নৈরাজ্যের চেষ্টা করলে ঐক্যবদ্ধভাবে আ.লীগকে প্রতিহত করা হবে

প্রকাশিত: ১০:৩০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৫, ২০২৪ 337 views
module: j; hw-remosaic: 0; touch: (0.4409722, 0.4409722); modeInfo: ; sceneMode: Auto; cct_value: 0; AI_Scene: (-1, -1); aec_lux: 157.44019; hist255: 0.0; hist252~255: 0.0; hist0~15: 0.0;
শেয়ার করুন
‘সময় এখন ছাত্র জনতার। দীর্ঘদিন পর গণতন্ত্র চর্চার সুদিন ফিরে এসেছে বাংলাদেশে। ছাত্র-জনতার হাত ধরে দেশের মানুষ দ্বিতীয় স্বাধীনতা অর্জন করেছেন। এই স্বাধীনতাকে নস্যাৎ করতে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার প্রেতাত্মারা যদি কোনো ষড়যন্ত্র করে, দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির বিন্দুমাত্র চেষ্টা করে তাহলে ঐক্যবদ্ধভাবে আওয়ামীলীগকে প্রতিহত করা হবে। দেশ, জাতি এবং গণতন্ত্রের সুষ্ঠু চর্চার স্বার্থে, আমাদের নেতা দেশনায়ক তারেক রহমানের নির্দেশে এবং জেলা বিএনপির নেতাদের দিক নির্দেশনায় ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে কাজ করে যাবে শান্তিগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন।’
বৃহস্পতিবার (১৫ আগষ্ট) দুপুর সাড়ে ১২টায় শান্তিগঞ্জ উপজেলায় উপজেলা পরিষদের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের শেষে এসবক কথা বলেন বক্তারা। এর আগে সকাল ৯টা থেকে শান্তিগঞ্জ বাজার, উপজেলা পরিষদের সামনে সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের দুইপাশে অবস্থান নেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।
অবস্থান কর্মসূচি শেষে সংক্ষিপ্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ। শান্তিগঞ্জ উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সুহেল মিয়া ও যুবদল নেতা ফরিদ গাজির যৌথ পরিচালনায় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রিয় যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি আনছার উদ্দিন।

অবস্থান কর্মসূচিকে বক্তব্য রাখছেন সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আনছার উদ্দিন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সকল শহিদের মাগফেরাত কামনা ও আহতদের সুস্থ্যতা কামনা করে আনছার উদ্দিন বলেন, ‘আল্লাহ তায়ালা কাবা ঘর রক্ষা করতে যেভাবে আবাবিল পাখি প্রেরণ করেছিলেন তেমনি ২০২৪ সালে বাংলার নমরূদ, বাংলার ফেরাউন খুনি হাসিনাকে বিতাড়িত করার জন্য আবাবিল রুপে শিক্ষার্থীদের প্রেরণ করেছেন। ছাত্র-জনতার এই বিজয়কে যারা ছিনিয়ে নিতে ষড়যন্ত্র করছে তাদের শক্তহাতে প্রতিহত করা হবে।
শান্তিগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মী শান্তিতে বিশ্বাসী উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ছাত্র-জনতার বিজয়ের দিনে শান্তিগঞ্জে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পাহাড়া দিতে আমরা নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছিলাম। আমাদের নেতাকর্মী আমাদের নির্দেশনা পালন করে শান্তিগঞ্জে শান্তি বজায় রেখেছেন। কিন্তু বিগত ১৭ বছর গুণ্ডালীগের বাহিনী মামলা দিয়ে পুলিশ লেলিয়ে শান্তিগঞ্জের শান্তিপ্রিয় মানুষের শান্তি কেড়ে নিয়েছিল। আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মী বাড়িঘর ছেড়ে হাওরে, ধানক্ষেতে রাতযাপন করেছেন। অনেকে কারাবরণ করেছেন। যারা এর সাথে জড়িত তাদের বিচার বাংলার মাটিতে হবে। আমাদের আপোষহীন নেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও আগামীর রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমানের নির্দেশনায় অর্ন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্বাচন দেওয়ার আগ পর্যন্ত বিএনপি রাজপথ দখলে রাখবে। পরাজিত শক্তিকে মাথা তুলে দাঁড়াতে দেওয়া হবে না।’

