বিয়ানীবাজারে নিখোঁজের পরদিন বিলের জলে ভেসে উঠলো যুবকের লাশ ।। পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ
শাহীন আলম হৃদয় শাহীন আলম হৃদয়
বিশেষ সংবাদদাতা
সিলেটের বিয়ানীবাজারে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে বিলের জলে ঝাপ দিয়ে নিখোঁজ হওয়ার পরদিন ভেসে উঠলো যুবকের লাশ। এ ঘটনায় নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা বিয়ানীবাজার থানা পুলিশের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ এনে বিক্ষোভ করেছেন। নিহত দুলাল আহমদ (৩৯) উপজেলার তিলপাড়া ইউনিয়নের পিরের চক গ্রামের মৃত গিয়াস উদ্দিনের পুত্র। রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে স্থানীয় কদম আনি বিলে যুবকের লাশ ভেসে উঠে। নিহত দুলাল প্রথম স্ত্রীর করা একটি মামলায় পলাতক আসামী ছিলেন।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, দুলাল আহমদ শনিবার বিকালে স্থানীয় কুশিটিকি সেতুর উত্তর হাওরে নৌকা বাইচ দেখতে গিয়েছিলেন। নৌকা বাইচ শুরু হওয়ার পূর্বে সাদা পোশাকের একদল পুলিশ দুলালের পাশে দাড়ানো যুবককে নাম জিজ্ঞেস করতেই দুলাল আহমদ দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে তিনি হাওরের পানিতে ঝাপ দিয়ে সাঁতার কাটতে থাকলে পুলিশ সদস্যরা প্রথমে দৌড়ে এবং পরে একটি নৌকায় করে পিছু নেয়। একপর্যায়ে পুলিশ ফিরে আসলেও৷ তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
রোববার সকালে গ্রামের লোকজন কদম আনি বিলে মাছ শিকারে গেলে দুলাল আহমদের ভেসে উঠা লাশ দেখতে পান। প্রত্যেক্ষদর্শীরা দুলাল আহমদের বাড়িতে খবর দেন। এ ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে শত শত এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন পুলিশ যে নৌকায় পিছু নিয়েছিলো সে নৌকার লগিসহ হাতে থাকা বাঁশ দিয়ে তাকে আঘাত করায় দুলাল পানিতে ডুবে মারা যায়।
এদিকে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ভাসমান লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়না তদন্তের লাশ সিলেট ওসমানি হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে।
বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ হিল্লোল রায় বলেন, পুলিশ ওয়ারেন্টুভুক্ত আসামী ধরতে অভিযানে গেলে আসামী পালিয়ে যেতে পানিতে ঝাঁপ দিয়েছিলো। আজ এলাকাবাসীর কাছে থেকে খবর পেয়ে হাওর থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম পল্লব বলেন, নিহত দুলাল আহমদকে হত্যা করা হয়েছে এমন অভিযোগ নিয়ে এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে উত্তেজিত হয়ে বিক্ষোভ করে। আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে বিক্ষোব্ধ মানুষকে আশ্বস্থ’ করেছি।


