বিয়ানীবাজারে সাবেক প্রেমিককে দা দিয়ে কুপিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে এক মহিলা

প্রকাশিত: ৬:০৪ অপরাহ্ণ, জুন ২৬, ২০২৩ 593 views
শেয়ার করুন
সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার বৈরাগীবাজার কমিউনিটি ক্লিনিকের ভিতরে ঢুকে কর্তব্যরত এক স্বাস্থ্য কর্মীকে দা দিয়ে কুপিয়ে আহত করে পরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে এক মহিলা। নিহত মরিয়ম বেগম মরি (৩৫) স্থানীয় বৈরাগীবাজার নামনগর গ্রামের মৃত মনির আলীর কন্যা। এদিকে রক্তাক্ত গুরুতর আহত স্বাস্থ্য কর্মী গোপাল চন্দ্র দাসকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। ২৬ জুন সোমবার দুপুর ১২টায় এই ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে।
জানা যায়, বৈরাগীবাজার কমিউনিটি ক্লিনিকে স্বাস্থ্য কর্মী হিসেবে চাকুরী করেন স্থানীয় নামনগর গ্রামের মৃত সুনীল চন্দ্র দাসের পুত্র গোপাল চন্দ্র দাস (৩৯)। পাশাপাশি বাড়ির অধিবাসী মরিয়ম বেগম মরি’র সাথে এক সময় প্রেমের সম্পর্ক ছিল গোপালের। দুজন দুই ধর্মের বিশ্বাসী হওয়ায় তাদের এই সম্পর্ক প্রণয়ে রূপ নেয়া দূরহ জেনে প্রেমের সম্পর্ক ছিন্ন করে অন্যত্র বিয়ে করে গোপাল। কিন্তু গোপালের এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারে নি মরিয়ম। সে বিয়ে সাদি না করে অনেকটা মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। ঘটনার দিন দুপুর ১২টার দিকে বাড়ি থেকে বোরকা পরিহিত অবস্থায় দাড়ালো দা নিয়ে বৈরাগীবাজারস্থ কমিউনিটি ক্লিনিকে আসে মরিয়ম। ক্লিনিকের ভিতরে ঢুকে নিজ কক্ষে কর্তব্যরত অবস্থায় থাকা গোপাল কে সাথে থাকা দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপাতে থাকে মরিয়ম। এক পর্যায় দৌড়ে  ক্লিনিকের বাহিরে বেরিয়ে এসে চিৎকার দেয় গোপাল। তার চিৎকার শুনে পার্শ্ববর্তী এক ফার্নিচার ব্যবসায়ী ছুটে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে একটি সিএনজি অটোরিক্সা যোগে বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করেন। তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাৎক্ষণিক ভাবে তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এদিকে ঐ ফার্নিচার ব্যবসায়ী গোপালকে গাড়িতে তুলে দিয়ে ফিরে গিয়ে বাহির থেকে ক্লিনিকের মূল ফটক বন্ধ করে দেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে স্থানীয় লোকজনের জমায়েত ঘটে, বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ তাজুল ইসলাম একদল পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পুলিশ ক্লিনিকের ভিতরে ঢুকে দেখতে পায় ভিতর থেকে একটি কক্ষের দরজা  বন্ধ করে ভিতরে রয়েছে মরিয়ম। এসময় পুলিশ ঐ কক্ষের দরজা ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকে গলায় ফাস লাগানো অবস্থায় মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পায়। জানালার পর্দা ছিড়ে দেয়ালের উপরের রডের সাথে বেঁধে গলায় ফাঁস লাগিয়ে সে আত্মহত্যা করেছে। পুলিশ প্রাথমিক সুরতহাল শেষে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। কানাইঘাট সার্কেলের এএসপি আব্দুল করিম ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ বিষয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। ময়না তদন্তের জন্য লাশ সিলেটস্থ মর্গে প্রেরণ করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ তাজুল ইসলাম বলেন, লাশের প্রাথমিক সুরতহাল ও ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রতিয়মান হচ্ছে ভিকটিম নিজে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে। পরকীয়া প্রেমের জেরে এ ঘটনাটি ঘটেছে বলে ধারনা করছি।