগান এর আপডেট থাকে। এটাই মিশিগান এর মানসম্পন্ন কাগজ।
তিনি একটি বই লিখেছেন। উনার ৪৮ বছরের সাংবাদিকতা জীবনের গল্প।
বই লেখার পর অনেক পরামর্শ করলেন।

এত বড় বই লিখেছেন, ভাবতেই ভাল লাগল।। বই ছাপা হবার পরই ব্যাস্ত হয়ে গেলেন আমাকে কিভাবে পাঠাবেন।। বই কি হচ্ছে, কখন আসবে। কি হিসাব নিকাশ, প্রুফ, সবই শেয়ার করেন।
উনার সাথে সব সময় কথা হয়। আমরা একজন আরেকজনের ফোন এক রিংয়ে ধরে ফেলি। এটাই সম্পর্কের মাত্রা বুঝায়।।
বইটি ছাপা হল৷ প্রকাশ হবার পর থেকেই সাড়া পড়ে গেল৷ নিরবে কাজ করলে যা হয়৷। প্রচারবিমুখ মানুষ, অনেকটা মরহুম সাংবাদিক মোনাজাত উদ্দিনের মত।
ভাল জিনিস চলে ভাল।
চিন্ময় দার বইটি হবিগঞ্জ / ঢাকা ও মিশিগানে সমাদৃত হতে লাগল।। আমার আনন্দটা বেড়ে গেল৷ আমার চেয়ে অনেক সিনিয়র তিনি সাংবাদিকতায়, কিন্তুু এমন আচরন করেন মনে হয় তিনি জুনিয়র।। এটাই একজন ভদ্রলোক এর বৈশিষ্ট্য।।
আমরা যখন কথা বলি ভাল লাগে।
একজন লেখকের একটি বই সন্তানের মত৷ বইটি পড়া হয় নাই, প্রকাশক অপুর্ব শর্মার সাথে কথাও হল৷। তিনি একজন সৃজনশীল প্রকাশক অভ্র প্রকাশনির একটি ভাল প্রকাশনা৷ অপুর্ব শর্মা আশাবাদী বইটি নিয়ে৷। অপুর্ব এটাকে সিলেটে বহুল প্রচার করবেন, আশাবাদী।
আমার অনেক ভাল লাগছে।
চিন্ময় দা মিশিগান কমিউনিটিতে সুপরিচিত একজন সিনিয়র সাংবাদিক।
অনেক গুন আছে, মিশিগান বইমেলার আয়োজক৷ কম কথা বলেন, কাজ বেশী করেন৷
বাংলা প্রেস ক্লাব মিশিগানের সাবেক সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক চিন্ময় আচার্য দাদা পৌনে পাচ দশকের বেশি সময় ধরে তিনি সংবাদ পেশায় কাজ করেছেন। সত্য প্রকাশের লড়াই চালিয়ে গেছেন নিরলসভাবে। এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতারই দলিল তাঁর বই ‘স্মৃতির পথে ৪৮ বছর’।
হবিগঞ্জ শহরটা সিলেট থেকে অনেক দুর, আমাদের সিলেটের সাংবাদিকদের সাথে কম সম্পর্ক ছিল। তবে যে কয়জন আলোকিত ছিলেন তাদের মধ্যে উনি প্রথম সারির।
মফস্বল শহরে পেশাগত জীবনে তিনি নানা বিপদ ও প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন। তবু সত্য ও ন্যায়ের পক্ষ থেকে সরে যাননি। এই বই সেই দৃঢ়তারই সাক্ষ্য বহন করে।
প্রবাসজীবনে মিশিগানেও নিজের অর্থ, সময়, শ্রম, মেধা ও মানসিক শক্তি দিয়ে তিনি নীরবে তাঁর নিউজ পোর্টাল ‘সুপ্রভাত মিশিগান’ চালিয়ে যাচ্ছেন।
একজন রাতের শিফটের কর্মকর্তা নির্ঘুম কাটিয়ে সকালে নিউজ পোর্টাল আপডেট করে ঘুমিয়ে পড়েন। এরকম করে জীবন পার করছেন, আবার সামাজিক কমিটমেন্ট চালিয়ে যান। উনার পরিবারের সাপোর্ট টা অসাধারন। স্ত্রী সন্তান দের অকুন্ঠ সমর্থন না থাকলে এই রকম জীবন চলমান অসম্ভব। তাদের গৌরব করার সময় এসেছে।

আমার সাথে সম্পর্ক ৪৮ বছরের না, ৫৭ মাসের সম্পর্ক। এই কয়দিনেই জানান দিলেন, তিনি একজন উচু মানের সাংবাদিক এবং সৃজনশীল মানুষ।।
ভাল মানুষ।। সাংবাদিকতায় ভাল মানুষ হওয়া জরুরী৷।
শ্রদ্ধেয় চিন্ময়দা, ‘স্মৃতির পথে ৪৮ বছর’ শুধু একটি বই নয়। এটি আপনার সাহসের ইতিহাস।
বইটির সম্মৃদ্ধি কামনায়।।
বইটি পড়ার পর আবার লিখব।।