অবস্থান কর্মসূচিকে বক্তব্য রাখছেন সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ।

সভাপতির বক্তব্যে ফারুক আহমদ বলেন, ‘খুনী হাসিনার দম্ভোক্তি আপনারা শুনেছেন। সে বলেছিল এই দেশ আমার বাবা স্বাধীন করেছেন, এই দেশ আমার বাবার। কিন্তু আপনি এখন আপনার মামার বাড়ি চলে গেছেন। আপনি একজন বিশ্বাসঘাতক। আপনি আপনার নেতাকর্মীকে একা ফেলে রেখে পালিয়েছেন। আওয়ামীলীগ নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্য করে ফারুক আহমদ বলেন, আপনাদের লজ্জা করা উচিৎ। আপনাদের নেত্রী ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে স্বৈরাচার এরশাদ পতনের আন্দোলনে বিএনপির সাথে আন্দোলনে যোগ দেওয়ার কথা বলে এরশাদের সাথে আঁতাতের রাজনীতি করে জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল।’
তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালে শেখ মুজিবুর রহমান স্বেচ্ছায় কারাবরণ ও আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ভারতে চলে গেলে আমাদের নেতা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তিনি ক্যান্টনমেন্টে পাকিস্তানী সেনাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে তাদের বন্দি করে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই মহান নেতার সুযোগ্য সন্তার জননেতা তারেক রহমানকে মিথ্যা মামলা দিয়ে, পাসপোর্ট পাওয়ার অধিকার কেড়ে নিয়ে বাংলাদেশে আসতে বাঁধা দিয়ে রেখেছিল। কিন্তু আমাদের নেতা এখন বীরের বেশে দেশে আসবেন।’ এসময় সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে  ঐক্যবদ্ধভাবে আওয়ামী লীগের প্রতিবিপ্লব, নৈরাজ্য প্রতিহত করার আহ্বান করেন শান্তিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির দুই প্রভাবশালী নেতা।
অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন- শান্তিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রওশন খাঁন সাগর, সহ-সভাপতি লুৎফুর রহমান, সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক নূর আলী, শান্তিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক আমিনুর রশিদ আমিন, উপজেলা বিএনপি নেতা কমর উদ্দিন, ইলিয়াছ আলী, ফরিদুর রহমান ফরিদ, আবুল কালাম, নূরুল ইসলাম,  মোহাম্মদ আলী, আঙ্গুর মিয়া, সিতু মিয়া, জিয়াউর রহমান জিয়া, ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন, মাসিক আলী,  প্রাক্তন ইউপি সদস্য আবদাল মিয়া, বিএনপি নেতা হিফজুর রহমান চৌধুরী দিদার,  মহির উদ্দিন, আবুল কাশেম নাঈম, কামাল পারভেজ সাজন, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রঞ্জিত সূত্রধর, যুগ্ম আহ্বায়ক জিলানি মিয়া, সদস্য তুরন খাঁন, শহিদুল ইসলাম, ছালিক আহমদ, তানিম আহমদ, মুহিবুর রহমান মানিক, রুমান মিয়া, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের আহ্বায়ক ফরমান উদ্দিন, যুবদল নেতা মোহাম্মদ আলী চৌধুরী শাহ আলম, স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা মামুনুর রশিদ, উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক ওবায়দুল করিম মাসুম, সদস্য সচিব শাহাদাৎ হোসেন কামরান, সদস্য মানছুর আহমেদ, ইমরান হোসেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক সুয়েব আহমদ, জুনেদ আহমদ ফয়ছল ও শহীদ নূর আহমদসহ বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবকদলের নেতাকর্মীরা।