শিক্ষায় দরগাপাশা ইউনিয়নে নজির স্থাপন করছেন চেয়ারম্যান সুফি মিয়া

প্রকাশিত: ৭:৫৫ অপরাহ্ণ, জুন ২৭, ২০২৬ 74 views
শেয়ার করুন
দরগাপাশা ইউনিয়নের প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে পঠন দক্ষতা মূল্যায়ণ ও সুন্দর হাতের লেখা প্রতিযোগিতা সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার দিনব্যাপী ইউনিয়নের আবদুর রশিদ উচ্চ বিদ্যালয়ে উৎসবমূখর পরিবেশে এই প্রতিযোগীতামূলক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগীতায় ইউনিয়নের ১৬ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ২টি ইবতেদায়ী মাদ্রাসার ৪শ’ ৪০ জন শিক্ষার্থীর অংশ নেন। দুই ধাপের এই প্রতিযোগীতায় মেধা তালিকায় ৬০ জনকে পুরষ্কার ও অংশগ্রহণকারী সকল শিক্ষার্থীদের বিশেষ পুরষ্কার প্রদান করা হয়েছে। দরগাপাশা ইউনিয়ন পরিষদের ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের উন্নয়ন সহায়তা তহবিল, আমরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত ও আক্তাপাড়া গ্রামের রুপা মিয়ার যৌথ সহযোগিতায় এই প্রতিযোগীতার আয়োজন করেন দরগাপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুফি মিয়া। মূলত: তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ধারাবাহিকভাবে ইউনিয়নে শিক্ষা নিয়ে কাজ করছেন ইউনিয়ন পরিষদ ও ইউনিয়নের সদস্যগণ ও শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।
শনিবারের আয়োজনে সকাল থেকে শিক্ষার্থীদের সুন্দর হাতের লেখা পরীক্ষা নেন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। এরপরই তারা শিক্ষার্থীদের রিডিং পড়া বিষয়ে পরীক্ষা গ্রহণ করেন। প্রথম ধাপে ৪৪০ জন শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে ১৮০ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হন। পরে তাদের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষায় ৪র্থ শ্রেণির বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে পঠনে ১০ জন করে ২০ জন ও সুন্দর হাতের লেখায় ১০ জন মোট ৩০ জন চূড়ান্ত নির্বাচিত হন। অনুরূপভাবে ৫ম শ্রেণিতেও আরো ৩০ জন শিক্ষার্থী নির্বাচিত হন । মেধা তালিকায় স্থান পান সর্বমোট ৬০ জন। আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতা করেন দরগাপাশা ইউনিয়ন কম্পিউটার সেন্টারের শিক্ষার্থীবৃন্দ।
পরীক্ষামূলক প্রতিযোগীতা শেষে বিকাল ৩টায় অনুষ্ঠিত হয় পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক ও পরিষদের চেয়ারম্যান সুফি মিয়া। ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্রের পরিচালক মশিউর রহমান রাজা’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন শান্তিগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন তালুকদার। বিশেষ অতিথি বক্তব্য দেন উপজেলা সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাছুম মিয়া, শান্তিগঞ্জ প্রেক্লাবের সভাপতি সোহেল তালুকদার, ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন, অভিভাবক রাজমিন বেগম ও আমরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মামুনুর রশিদ।
