◾ আবদুর রহমান জামী
—————————-
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২, ৪ ও ৫ (সরাইল-আশুগঞ্জ, কসবা-আখাউড়া, নবীনগর ) আসনের সম্মানিত ভোটার ও গণমানুষের প্রতি, আওলাদে রাসূল (সা.) মাছিহাতাবাদের বর্তমান পীর, ৭০০ বছরের ঐতিহ্যের ধারক; আল্লামা শাহ ছৈয়দ জাফরুল কুদ্দুছ গালেব-এর খোলা চিঠি….
প্রিয় ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসী!
ইতিহাস-ঐতিহ্যের এক সমৃদ্ধ জনপদ ব্রাহ্মমণবাড়িয়া। এখানে যেমন জন্ম নিয়েছেন অসখ্য বীর-বাহাদুর, বিপ্লবী-সংগ্রামী, রাজনীতিবিদ। তেমনি তিতাস ও মেঘনা বিধৌত এই জনপদে আলো ছড়াচ্ছেন ওলি-আব্দাল, মুনি-ঋষি ও বাউল-ফকির। এ মাটির গন্ধসোধা মেখেই জগদ্বিখ্যাত হয়েছেন বিজ্ঞানী-শিক্ষাবিদ, কবি-সাহিত্যক, সংগীতজ্ঞ-শিল্পী, লেখক-সাংবাদিক। সোনাফলা এই জনপদের ভাণ্ডারে আছে দেশসেরা ব্যবসায়ী-অর্থনীতিবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও ক্রীড়াবিদ।
ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন, ভারত-পাকিস্তানের স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে নিয়ে বায়ান্ন, চুয়ান্ন, ঊনসত্তুরের সিঁড়ি পেরিয়ে বাঙালির আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠা ও স্বাধিকার আদায়ের রক্তস্নাত মহান মুক্তিযুদ্ধেও রয়েছে ব্রাহ্মমণবাড়িয়া গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা। প্রায় তিরিশ লাখ মানুষের এই জনপদের রয়েছে প্রাচীন গৌরবগাথা। ইতিহাস বিখ্যাত ‘বারো ভূঁইয়াদের’ গোড়াপত্তন ও তাদের প্রথম রাজধানী স্থাপিত হয় ব্রাহ্মমণবাড়িয়াই সরাইল অঞ্চলে। দেশের অন্যতম ধর্মপ্রাণ এলাকা হিসেবে সারা দেশেই রয়েছে ব্রাহ্মমণবাড়িয়া অবিনাশী কৃতিত্ব ও কীর্তী।
প্রিয় এলাকাবাসী!
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের উস্তাদ ও কবির লেখনীতে ইসলামি ভাবধারার যোগান দাতা, উপমহাদেশে প্রথম জেলখানার ভিতর আন্দোলনের মাধ্যমে আজান ও জামাতে নামাজ আদায়ের প্রচলন কারী এবং রমজানে জেলখানায় সরকারি ভাবে সেহরী ও ইফতারের প্রবর্তক, ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নেতা ও ইসলামি আন্দোলনের অন্যতম স্থপতি ছাইয়্যেদুল ওলামা আ’লা হযরত মাওলানা শাহ্ ছৈয়দ কুতুবুর রহমান (রহঃ) এর সুযোগ্য উত্তরসুরী আউলাদে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উজ্জ্বল নক্ষত্র ট্রিপল টাইটেল, মুহাদ্দিছ, মুফতি, মুফাচ্ছির, বি.এ অনার্স, (ইসলামিক স্ট্যাডিজ) এম,এ,এলএলবি, ডিগ্রী অর্জনকারী “আল্লামা শাহ ছৈয়দ জাফরুল কুদ্দুছ গালেব” মাছিয়াভাতীকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কিছু নেই। তিনি নবী করিম সা. ৩২ তম এবং ৭০০ বছর পূর্বে সিলেট বিজয়ী সিপাহসালার ছৈয়দ নাসিরউদ্দিন রা. এর ১৬ তম অধীনস্হ বংশধর।
সিপাহসালার ছৈয়দ নাসিরউদ্দিন রহ. এবং তার বংশধরগণ এই অঞ্চলে প্রায় চারশত বছর ইসলামি বিধান মতে তরফবাজ্য শাসন করেন। তাঁরই বংশধর ছৈয়দ নূরুল ইসলাম বন্দগী রহ. প্রায় ৩শত বছর পূর্বে তরফ থেকে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার মাছিহাতা আগমন করেন। তার সম্মানার্থে তৎককালী ত্রিপুরার রাজা এক বিশাল ভূখন্ড লা-খেরাজ করে স্টেটের নাম দেন ‘ছৈয়দ নূরুল ইসলাম স্টেট’। হাজার হাজার লোক তার সান্নিধ্যে এসে ইসলামের মর্মবাণী গ্রহণ করে। তখন থেকে এ স্থানের নাম মাছিহাতা (গুনাহ মোচনকারী) দরবার শরীফ নামে পরিচিত। অদ্যব্দি তাঁর বংশধরগন এ ধারাবাহিকতা অব্যহত রাখছেন
