আমাদের মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদান

প্রকাশিত: ৯:৩৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩, ২০২০ 424 views
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

 

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসী বাংলাদেশিরা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে সরবরাহ বাহিনীর দায়িত্ব পালন করেছেন | যুদ্ধরত সৈনিকদের জন্যে যারা অর্থ,খাদ্য,কাপড়,ঔষদ ইত্যাদি সরবরাহ করে থাকেন তাদের বলা হয় সরবরাহ বাহীনি। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে প্রবাসীদের এ ভূমিকার জন্যে মুক্তিযুদ্ধের সর্বঅধিনায়ক ওসমানী প্রবাসী বাংলাদেশিদের দ্বিতীয় শ্রেণীর মুক্তিযোদ্ধা বলে অখ্যায়িত করেছেন।

  • মুক্তিযুদ্ধের সময় যুক্তরাজ্যে ছিলেন সবচে বেশি সংখ্যক বাংলাদেশি। আমারিকা,কানাডা,ইন্দোনেশিয়া সহ অপরাপর কয়েকটি দেশত্ব কিছু সংখ্যক বাংলাদেশি বাস করতেন। সংখ্যা অল্প হলেও আমেরিকা প্রবাসি বাংলাদেশিরা ‘বাংলাদেশ লিগ অফ আমেরিকা,কানাডা প্রবাসি বাংলাদেশিরা ‘বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অফ কানাডা’’ ইন্দোনেশিয়া প্রবাসি বাংলাদেশিরা ‘আমরা’,ইত্যাদি সংস্থা গঠন করে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করছেন। সে সময় ইংল্যান্ডে ছিলেন কয়েক লক্ষ বাংলাদেশি। বিলাত প্রবাসি বাংলাদেশিদের মধ্যে শতকরা প্রায় ৯৯ জনই ছিলেন সিলেটী। মুক্তিযুদ্ধের সময় লন্ডন প্রবাসি বাংলাদেশিদের ভূমিকা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণযোগ্য, মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পূর্ব থেকে যুক্তরাজ্যে প্রবাসি বাংলাদেশিরা ‘ইস্ট পাকিস্তান লিবারেশন ফ্রন্ট ‘বাংলাদেশ লিবারেশন ফ্রন্ট‘,বাংলাদেশ সেন্টার‘,ইত্যাদি গঠন করে বাংলাদেশের পক্ষে আন্দোলন শুরু করে।

বাংলাদেশে পাকিস্তানি আর্মি গণহত্যার সংবাদ, পাশাপাশি মেজর জিয়ার স্বাধীনতা ঘোষণার খবর গার্ডিয়ান পত্রিকা ও রেডিও সংবাদের মধ্যেমে যুক্তরাজ্য প্রবাসি বাংলাদেশিরা ২৭ শে মার্চই শুনতে পান। আনন্দ বেদনার এই খবর শুনা মাত্র যুক্তরাজ্য প্রবাসি বাংলাদেশিরা ছুটে আসেন রাস্তায় । বিক্ষোভে ফোটে পড়েন। স্থানে স্থানে জনসভার ব্যবস্থা হয় । লন্ডনের ‘স্মলহিত পার্কে’এক বিরাট গণসমাবেশ… সরব জনাব জগলুল পাশা,আসোক আলী, আহসান ইস্মাইল,আফ্রোজ মিয়া,আব্দুল হান্নান,সবুর চৌধুরী,আব্দুল ওয়াহিদ লোদী প্রমুখ বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষের ব্যাক্তিবর্গ বিভিন্ন দিক থেকে মিছিল সহকারে জনগণকে নিয়ে সমাবেত হন স্মলহিথ পার্কে। লন্ডনের বার্মিংহামের স্মলহিত পার্কে হাজার হাজার বাঙালির স্বতঃস্ফূত এ সমাবেশ অনুষ্টিত হয় ২৮ মার্চ ১৯৭১ রবিবার বভেলা ২ টার সময়।(বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র,৪র্থ খন্ড,পৃঃ৯১)।

এ সভায় কক্তৃতায়,শ্লোগানে গণহত্যা বন্ধের আহবান জানানো হয়,বিশ্ববিবেকের সহানুভূতি কামনা করা হয়,পাকিস্তানিকে প্রত্যাখান করা হয়,স্বাধীন বাংলাদেশকে সমর্থন করা হয়, পবিত্র কোরআন নিয়ে সবাই এক বাক্যে শপথ করে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতি অনুগত্য প্রকাশ করেন। এভাবে মিটিং মিছিল করে বাংলাদেশে পাকিস্তানি আর্মির গণহত্যার বিরুদ্ধে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে বিশ্বজনমত অর্জনের সংগ্রাম অব্যাহত রাখে যুক্তরাজ্যে প্রাবাসি বাংলাদেশিরা।

