বিয়ানীবাজারে ২১ প্রার্থীর মধ্যে জামানত হারালেন ১৪ জন

প্রকাশিত: ৪:৪৭ অপরাহ্ণ, মে ৩১, ২০২৪ 484 views
শেয়ার করুন

বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এবার ৩টি পদে রের্কড সংখ্যক ২১জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করেন। তন্মধ্যে ১৪জন প্রার্থীই জামানত হারিয়ে লজ্জার রের্কড গড়েছেন। নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী প্রতিদ্বন্ধি যে প্রার্থী মোট কাস্টিং ভোটের শতকরা ১৫ ভাগ এর কম ভোট পাবেন তার জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। সেই হিসাবে বিয়ানীবাজারে চেয়ারম্যান পদে ৬ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের উপজেলা সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা সহ সরকার দলের বাঘা বাঘা নেতারা ভোটের মাঠে শোচনীয় পরাজয় বরণ করেছেন।

 

২৯ মে অনুষ্ঠিত ৬ষ্ঠ বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে টানা ২য় বারের মতো উপজেলা চেয়ারম্যান পদে হেলিকপ্টার প্রতীক নিয়ে ২০১৯৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন মোঃ আবুল কাশেম পল্লব। নির্বাচন কমিশন তাকে বেসরকারি ভাবে বিজয়ী ঘোষণা করেছে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ গৌছ উদ্দিন শালিক পাখি প্রতীক নিয়ে ১৮৫৯০ ভোট পেয়ে ২য় হয়েছেন। আর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মাকসুদুল ইসলাম আউয়াল মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে ১৬১১১ ভোট পেয়ে ৩য় হয়েছেন। এই তিন প্রার্থী ছাড়া চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করা বাকী ৬জন প্রার্থীর সকলেই জামানত হারিয়েছেন।

 

বিয়ানীবাজার উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ২১০৫৮৯ জন। তন্মধ্যে এবারের উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বৈধ কাস্টিং ভোটের সংখ্যা ৬৮৪৫৬ টি। সেই হিসাবে বিধি মোতাবেক শতকরা ১৫ ভাগ অর্থাৎ ১০২৬৮ ভোটের চেয়ে কম ভোট যারা পেয়েছেন তারা জামানত হারিয়েছেন। জামানত হারানো উপজেলা চেয়ারম্যান পদের প্রার্থীরা হলেন- বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান খান (টেলিফোন প্রতীকে ৪৯৫৭ ভোট), উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জামাল হোসেন (আনারস প্রতীকে ২৪৫১ ভোট), সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মোহাম্মদ জাকির হোসেন ( কৈ মাছ প্রতীকে ১২৭৬ ভোট), সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মোঃ আব্দুল বারী (ধোয়াত কলম প্রতীকে ১২৯১ ভোট), বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের খন্ডকালীন প্রভাষক সাংবাদিক মোঃ জহির উদ্দিন ( ঘোড়া প্রতীকে ৯২৪ ভোট), এবং প্রবাসী বিএনপি নেতা মোঃ জাকির হোসেন সুমন ( কাপ-পিরিচ প্রতীকে ২৬৬৩ ভোট )।

 

ভাইস চেয়ারম্যান পদে শেষ পর্যন্ত ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতায় ছিলেন। তন্মধ্যে বই প্রতীকের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতা মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন খান ২৩১৬৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতীদ্বন্ধি আশরাফুল হক রুনু বৈদ্যুতিক বাল্ব প্রতীক নিয়ে ১৩২৪১ ভোট পেয়ে ২য় হয়েছেন। বাকী ৬ প্রার্থীই জামানত হারিয়েছেন। এবার ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোট বৈধ কাস্টিং ভোটের সংখ্যা ৬৮৪৩৭ টি। সেই হিসাবে শতকরা ১৫ ভাগ অর্থাৎ ১০২৬৫ ভোটের কম যারা পেয়েছেন তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। জামানত হারানো ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন- মোঃ খালেদুর রহমান ( উড়োজাহাজ প্রতীকে ৭৫৬৩ ভোট), মোঃ জসিম উদ্দিন ( টিউবওয়েল প্রতীকে ৭০৬৮ ভোট), সায়দুল ইসলাম ( মাইক প্রতীকে ৬৩৪৫ ভোট), জামাল উদ্দিন ( টিয়া পাখি প্রতীকে ৫০২০ ভোট) এবং সুহেল আহমদ রাশেদ ( চশমা প্রতীকে ৩৮৬৭ ভোট)।

 

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতায় ছিলেন। তন্মধ্যে ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী জেসমিন নাহার ২৮৯৮৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতীদ্বন্ধি হাসিনা আক্তার হাঁস প্রতীক নিয়ে ২৬৩৫৬ ভোট পেয়ে ২য় হয়েছেন। বাকী ২ প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। এবার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোট বৈধ কাস্টিং ভোটের সংখ্যা ৬৭৯২৫ টি। সেই হিসাবে শতকরা ১৫ ভাগ অর্থাৎ ১০১৮৮ ভোটের কম যারা পেয়েছেন তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। জামানত হারানো মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন- জাহানারা বেগম ( কলস প্রতীকে ৬৭৭৭ ভোট) এবং রোমানা আফরোজ ( বৈদ্যুতিক পাখা প্রতীকে ৫৮০৬)।