মাছিহাতা দরবার শরীফে তিনশতাধিক বছরের ঐতিহ্য ও ধারাবাহিকতার ওলি-উল্লাহগণের সুযোগ্য উত্তরসূরী হলেন বর্তমান পীর আল্লামা শাহ্ ছৈয়দ জাফরুল্ল কুদ্দুস গালেব।
তিনি বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষায় হাদিস ও ফিকাহ শাস্ত্রে সর্বোচ্চ কৃতিত্বের সাথে ডিগ্রী লাভ করে মুহাদ্দিস ও মুফতি এবং তাফসির শাস্ত্রে সর্বোচ্চ ডিগ্রী লাভ করে, মুফাচ্ছির সনদপ্রাপ্ত হন। পাশাপাশি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামিক স্ট্যাডিজ বিষয়ে অনার্সসহ এম.এ ডিগ্রী প্রাপ্ত হন।
উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন, ইসলামি আন্দোলনের অন্যতম স্থপতি, বহুগ্রন্থ প্রণেতা পীর ছাহেব আল্লামা শাহ্ ছৈয়দ কুতুবুর রহমান (রঃ) এর নাতি এবং পীর ছাহেব মাওলানা শাহ্ ছৈয়দ রুহুল কুদুছ মোহাম্মদ (র:) ও ছৈয়দা আকিকা আক্তার খাতুনের তৃতীয় ছাহেবজাদা। ছৈয়দা আকিকা আক্তার খাতুনের মাতা ছৈয়দা ছানিয়া আক্তার খাতুন কিশোরগঞ্জ হয়বৎনগরের জমিদার ছৈয়দ হামিদুল হক ছাহেবের কন্যা। কিশোরগঞ্জে প্রতিষ্ঠিত এ পরিবারের অনেক জনকল্যাণমূলক কাজের মধ্যে হয়বৎনগর আলীয়া মাদরাসা এক অনন্য সৃষ্টি ।
সম্মানিত ভোটারগণ!
রাজনীতির সাথে তো ইবাদতের মূল স্পিরিট এবং সময়ের কোন কন্ট্রিডিকশন নেই। বরং সৎ রাজনীতি ও নিঃস্বার্থ জনসেবা ইবাদতের শামিল। কিন্তু দুর্নীতি, অপশাসন আর মাফিয়াচক্রের কাছে গোটা দেশ জিম্মি হয়ে পড়েছে। চারদিকে নিপীড়িত, নিষ্পেষিত ও দারিদ্রের কষাঘাতে জর্জরিত মানুষের হাহাকার। দুর্বৃত্তায়নের চক্র ভাঙতে লুটেরা নেতা নয়, সৎ, ন্যায়পরায়ন খাদিম চায় জনগণ। সেই আহ্বানে সাড়া দিতে, নিজের কর্তব্য ও বিবেকের তাগিদেই আল্লামা শাহ্ ছৈয়দ জাফরুল্ল কুদ্দুস গালেবকে রাজনীতিতে আসতে হয়েছে। রাজনীতির মাধ্যমে যশ-খ্যাতি অর্জন, সম্পদ-প্রাচুর্য্য লাভ করা তাঁর মোটেও লক্ষ্য নয়। এসব মহান আল্লাহ পাক অনুগ্রহ করে তাঁকে প্রভুত পরিমাণে দান করেছেন। তাঁর দানে তিনি সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট ও কৃতজ্ঞ। অন্য কারো কাছে তাঁর চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। আলহামদুলিল্লাহ। মানবসেবা নামক ইবাদতের লক্ষ্য পুরণ করতেই পীরাকির সহজ পথ থেকে রাজনীতির পিচ্ছিল পথে তিনি পা রেখেছেন। এটা করেছেন মানুষের অধিকার আদায়ের স্বার্থে। এছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্য তাঁর নেই। নাহয় বংশপরম্পরার রীতি অনুযায়ী রাজনীতিতে তাঁর আসার কথা ছিলো না। মানুষের আখেরাতের মুক্তির পথনির্দেশের সাথে সাথে জাগতিক উন্নতির পথ বিনির্মাণ করতেই এই পথে এসেছেন তিনি। কারণ, আল্লাহ কুরআনে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ চাওয়ার দোয়া শিখিয়েছেন। এই লক্ষ্য পূরণে তিনি আপনার, আমার, আমাদের সবার দোয়া, পরামর্শ, সার্বিক সহযোগিতা ও সম্মানিত ভোটারদের ভোট প্রত্যাশা করছেন।ভোটযুদ্ধে জয়লাভ করে, ইবাদতের বাসনায় সেবার মাধ্যমে আপনার হৃদয় জয় করাই তাঁর রাজনৈতিক লক্ষ্য।
আসুন!
ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও শোষণ, বঞ্চনাহীন সুখের জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে আল্লামা শাহ্ ছৈয়দ জাফরুল্ল কুদ্দুস গালেব এর হাতকে শক্তিশালী করি।


