বৈশ্বিক মহামারিতে রপ্তানি আয় এবং কর্মসংস্থানের উজ্জ্বল সম্ভাবনা থেকে পিছিয়ে নেই আমাদের বাংলাদেশ
দেলওয়ার হোসেন দেলওয়ার হোসেন
আমিরাত প্রবাসি
বিশ্বের বৈশ্বিক মহামারির কারনে বিশ্ব যখন আতংকিত,ভীত ওসন্ত্রস্ত । তেমনি বাংলাদেশ এ থেকে ব্যাতিক্রম কিছু নয়। আবার অর্থনৈতিকভাবে কিছুটা পিছিয়ে যাবে যেমন সত্য, কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ হিসাবে , বাংলাদেশ যেমন স্বপ্ন দেখে,আমার ও ব্যাতিক্রম কিছু নয়। এ দেশে আছে সম্ভাবনাময় এক ঝাঁক তরুনদের হাতছানি,তেমনি বাংলাদেশ সরকারের সরকারের সাথে আছে দেশী -প্রবাসী ব্যবসায়ীর সহযোগিতা।তার বাস্তব প্রমান এই বৈশ্বিক মহামারির কালে সরকারের হাতে হাত মিলিয়ে তরুন ,দেশী ,বিদেশী ব্যবসায়ী,বাজনৈতিক মহুল জনগনের সেবায় নিজেকে এক ই কাতারে বিলিয়ে দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।তাই বলি এ আঁধার কেটে যাবে ইনশাল্লাহ,হয়তো আলোর মুখ অচিরেই দেখব।তাই আমি স্বপ্ন দেখা থেকে পিছপা হয়নি।কারন আশাই মানুষকে বাঁচিয়ে রাখার অবলম্ব সরূপ। তাই আমিও অর্থনৈতিক ভাবে স্বপ্ন দেখি বাংলাদেশ, বাংলার তরুন প্রজন্ম ও নতুন প্রজন্মের ব্যবসীদের নিয়ে।
বাংলাদেশের পুন্য রপ্তানি আয় দিন দিন যেমন বাড়তেছে তেমনি পূন্য তালিকা ও দীর্ঘ হচ্ছে।তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-পোশাক,চা, চামড়া,মাছ,ঔষধ।আজ আমার আলোচনায় ২ টি পূন্য নিয়েই আলোকোপাত করতে চাই- ১-পোশাক ২.ঔষধ।
১.পোশাক:-পোশাক শিল্পের রপ্তানি আয় পৃথিবীর মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অধিকারী বাংলাদেশ। শুধু তাই নয় ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশি বিভিন্ন ব্রেন্ডের পোশাকজাত পূন্য আলোচিত নাম। কারন বাংলাদেশী জিনিসের গুনগত মান কোন অংশ কম না হওয়ায় ,এর কদর ও চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। বর্তমানে ইউরোপের বাজার জয় করে বর্তমানে এসিয়ার বিভিন্ন দেশে রপ্তানিতে সক্ষমতা অর্জন করেছে। এ দেশের মধ্যে মালোএশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত বাংলাদেশী পোশাক পূন্যের প্রচুর সম্ভবনা রয়েছে,যা সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিভিন্ন শপিং মলে নিজ চোখে দেখা। বিভিন্ন নামি- দামী ব্রেন্ডের দোকানে বাংলাদেশী কাপড় বেশ স্বাচ্ছন্দে ,কম দামে এবং গুনগত মান বেশ ভালো হওয়ায় ক্রেতাও বেজায় খুশি।তাই বলা যায় ,পৃথিবীতে বাংলাদেশী পোশাক শিল্পের সঙ্গে সখ্যতাএবং ,আয় দিন দিন বেড়েই চলেছে।এতে আমাদের শ্রমিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে।
২. ঔষধ শিল্প:-বাংলাদেশী ঔষধ শিল্পের দ্বার বিশ্বব্যাপী উম্মচিত হতে চলেছে। এ শিল্প একদিকে যেমন বাংলাদেশ সরকার ২৫ শতাংশ প্রনোদনা দিচ্ছে এবং অন্যদিকে ঔষধ শিল্পে কাঁচামাল আমদানিতে ২০ শতাংশ শুল্ক ছাড় দিচ্ছে আমদানিকারকদের জন্য।বিশ্বের ইতিমধ্যে প্রায় ১৪৫ টি দেশে বাংলাদেশর ঔষধ শিল্প বাজারজাত করে আসছে।দেশের ৯৮ শতাংশ ঔষধের চাহিদা পূরণ করে প্রায় ১৪৫ দেশের জনগনের দূরগুড়ায় এ সেবা পৌঁছে দিতেছে। ঔষধ রপ্তানি ব্যূরর রিপোর্ট অনুযায়ী ২০১২-২০১৩ অর্থবছরে ঔষধ শিল্পের রপ্তানি আয় ছিল ৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আবার ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরে তা দাড়ায় ৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে ৭৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার কিন্তু ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে দাঁড়ায় ৮২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্রমান্বয়ে ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে ৯৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এক ই ভাবে আমরা যদি দেখি,২০১৭-২০১৮ সালের অর্থবছরে ৯৬.৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করে আসছে ঔষধ শিল্প ।
কিন্তু এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২১ সালে বাংলাদেশ এক হাতে আয় করতে পারবে প্রায় ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ২০২৫ সালের মধ্যে এ আয় উন্নীত হয়ে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করতে সক্ষম। উন্নত দেশের সাথে ডেড রিলেটেড চূক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ রপ্তানির দ্বার যেমন উন্মোচিত হয়েছে,সাথে সাথে উম্মোচিত হয়েছে শিক্ষিত বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের। বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার ঔষধ শিল্পের কাঁচামাল উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে। মুন্সীগঞ্জে, গজারিয়ায় একটি ” Active pharmaceutical spark” গড়ে তুলেছে। সেখানে প্রায় ৫লক্ষ লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। ইনশাআল্লাহ , বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প যদি নতুন ব্রান্ডের ঔষধ উৎপাদনের মাধ্যমে আয় যেমন সম্ভব এবং সাথে পুরান কয়েকটি অতি প্রয়োজনীয় ঔষধ গুলো – যেমন কলষ্টরল,প্রেসার,ডায়বেটিক,গ্যাসট্রিক।এ ঔষধ গুলো দিয়ে মধ্যে প্রাচ্যের বাজার ধরতে পারলে ,একদিকে প্রবাসি বাংলাদেশী যেমন উপকৃত হবে ,তেমনি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সমৃদ্ধ হবে বলে আমার বিশ্বাস।তাই মধ্যেপ্রাচ্যে বাংলাদেশী পোশাক শিল্পের ন্যায় ঔষধ শিল্পের ও বিরাট বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সুযোগ রয়েছে।২০৩০ সালের মধ্যে পোশাক শিল্পের মত ঔষধ শিল্প মোটামোটি শক্ত ভাবেই এগিয়ে যাবে বলে হয় ।
সুতরাং রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগিয়ে , উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে রপ্তানি আয় বৃদ্ধি যেমন সম্ভব তেমনি দক্ষকারিগর দ্বারা প্রশিক্ষনের মাধ্যমে আরো দক্ষকর্মীর সৃষ্টি সম্ভব,।যা বাংলাদেশ সরকারের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি র অপার সম্ভাবনা।


