বিয়নীবাজার পৌরসভায় এবার মোট ভোটার সংখ্যা ২৭ হাজার ৩৬৯ জন। তন্মধ্যে, পুরুষ ভোটার ১৩ হাজার ৬২৫ ও মহিলা ভোটার ১৩ হাজার ৭৪৪ জন। ৯টি ওয়ার্ডে ১০টি ভোট কেন্দ্রে ৮৩টি কক্ষে ইলেকট্রনিক্স ভোটিং মেশিন (ইভিএম) এ ভোট গ্রহণ হবে। নির্বাচনে মেয়র পদে লড়ছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি (জাপা) ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) মনোনীত ৩ প্রার্থী। এছাড়া আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র ২ প্রার্থী ও স্বতন্ত্রের ব্যানারে আরো ৫ জন প্রার্থী। ভোটের মাঠ পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, এবারের নির্বাচনে দল, প্রতীক কিংবা প্রার্থীর ব্যাক্তি ইমেজের চেয়ে আঞ্চলিকতা, গ্রাম ও গোত্র বিভাজনই বেশি প্রভাব ফেলছে। এ অবস্থায় কেবল দুইটি গ্রাম ছাড়া পৌরসভার অন্য সকল গ্রামেরই এক বা একাধিক প্রার্থী মেয়র পদে প্রতিদ্বন্ধিতায় রয়েছেন। ফলে ভোটের মাঠে মেয়র পদে এবার কঠিন সমীকরণ পরীলক্ষিত হচ্ছে। কোন প্রার্থীই এ পর্যন্ত নিরংকুশ একক ভাবে এগিয়ে নেই।
প্রতিদ্বন্ধিতায় থাকা ১০ জনের মধ্যে ৩/৪ জন ছাড়া অন্য সকল প্রার্থীরাই নিজ নিজ গ্রাম/অঞ্চল ভিত্তিক উলেখযোগ্য ভোট টানতে সক্ষম হবেন। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলের প্রার্থী বা প্রতীক অনেকাংশেই গ্রাহ্য হচ্ছে না! ফলে নিজেদের পুঞ্জি ভোটের ক্ষেত্রে এই সকল প্রার্থীরাই অনেকটা সমানতালে এগুয়েচ্ছেন ভোটের মাঠে। এ অবস্থায় চুড়ান্ত লড়াইয়ে যে প্রার্থী নিজ গ্রামের পুঞ্জিগত ভোট তুলনামূলক বেশি অর্জনের পাশাপাশি অন্যসব এলাকা থেকে অল্প অল্প করে সমষ্টিগত ভাবে আনুপাতিক হারে বেশি ভোট নিজ বাক্সে নিতে সক্ষম হবেন, তিনিই হাসবেন বিজয়ের হাসি।
বিয়ানীবাজার পৌরসভার নির্বাচনী মাঠে বর্তমান পর্যবেক্ষণে বিশ্লেষকদের অভিমত, ভোটের দিন যতো গণিয়ে আসবে নিরব ভোটাররা আড়মোড়া ভেঙ্গে সরব হবেন। তারা ভোট যুদ্ধে এগিয়ে থাকা প্রার্থীদের পক্ষেই ঝুঁকবেন এবং এই নিরব ভোটাররই চুড়ান্ত পর্যায় ব্যবধান গড়ে দেবেন। শেষ দিকে চতুর্মুখি লড়াই হবে মেয়র পদে। আর এই লড়াইয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও স্বতন্ত্র দুই প্রার্থী এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র এক প্রার্থী সামিল হবেন। তাদের মধ্য থেকে নির্বাচনী শেষ সময়ের নানা মেরুকরণ ও যোগ-বিয়োগের খেলায় কে এগুবেন আর কে পিছাবেন তা নির্ভর করবে তাদের ফিনিসিং টাচের উপর। এ ক্ষেত্রে যে কোন প্রার্থী কিংবা প্রার্থীর নীতি নির্ধারকদের সামান্যতম ভুলও ঐ প্রার্থীকে ছিটকে দিতে পারে নির্বাচনী মূল দৌড় থেকে! তাই তাদের শেষ সময়ের প্রতিটি প্রদক্ষেপের দিকে তীক্ষè দৃষ্টি রাখছেন সচেতন ভোটাররা। সর্বপরি এবার বিয়ানীবাজার পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে তীব্র প্রতিদ্বন্ধিতাপূর্ণ জমজমাট লড়াই হবে তা নির্ধিদ্বায় বলা যায়।