মানব জীবনে যতগুলো সৎ গুণাবলী রয়েছে তার মধ্যে দায়িত্বশীলতা অন্যতম

প্রকাশিত: ৯:৩২ অপরাহ্ণ, জুন ৯, ২০২১ 160 views
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

 

রাজনৈতিক, সামাজিক, পারিবারিক জীবনে আপনি যত বেশি দায়িত্ব পালন করবেন, আপনার উপর তত বেশি দায়িত্ব চাপবে। তত বেশি ঝামেলায় জড়াবেন, টেনশন বাড়বে, জবাবদিহি করতে হবে, সমালোচনা বেশি হবে, শত্রু হবে বেশি, বন্ধু শুভাকাঙ্ক্ষী কমে যাবে। সামাজিক দায়বদ্ধতা হ’ল প্রতিশ্রুতি, বাধ্যবাধকতা এবং কর্তব্যব্যক্তি, কোনও সমিতি বা সংস্থার সদস্যের মালিকানাধীন একটি নিখরচায় সমাজের জন্য স্বেচ্ছায় অবদান এবং পরিবেশ রক্ষায়।সামাজিক দায়বদ্ধতা নেতিব। মানব জীবনে যতগুলো সৎ গুণাবলী রয়েছে তার মধ্যে দায়িত্বশীলতা অন্যতম। মানুষ হিসেবে আমাদের ওপর বহুমুখী দায়িত্ব ও কর্তব্য অর্পিত হয়। এ দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন থাকা, সময়মতো যথাযথ দায়িত্ব পালন করা এবং এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা বা উদাসীনতা প্রদর্শন না করাই দায়িত্বশীলতা বা কর্তব্যপরায়ণতা। আমাদের সবার জীবনেই এ দুটি শব্দ খুবই পরিচিত। তবে হয়তো আমরা এই দুটি শব্দের মধ্যে পার্থক্য কি অনেকেই জানিনা। তাই আজকে আমি আমার অভিজ্ঞতার আলোকেই কিছু লিখছি। ভুল হলে ক্ষমা দৃষ্টিতে দেখবেন!

👉 ‘দায়িত্ব দায়িত্ব শব্দটি ছোট হলেও এর গুরুত্ব অপরিসীম। আমার কাছে দায়িত্ব মনে হচ্ছে, কোন কিছুর ভার বহন করা এবং সেই সম্বন্ধ্যে অন্যের নিকট জিজ্ঞাসিত হওয়া। আসলে সত্যি বলতে কি, দায়িত্ব কখনো এড়িয়ে চলা যায় না। উদাহরণ হিসেবে মনে করেন, আপনার অফিস থেকে পাশ্ববর্তী অফিসে পত্র পাঠানোর জন্য আপনাকে আদেশ দেয়া হলো। তো কোন কারণে আপনি যদি এই পত্র পাঠাতে ব্যর্থ হন, সেক্ষেত্রে আপনি কিন্তু আপনার বসের নিকট জিজ্ঞাসিত হবেন, কেননা এটি একটি দায়িত্ব। প্রথমেই বলেছি দায়িত্ব এড়িয়ে চলা যায় না। এগুলো এড়িয়ে গেলে আপনি কারো না কারো কাছে ধরা খাবেন। সাধারণভাবে, সংস্থাটি বিভিন্ন সামাজিক প্রোগ্রাম পরিচালনা করে যা অভ্যন্তরীণভাবে এবং সম্প্রদায়ের জন্য দরকারী সুবিধা অর্জন করে, এতে কাজ করে এমন ব্যক্তিদের এবং এর আশেপাশে বসবাসরত প্রতিবেশীদের মান উন্নত করে।

👉 ‘কর্তব্য’ কর্তব্য হচ্ছে এমন কিছু কাজ যেগুলোর জন্য আপনি অন্য কারো কাছে জিজ্ঞাসিত হবেন না। কিন্তু একজন মানুষ হিসেবে আপনার সে কাজগুলো করা উচিত। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, এইযে এখানে যে প্রশ্নটি আপনি করেছেন এই প্রশ্নের উত্তরটি তো আমার মোটামুটি জানাই আছে, তো সে ক্ষেত্রে আমি চাইলে প্রশ্নের উত্তরটি এখানে লিখতে পারি। আর এটা হচ্ছে আমার কর্তব্য এবং এখানে আমি না লিখলেও কেউ কিন্তু আমাকে কোনো প্রশ্ন করতে পারবে না বা প্রশ্ন করবেনা। আর প্রতিটি কর্তব্যও এরকমই। তো পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে দায়িত্বের কারণে আমরা কারো নিকট জিজ্ঞাসিত হতে পারি, কিন্তু কর্তব্যের কারণে জিজ্ঞাসিত হব না। কেননা কর্তব্যের যে গন্ডি তা বিবেকবান মানুষেরই আওতায় পড়ে। ত্যেকেই কোনো না কোনো সমাজে বসবাস করি।

প্রত্যেকই কোনো না কোনো সমাজের নাগরিক। একটি সমাজের নাগরিক হিসেবে সেই সমাজের প্রতি আমাদেরও রয়েছে সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সামাজিক দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ। সমাজের একজন নাগরিক হিসেবে সবার উচিত শুধু নিজের কথা না ভেবে, শুধু নিজের ভালোর কথা চিন্তা না করে সমাজের ভালো চাওয়া এবং সমাজের উন্নতি কামনা করা। আমরা যে মূল্যবোধের প্রচার করি মূলত অনেক ক্ষেত্রে তা ব্যক্তিজীবনে বাস্তবায়ন করতে সচেষ্ট হই না। সঙ্কীর্ণ স্বার্থের আবর্তে নৈতিকতা, আদর্শ ও মূল্যবোধ বিসর্জিত হচ্ছে। অবশ্য ব্যতিক্রমধর্মী কিছু মানুষ আছেন, যারা চরম মুহূর্তেও নৈতিকতা, আদর্শ ও মূল্যবোধ থেকে বিচ্যুত হন না। তাদের সংখ্যা বর্তমান সমাজে খুবই কম। অনেক সময় সমাজের সামগ্রিক স্বার্থের কথা বিবেচনা করে ব্যক্তি স্বার্থকে বিসর্জন দিতে হয়। তবেই সুনাগরিক হওয়া সম্ভব। আমরা যে যেই সমাজেই বসবাস করি না কেন সমাজের প্রতি যদি আমাদের দায়বদ্ধতা না থাকে তাহলে কোনোক্রমেই একজন সুনাগরিক কিংবা সামাজিক দায়িত্ব সম্পন্ন নাগরিক হওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।সামাজিক দায়বদ্ধতার সাথে সম্মতিটি সমাজ ও সংস্থা বা সংস্থার জন্য উপকার জোগায়, যেহেতু এটি এর সুনাম বৃদ্ধি করে, জনসাধারণের আস্থা বৃদ্ধি করে।

মূলত আমরা অনেকে দুর্বোধ্য ভাষার আবরণে নিজের প্রকৃত বিশ্বাস আড়াল করার অপচেষ্টা করে থাকি। আবার অনেকে আদর্শের আড়ালে সত্য ঢেকে ফেলার অপচেষ্টা চালাই। ফলে আমাদের এ ধরনের আচরণে মানুষ প্রতারিত হয়। আমরা যদি আদর্শ, নৈতিকতা ও মূল্যবোধের সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে জীবনকে পরিচালিত করতে পারি, তাহলে সুখী ও সমৃদ্ধ সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন করা সম্ভব। তখনই আমাদের সামাজিক দায়িত্বশীলতা ইহা রাষ্ট্র সমাজ ও পরিবারের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।