এসময় শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাবের উপদেষ্ঠা কাজি জমিরুল ইসলাম মমতাজ, আবদুর রশিদ উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুখময় দাশ, দরগাপাশা সরকারি প্রাথিমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মালা রায়, হলদারকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম, সিচনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক বেনু মজুমদার, হরিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা কলি দাস, দরগাপাশা ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়োর্ড সদস্য ললিত মোহন দাশ, প্যানেল চেয়ারম্যান মাসুক আলী, সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্য মরিয়ম বিবি, ৫ নং ওয়ার্ড সদস্য সুমন আহমদ ও ৮নং ওয়ার্ড সদস্য গোলাম কিবরিয়া সুজনসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রথম স্থান অধিকারী শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয়েছে ১টি স্কুল ব্যাগ, ১টি ছাতা, ৬টি খাতা ও ৮টি কলম। ২য় স্থান অধিকারীদের দেওয়া হয়েছে ১টি স্কুল ব্যাগ, ১টি ছাতা, ৫টি খাতা ও ৬টি কলম। ৩য় স্থান দখলকারীদের দেওয়া হয়েছে ১টি স্কুল ব্যাগ, ১টি ছাতা, ৪টি খাতা ও ৬টি কলম। ৪র্থ থেকে ১৫তম স্থান অর্জনকারীদের দেওয়া হয় ১টি স্কুল ব্যাগ, ১টি ছাতা, ৩টি খাতা ও ৩টি করে কলম। প্রতি বিভাগে একই রকম পুরষ্কার প্রদান করা হয়।  প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণকারী সকল শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয় ১টি করে খাতা ও ২টি করে কলম।
এর আগে ২০২৫ সালের ১৮ নভেম্বর ইউনিয়নে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে মেধা যাচাই পরীক্ষা নিয়েছিলেন চেয়ারম্যান সুফি মিয়া। তার এই পরীক্ষা গ্রহণ পদ্ধতি নিয়ে কাজ করেন তৎকালীন ইউএনও সুকান্ত সাহা। পরবর্তীতে উপজেলা, জেলা হয়ে এটি সারা ফেলে সারা দেশে। স্বীকৃতি স্বরূপ শিক্ষায় অবদানে শ্রেষ্ঠত্বের সম্মান পান সুফি  চেয়ারম্যান । তৎকালী জেলা প্রশাসক এজন্য সম্মাননা স্মারকও প্রদান করেন তাকে।
শিক্ষা নিয়ে কাজ করায় সুফি চেয়ারম্যানের প্রতি খুশি ইউনিয়নবাসী। উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে  ইউনিয়নের বাসিন্দা ও অভিভাবক রাজমিন বেগম বলেন, ইউনিয়নের শিক্ষার উন্নয়নে অনেক ভালো কাজ করছেন আমাদের ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সুফি মিয়া। এই কাজগুলো অব্যাহত থাকলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে একটি সুস্থ প্রতিযোগিতা থাকবে এবং শিক্ষার মান বাড়বে।
চেয়ারম্যান সুফি মিয়া বলেন, আমি আমার রুটিন ওয়ার্কের বাইরে সামান্য কষ্ট করছি মাত্র। আমাকে ইউনিয়নের সকল শিক্ষক, অভিভাবকরা সহযোগিতা করছেন। একার পক্ষে এই কাজ করা সম্ভব নয়। আমরিয়া গ্রাম পঞ্চায়িত ও রূপা মিয়া আমাকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। আমার পরিষদের সদস্যগণ সহযোগিতা না করলে আমার পক্ষে এই কাজ করা সম্ভব হতো না। আবদুর রশিদ উচ্চ বিদ্যালয় পরিবার আমাকে বেশ সহযোগিতা করছেন। আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। আমি মনে করি এই কমপিটিশনগুলো ইউনিয়নে ভালো ফলাফল বয়ে আনবে। সারা উপজেলায় যদি এই পদ্ধতি বাস্তবায়ন হয় তাহলে উপজেলাও শিক্ষায় এগিয়ে যাবে।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন তালুকদার বলেন, আমি বিভিন্ন স্থানে চাকুরি করেছি। এরকম উদ্যোমী চেয়ারম্যান খুব একটা পাইনি। তিনি নিজ ইউনিয়নের শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য যথেষ্ট অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। আমরা চেষ্টা করবো তার এই উদ্যোগ উপজেলার অন্যান্য চেয়ারম্যানদের সাথে কথা বলে সেসব ইউনিয়নেও বাস্তবায়ন করার। এজন্য আমরা সার্বিকভাবে কাজ করে যাবো।