দিন বহে যায়। প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হয়। কর্নেল(অবঃ)ওসমানী মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়কএর দায়িত্বভার গ্রহন করেন। বিপুল বিক্রমে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। এ খবর শুনে হাজার হাজার বিলাত প্রবাসি বাংলাদেশি বিলাত থেকে এসে মুক্তিযুদ্ধে অংশনগ্রহণ করতে উদ্যোগী হন। অনুমতি চেয়ে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাঅধিনায়ক ওসমানীর কাছে কেহ কেহ চিঠি লেখেন । বিলাত প্রবাসি বাংলাদেশিদের মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের আগ্রহের কথা উল্লেখ করে আহসান ইসমাইল একটি গুরুত্বপূর্ণ চিঠি লেখেন মুক্তিযুদ্ধের সর্বাঅধিনায়ক ওসমানীর কাছে ।

  • ওসমানী উত্তরে জানান, মুক্তিযুদ্ধের আংশগ্রহনে আপনাদের স্বতঃস্ফূর্ত সদিচ্ছা আমাকে অভিভূত করেছে । মুক্তিযুদ্ধের সরর আধিনায়ক হিসেবে আমি আপনাদেরকে কৃতজ্ঞতা জানাবার সুযোগ নিচ্ছি । আপনি এবং অন্যরা আন্ত্রিকতভাবে আমার কৃতজ্ঞতা গ্রহণ করবেন আমাই এটাই আশা করব। একই সাথে আপনাদেরকে শ্রদ্ধা জানাবো এবং আপনাদের নির্দেশ দেবার অনুমতি দিলে সর্বাধিনায়ক হিসেবে আমার নির্দেশ হবে আপনারা মুক্তিযুদ্ধে সরবরাহ বাহীনির ভূমিকা পালন করবেন। যা আপ্নারা ইতিমধ্যে অব্যাহিত করেছেন । সাথে সাথে আমি আপনাদেরকে সরবরাহ বাহীনির দায়িত্ব কর্তব্য স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি। সরবরাহ বাহিণী নিত্যপ্রয়োজনীয় সকল সামগ্রী,মনবল,সামগ্রীকভাবে সৈনিকসহ সকলের মনবল অক্ষূন্ন রাখা এবং ব্যাপকভাবে জনমত গড়ে তুলা এবং সকল পরিস্থিতেই অগ্রগামী সৈনিকদের শক্তি বজায় রাখার গুরু দায়িত্ব পালন করে থাকেন । আমি আশা করীবং আপনাদের কাছে আবেদন করব আপনারা বাংলাদেশের পক্ষে সর্বশক্তি নিয়োগ করে বিশ্ব জনমত গড়ে তুলুন এবং একজন ব্যাক্তি বিলাত থেকে এসে মুক্তিযুদ্ধে অংশ্নেয়ার পরিববর্তে একটি মূল্যবান পাউন্ড দিয়ে সাহায্য করুন।এটি হবে অধিকতর সঠিক ও উপযোগী। পরিশেষে সকল্কে আমার দন্যবাদ ও সালাম দিবেন ।সৃষ্টিকর্তার কাছে দোয়া করবেন যাতে সৃষ্টিকর্তা আমাকে এই গুরু দায়িত্ব পালনে পূর্ণ ক্ষমতা প্রদান করুন । …ইতি ।

  •                                  ওসমানী’(ওসমানী ও একটি পতাকা—আলী ইসমাইল,পৃঃ৮৩)

আহসান ইসমাইলের কাছে ওসমানীর এ পত্র বৃটেন প্রবাসি বাংলাদেশিদের নিকট ওসমানীর ওর্ডারের মত কাজ করে। চিঠির মধ্যমে সর্বাঅধিনায়ক ওসমানীর এ নির্দেশের কথা অল্প সময়ের মধ্যে যুক্তরাজ্য প্রবাসি বাংলাদেশিরা সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহনের মনভাব পরিত্যাগ করেন। ওসমানীর আদেশক্রমে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন স্থানে’,একশন কমিটির ফর দ্যা শিপলস রিপাবলিক অফ বাংলাদেশ ইউ,কে’ , সংক্ষেপে ‘একশন কমিটি’ স্টিয়ারিং কমিটি,বাংলাদেশ সেন্টার,বাংলাদেশ ফান্ড ইত্যাদি সংস্থা গঠন করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্বজনমত অর্জনে ও চাঁদা সংগ্রহে লাপিয়ে পড়েন প্রবাসি বাংলাদেশিরা।

