শান্তিগঞ্জে স্বস্তির বৃষ্টি, কৃষকসহ সাধারণের মুখে হাসি
◾ লক্ষমাত্রার চেয়ে বেশি আবাদ ◾ প্রতি হেক্টরে ২.৭৮ মে.ট. চাল উৎপাদনের আশা
ইয়াকুব শাহরিয়ার, ইয়াকুব শাহরিয়ার,
নিজস্ব প্রতিবেদক
শনিবার সকাল সাড়ে ১১টা। উত্তপ্ত আবহাওয়ায় অতিষ্ঠ শান্তিগঞ্জ উপজেলার জনজীবন। হঠাৎ করেই আকাশে মেঘ জমে তৎক্ষনাতই নেমেছে স্বস্তির বৃষ্টি। এতে উপজেলার আমন চাষীসহ জনসাধারণের মুখে হাসি ফুটেছে। পরক্ষণেই কৃষকদের কপাল থেকে মোচে গিয়েছে দুঃশ্চিতার রেখা। প্রায় অট্টহাসিতেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মহান সৃষ্টিকর্তার। একজন তো আনন্দে আত্মহারা হয়ে বৃষ্টিতে ভিজে নিজের আনন্দ প্রকাশ করেছেন। শুধু কৃষকই নন, বৃষ্টি হওয়ায় ভীষণ খুশি উপজেলার বিভিন্ন পেশাজীবি ও সাধারণ জনগণ। গত সপ্তাহের প্রচণ্ড দাবদাহে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলেন সর্বস্তরের মানুষ। অপেক্ষায় ছিলেন একফোঁটা বৃষ্টির। অবশেষে দেখা মিললো প্রতীক্ষার সেই বৃষ্টির। আর এই বৃষ্টিতে ভিজে বৃষ্টি বিলাস করেছেন ছোট্ট শিশুরা। বৃষ্টি উপেক্ষা করে ফুটবল খেলে আনন্দ উপভোগ করেছেন তারা।

প্রচণ্ড দাবদাহ শেষে স্বস্তির বৃষ্টি। তছনছ করা বৃষ্টি উপেক্ষা করে মাঠে ফুটবল খেলে যাচ্ছেন তিন শিশু।
শান্তিগঞ্জ কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, শান্তিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম পাগলা, শিমুলবাক, জয়কলস, দরগাপাশা, পাথারিয়া ও পূর্ব পাগলাসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় এ বছর ২ হাজার ১শ’ ৫৬ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি হেক্টর জমিতে প্রায় ২.৭৮ মেট্রিকটন চাল উৎপাদন করার কথা রয়েছে। কিন্তু লক্ষমাত্রা পূরণ হয়ে জমি চাষ হয়েছে ২ হাজার ১শ’ ৬৫ হেক্টর। লক্ষমাত্রা অনুযায়ী চাষ হওয়া মোট জমিতে ৬ হাজার ১৯ মেট্রিকটন চাল উৎপাদন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যার বর্তমান খুচরা বাজারমূল্য প্রায় ৩০ কোটি ১০ লক্ষ টাকা। এই বৃষ্টি কৃষি জমির জন্য খুবই উপকার হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি কার্যালয়। তবে, নিকট আগামীতে ধানী জমিতে কারেন্ট পোঁকা আক্রমণ করতে পারে। এর জন্য কৃষি অফিস কর্তৃক সচেতনতা প্রচারণা চালানো হবে।

কৃষকের ফলফলা ধানগাছ বৃষ্টির পানি পাওয়ার পরে গা ঝাড়া দিয়ে উঠেছে।
শান্তিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের কান্দিগাঁও গ্রামের আমন চাষী আবদুল হান্নান, ফয়জুর রহমান, দক্ষিণ বন্দের কৃষক জ্যোতিস দেবনাথ ও ভমবমি বাজার এলাকার কৃষক আমির উদ্দিন উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘জমিতে ভালো ফলন হয়েছে। প্রচণ্ড গরমের কারণে জমি নিয়ে খুবই চিন্তিত ছিলাম। যে পরিমাণ রোদ ছিলো জমি পুড়ে ছারখার হয়ে যেতো। সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় আমাদের জমির খুবই উপকার হবে। আমরা মহান সৃষ্টি কর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’
পাগলা বাজারের ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন ও অর্পন দেবনাথ বলেন, ‘গরমে ব্যবসায় মন্দাভাব যাচ্ছিলো। ক্রেতার সংখ্যাও কম। বিদ্যুতেরও বিভ্রাট ছিলো। সব মিলিয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ। বৃষ্টি হওয়ায় আমাদের জন্যও বেশ উপকার হয়েছে।’
শান্তিগঞ্জ কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ আহসান হাবীব বলেন, ‘আমাদের উপজেলার লক্ষমাত্রা ছিলো ২ হাজার ১শ’ ৫৬ হেক্টর জমি। আনন্দের কথা হচ্ছে আমাদের লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে জমি চাষ হয়েছে ১শ’ ৬৫ হেক্টর। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে জমিতে কারেন্ট পোঁকা নামক একটি পোঁকা আক্রমণ করতে পারে। এই পোঁকা তাড়াতে আমরা কৃষকদের সচেতনতার লক্ষে একটি প্রচারণা কার্যক্রম শুরু করবো। লিফলেট বিতরণ করবো৷ সবকিছু ঠিক থাকলে এবছর লক্ষমাত্রার চেয়ে উৎপাদন অনেক ভালো হবে।’


