অবৈধভাবে পদে বহাল আছেন রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক দেবাশীষ রঞ্জন রায়। তিন বছরের ডেপুটেশন নিয়ে পরিদর্শকের দায়িত্বে আসেন তিনি। কিন্ত ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো স্বপদে দায়িত্ব পালন করছেন রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (এইচ এস টি টি আই) থেকে আসা ইতিহাসের এই শিক্ষক।
এরইমধ্যে নানারকম অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে দেবাশীষ রঞ্জন রায়ের বিরুদ্ধে। রাজশাহীতে ৭ বছরে বিলাসবহুল ফ্ল্যাটসহ নামে-বেনামে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি। অফিসে আসেন দুপুর ১২টার পর। আর কাজ করেন সন্ধ্যা ৭ টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত। গোপনে শিক্ষকদের ডেকে নিয়ে বিনিময়ে চলে কাজ।
জানা গেছে, রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের অধীনে সাড়ে তিন হাজার স্কুল রয়েছে। অন্তত এক ডজন স্কুলের বিষয়ে হাইকোর্টের রায় থাকলেও তিনি সেসব রায় বাস্তবায়নে কোনো উদ্যোগ নেননি। ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন সেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। বিভিন্ন স্কুলে জটিলতা সৃষ্টির জন্য ফাইল থেকে কাগজ সরিয়ে ফেলা হয়। যেটির মূল হোতা দেবাশীষ রঞ্জন রায়।
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের দেয়া রায়ে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার দোয়ালসারা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রাশেদুল ইসলাম রাজুকে বরখাস্ত হওয়ার কাগজটি সরিয়ে ফেলেন তিনি। তাকে ওই স্কুলের সভাপতি রাখার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন দেবাশীষ রঞ্জন রায়। বিষয়টি রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানকে অবগত করা হলে তিনি নির্বাহী ক্ষমতাবলে দোয়ালসারা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ভাতা উত্তোলনের জন্য শেরপুরের ইউএনওকে দায়িত্ব দেন।
পাবনার ভাঙ্গুরা উপজেলার অষ্টমনিষা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সকল সদস্য গত জানুয়ারি মাসে স্বশরীরে বিদ্যালয় পরিদর্শকের কাছে এসে পদত্যাগ করলেও রহস্যজনক কারণে ওই কমিটি এখনো ভাঙ্গা হয়নি।
এছাড়া দেবাশীষ রঞ্জন রায়ের হাতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আসা প্রধান শিক্ষকদের লাঞ্ছিত হতে হয়। তার দপ্তরে ঢুকতেও বাধার মুখে পড়েন অনেক শিক্ষক। এমনকি গালিগালাজ করে কক্ষ থেকে বের করে দেয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার ডেপুটেশনের মেয়াদকাল অনেক আগে উত্তীর্ণ হলেও মন্ত্রণালয়কে ম্যানেজ করে তিনি ওই পদে অবৈধভাবে বহাল রয়েছেন। সর্বশেষ গত ২ জুনের সরকারী সার্কুলার অনুযায়ী জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া কাউকে ডেপুটেশন দেয়া যাবে না। তবুও রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
এসব অভিযোগ বিষয়ে জানতে দেবাশীষ রঞ্জন রায়ের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও ফোন রিসিভ করেননি তিনি।
_____________
আমানুল্লাহ আমান
রাজশাহী সংবাদদাতা