জেনেভা থেকে বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী লন্ডনে এসে যুক্তরাজ্য প্রবাসি বাংলাদেশিদের সাথে স্বাধীনতা সংগ্রামে যোগ দেন। সর্বাঅধিনায়ক ওসমানীর নির্দেশ সম্বলিত পত্র ও আবু সাঈদ চৌধুরীর উপস্থিতি যুক্তরাজ্য প্রবাসি বাংলাদেশিদের মধ্য প্রাণ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে।

বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী বাংলাদেশে সেসেনারকে কেন্দ্র করে স্বাধিনতা সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়েন। সেচ্ছায় হাজার হাজার যুক্তরাজ্য প্রবাসি বাংলাদেশি মুক্তিযুদ্ধের প্রয়োজনে লক্ষ লক্ষ পাউন্ডে সংগ্রহে করে বাংলাদেশ ফান্ডে জমা দেন। সরকারি হিসেবে যুক্তরাজ্য প্রবাসি বাংলাদেশিরা মুক্তিযুদ্ধের জন্যে ৪,১২,০৮৩,২৬ পাউন্ড দান করেন ।

(বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে দলিলপত্র,চতুর্থ খন্ড পৃঃ৭৭৭)।

বেসরকারি হিসেবে প্রায় ১৫ লক্ষ পাউন্ড দান করেছেন যুক্ত্রাজ্য প্রবাসি বাংলাদেশিরা ।( ৮ম জাতীয় ইতিহাস সম্মেলন ১৯৮৭ উপলক্ষে প্রকাশিত সিলেট দর্পন- সম্পাদনায় মুহাম্মাদ আসদ্দর আলী ,পৃ ঃ২৭)।

এছারা যুক্তরাজ্য প্রবাসি বাংলাদেশিরা কয়েকটী এম্বুলেন্স,মূল্যবান ঔষধপত্র হাসপাতালে চিকিৎসার জন্যে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি,বিপুল পুরিমান কাপড়-চোপড় কিনে পাঠিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য। যুক্তরাজ্য প্রবাসি বাংলাদেশিদের সাহায্য থাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য উন্নতমানের অস্ত্র ও খাদ্য ক্রয় করা হয় । ফলে মুক্তিযুদ্ধারা সঞ্জিবনী শক্তি লাভ করেন। মুক্তিযুদ্ধ হয়ে ওঠে দুর্ভার।

কিরুপ প্রাণ চাঞ্চল্য নিয়ে যুক্তরাজ্য প্রবাসি বাংলাদেশিরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করেছেন তার একটি বিবরণ পাওয়া যায় সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলার ফাজিলপুর গ্রামের আলহাজ্ব তারা মিয়া খানের বর্ণনা থেকে। ১৯৭৬ সালে ‘জাতীয় মনীষা পরিষদ বাংলাদেশ’ এর পক্ষ থেকে ঢাকা জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র মিলনায়তনে’ স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রবাসিদের অবদান শীর্ষক এক স্মৃতিচারণ সভার আয়োজন করা হয় । উক্ত স্মৃতিচারন অনুষ্টানে লন্ডনে স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম সংগঠক বিশিষ্ট দানবীর আলহাজ্ব তারা মিয়া খান বলেন, ‘ প্রবাসিরা তখন রাস্তায় নেমেছেন । বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী নেতৃত্বে দিচ্ছেন । বাংলাদেশ সেন্টার অফিস। আমার প্রবাসিরা রোজগারের অংশবিশেষ মুক্তিযুদ্ধের তহবিলে দিয়েই যাচ্ছি । আমার দুটি রেস্টুরেন্টের আয়ের বড় অংশটি দেশের জন্য দিয়ে যাচ্ছি। আমার হৃদয়ে তখন একটী আকুতি ছিলো,শরীরের শেষ রক্তবিন্দু দিয়েও যদি দেশ স্বাধীন হয়। বাংলাদেশ সেন্টার কে কেন্দ্র করে আমার মত আমার পরিচিতিদের মধ্যে যারা প্রাণপন সংগ্রাম করেছেন তারা হলেন,মৌলভিবাজার এর মিনহাজ উদ্দীন,বিশ্বনাথের গৌছ খান,আবদুল মুতালিব চৌধুরী , তৈয়বুর রহমান,রমজান আলী,মশরু মিয়া,গোলাপগঞ্জের আতাউর রহমান খান,হাফিজ মজির উদ্দীন,নিছার আলী, মোস্তাক কুরাইশী, উস্তার মিয়া,খন্দকার ফরিদ উদ্দীন । বিয়ানীবাজার এর সোনা মিয়া,নিম্বর আলী,শামসুর রহমান,শমছ খান,নূর মিয়া । কা্নাই ঘাটের আবদুর রকিব । নবীগঞ্জের আবু নকর । বরিশালের ব্যারিস্টার সুলতান শরীফ । ঢাকার ডাঃ তালুকদার । চট্রগ্রামের শামসুল আলম চৌধুরী প্রমুখ । শুধু আমরা পুরুষেরা নয়। যুক্তরাজ্য প্রবাসি মহিলারাও স্বাধিনতার জন্য রাস্তায় নেমেছিলেন । পাকিস্তানি দুতাবাস এর সামনে আমরা অনশন ধর্মঘট করেছি । মহিলারাও অনশন ধর্মঘটে শরিক হোণ। নুর মিয়ার স্ত্রী আলেয়া বেগম,সোনা মিয়ার স্ত্রি মিনু বেগম,আমার স্ত্রী রওশনারা বেগমসহ অনেক নারী সেই অনশন ধর্মঘটে শরিক হোন ।

