
কাবাডি খেলা উপলক্ষে আয়োজিত মেলায় মিষ্টান্নের দোকান থেকে মিষ্টি কিনছেন একছেন এক শিশু।
শনিবার সকাল ৯টা থেকে দিনব্যাপী শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নের জয়কলস গ্রামের উত্তরের মাঠে এমনই এক আনন্দঘন দৃশ্যের দেখা মিলে। দাওয়াতি (প্রীতি) এই কাবাডি খেলার আয়োজন করেন জয়কলস গ্রামবাসী। প্রতিবছরই এই গ্রামের লোকজন একাধিকবার খেলাটির আয়োজন করে থাকেন। শনিবারের এই খেলায় সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা কুরবান নগর ও মোল্লারপাড়া ইউনিয়ন এবং শান্তিগঞ্জের জয়কলস, আস্তমা, পার্বতীপুর, সুলতানপুর, বোগলারখারা ও নোয়াগাঁও (কাকিয়ারপাড়) এই ছয়গ্রামের খেলোয়ারেরা অংশগ্রহণ করেন।

কাবাডি কাবাডি বলে ডাক হাঁকছেন খেলোয়ারেরা।
আয়োজক কমিটির লোকজন জানান, দাওয়াতি এই আয়োজনে শনিবার সকালে সুনামগঞ্জ সদরের কুরবান নগর ও মোল্লারপাড়া ইউনিয়ন থেকে শুধুমাত্র কাবাডি খেলাকে কেন্দ্র করে প্রায় ৫শ’ জন মানুষ শান্তিগঞ্জের জয়কলস গ্রামে এসেছেন। তাঁদেরকে আপ্যায়ন করতে গ্রামের পক্ষ থেকে ৩টি গরু জবাই করা হয়েছে। আমন্ত্রিত খেলোয়ার ও দর্শকদের খাওয়ানো হবে। যার যার মেহমান যে যার মতো করে আপ্যায়ন করবেন। ভাগ করা আছে। ৪৫টি ম্যাচ্ অনুষ্ঠিত হবে। প্রতি দলে ৬ জন করে খেলোয়ার থাকবেন। প্রত্যেক ম্যাচে উভয় দলের ১২জন খেলোয়ার খেলবেন। শুধু খেলোয়ারের সংখ্যাই ৫শ’ ৪০ জন। খেলায় কোনো পুরস্কার নেই। আন্তরিকতার খাতিরে সবাই খেলতে এসেছেন। শুধুমাত্র দুপুরে খাওয়ানো হবে। কাবাডি খেলা গ্রামীণ ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্য রক্ষায় এমন খেলার আয়োজন করা হয় বলে জানিয়েছের আয়োজকরা।
সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ছুটিতে বেড়াতে এসেছেন জামলাবাজ গ্রামের বাসিন্দা, প্রবাসী সাংবাদিক আমিনুর রহমান খোকন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে থাকছি। দেশে আসলেও এমন খেলা খুব একটা দেখা হয় না। আমাদের গ্রামীণ ঐতিহ্য রক্ষায় জয়কলসবাসী যে উদ্যোগ নিয়েছেন তা খুবই প্রশংসনীয়। আমরা চাই একদম গ্রাম পর্যায়ে প্রতি বছর রাষ্ট্রীয় ভাবে এই খেলাটির আয়োজন করা হোক। জয়কলস গ্রামের মো. সৈয়দ আলম ও সুলতানপুরের মো. আঙ্গুর মিয়াও এই কথার সাথে সাঁয় দেন। তারা বলেন, প্রতি বছর এই খেলার জন্য আমরা অপেক্ষায় থাকি। খেলার আয়োজন শুরু হওয়া থেকে শুরু করে খেলার দিন পর্যন্ত আমাদের গ্রামে আনন্দের পরিবেশ বিরাজ করে। অনেক আত্মীয়-স্বজনকে তখন আমরা বাড়িতে নাইওর নিয়ে আসি।
আয়োজক কমিটির সদস্য আলী আমজদ ও শহিদ মিয়া বলেন, প্রতি বছরই আমরা এই আয়োজন করে থাকি। গ্রামে গ্রামে সম্প্রীতি বৃদ্ধি, গ্রামীণ ঐতিহ্য রক্ষা ও গ্রামবাসীকে আনন্দ দান করতেই আমাদের এই আয়োজন। আমরা যেভাবে এই আয়োজন করে যাচ্ছি ঠিক একই ভাবে আমাদের পরের প্রজন্মও যেনো এই আয়োজন করে এমনটাই প্রত্যাশা আমাদের।