এ ছাড়াও যুক্তরাজ্য প্রবাসি বাংলাদেশি বৃটিশ কমনস সভায় স্মারকলীপি পেশ করেন । স্মারকলীপির মধ্যেমে বাংলাদেশে পাকিস্তানি হানাদার বাহীনির গনহত্যা বন্ধের চেষ্টাঃ করতে এবং মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থন ওসাহায্য করতে বৃটিশ সরকারের কাছে অনুরোধ করা হয় ।

তদুপরি বিবিসিসহ বৃটিশ প্রচার মধ্যমগ্যলোর সাথে যোগাযোগ করে বাংলাদেশের নায্য স্বাধীনতার পক্ষে সেচ্চার হতে সুপারিশ করা হয় ।ফলে বৃটেনের মিত্রদেশ আমেরিকা পাকিস্তানের সমর্থন থাকা সত্ত্বেও বৃটিস সরকার বাংলাদেশের পক্ষে চলে আসেন যুক্তরাজ্যের জনগণও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে নৈতিক সমর্থন জানায়।শতশত ইংরেজ প্রবাসি বাংলাদেশিদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে নিবেদিত হয়ে কাজ করেন । সর্বোপরি বিবিসিসহ বৃটিশ প্রচার মধ্যমগূলো সেচ্চার হয়ে ওঠে পাকিস্তানি আর্মির বর্বরতার বিরুদ্ধে ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ।

মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আন্তজাতিক ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য প্রবাসি বাংলাদেশিদের ভূমিকা এ পযন্ত সেস নয় ।একদল প্রবাসি বাংলাদেশিরা গাড়িতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ও পাকিস্তানি আর্মির গণহত্যার বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্লেকার্ড ও ব্যানার লাগিয়ে মটর গাড়ির শোভাযাত্রা সহকারে ইংল্যান্ড থেকে সুদূর ফ্রান্সের পেরিস শহরে গিয়ে ওয়ারল্ড ব্যাংকের অর্থ্যাৎ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি সংস্থার বৈঠকে যোগদান করে বাংলাদেশের পাকিস্তানি আর্মির গণহত্যা,নারী, নিযার্তন,বাড়িঘর পুড়ানোর বিবরণ তুলে ধরেন ।

ফলে আইনক্রমে যতোদিন পাকিস্তান বাংলাদেশে গনহত্যা বন্ধ করবেনা ততোদিন পযন্ত পাকিস্তাতানের সাহায্য স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহন করে ।

মহান মুক্তিযুদ্ধের যুক্তরাজ্য প্রবাসি বাংলাদেশিদের মহুমুখি ভূমিকায় ইতিহাসের পাতায় চিরদিন স্বররণাক্ষরে লিখিত থাকবে । মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বের দেশে দেশে সেবাসরত বাংলাদেশিদের অবদান ও জাতি কোনদিন ভূলবেনা। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মুক্তিযুদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ট সন্তান ।

মোহাম্মদ ফয়জুর রহমান    

প্রকাশিত গ্রন্থঃ

১,বঙ্গবীর ওসমানী

২,ইসলামী সাম্য

৩,স্বাধীনতার ঘোষণা

৪,পয়লা পড়া