শান্তিগঞ্জে স্থাপিত হচ্ছে স্বপ্নের বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল: জানুয়ারি থেকে ক্লাস শুরু
◾ জায়গা দিতে পের খুশি ডাক্তার দম্পতি ◾ দাতার বাবা-মা’র নাবে হবে ভবন ◾ আনুষ্ঠানিকভাবে ভূমি প্রদান হবে আজ
ইয়াকুব শাহরিয়ার, ইয়াকুব শাহরিয়ার,
নিজস্ব প্রতিবেদক
অবশেষে গুছতে শুরু করেছে নাইন্দার পাড় এলাকার মানুষদের স্কুল না থাকার দুঃখ।আস্তমা, কামরুপদলং, আসামপুর, সদরপুর, পার্বতীপুর, তালুকগাঁও, কামরুপদলং কান্দিগাঁও, সুলতানপুর এলাকা নিয়ে গঠিত নাইন্দার পাড়ের আকাঙ্ক্ষার স্কুল স্থাপনের প্রক্রিয়া একেবারে শেষ পর্যায়ে। এ যেনো মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি। এখানে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল। মাধ্যমিক পর্যায়ের এ স্কুলটি প্রতিষ্ঠার মূল কারিগরেরা হচ্ছেন ভূমি দাতা ডাক্তার দম্পতি ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুকান্ত সাহা। তাঁদের যৌথ প্রচেষ্টায় শান্তিগঞ্জ উপজেলার আস্তমা গ্রামের প্রধান সড়কের পশ্চিম পাশে সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের উত্তর পাশ ঘেঁষে পঞ্চাশ হাল মৌঁজার ছনপুঁতায় প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে অত্যাধুনিকমানের এই স্কুলটি। স্কুল প্রতিষ্ঠায় প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের মূল্যবান ভূমি দান করছেন আস্তমা গ্রামের বাসিন্দা, কানাডা প্রবাসী সমাজ সেবক ডা. আবু সাঈদ আলী আহমদ ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. সুলতানা ওয়াহিদ চৌধুরী। আজ বুধবার শান্তিগঞ্জ রেজিস্ট্রি অফিসে ইউএনও সুকান্ত সাহার উপস্থিতিতে স্কুলের নামে আনুষ্ঠানিকভাবে ভূমি দান করবেন এই ডাক্তার দম্পতি। স্কুলের পক্ষে মূল্যবান সম্পত্তি গ্রহণ করবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুকান্ত সাহা।
এলকাবাসীর পক্ষে হাসান মাসুদ তারেক, নজরুল ইসলাম, তোফায়েল আহমদ, আঙ্গুর মিয়া ও তাজুল ইসলাম জানান, পাগলা সরকারি মডেল হাইস্কুল এন্ড কলেজ ও জয়কলস উজানীগাঁও রশীদিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঝে দূরত্ব প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার। এতো দূরত্বের মাঝে নেই কোনো মাধ্যমিক বিদ্যালয়। বিশেষ করে আস্তমা, কামরুপদলং, আসামপুর, সদরপুর, পার্বতীপুর, তালুকগাঁও, কামরুপদলং কান্দিগাঁও, সুলতানপুর ও জাঙ্গীরনগর এলাকাসহ বিশাল এলাকার শিক্ষার্থীরা এসব সরকারি স্কুলে ভর্তির সুযোগ না পেয়ে ঝড়ে পড়ছেন। অনেকে ভর্তি হচ্ছেন মাদ্রাসায়। সরকারি স্কুলগুলো আসন সংখ্যা সীমিত, অন্য কোনো স্কুল না থাকায় বা পছন্দের স্কুলে ভর্তি হতে না পারায় শিক্ষার্থীদের মাঝে এক ধরণের হীনমন্যতা কাজ করে। তাই এই এলাকায় একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করা সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছিলো৷ দীর্ঘদিন থেকে স্কুল প্রতিষ্ঠার দাবি করে আসছিলেন এসব এলাকার অভিভাবকেরা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে নতুন স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন আমাদের শ্রদ্ধাভাজন চাচা ডা. আবু সাঈদ মোহাম্মদ আলী ও চাচী ডা. সুলতানা ওয়াহিদ চৌধুরী। তাঁদের জায়গাতেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, আগামী জানুয়ারি থেকেই শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়া হবে এই প্রতিষ্ঠানে। ২০২৫ শিক্ষা বর্ষে নিকটস্থ অস্থায়ী ভবনে ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণিতে চলবে শ্রেণি কার্যক্রম। ফেব্রুয়ারির দিকে নতুন ভবন নির্মান করবে উপজেলা প্রশাসন। প্রাথমিকভাবে প্রতিষ্ঠান প্রধানের দায়িত্ব পালন করবেন উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ফজলে রাব্বানী চৌধুরী। সভাপতির দায়ীত্বে থাকবেন ইউএনও। তবে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করবে বাংলাদেশ বিয়াম ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ। শ্রেণি কক্ষে রাখা হবে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর। একটি ভবন নির্মাণ করা হবে ভূমি দাতাদের বাবা-মায়ের নামে। অনারবোর্ডেও থাকবে ভূমি দাতাদের নাম।

ডা. আবু সাঈদ দম্পতিকে সম্মাননতা স্মারক তুলে দিচ্ছেন আস্তমা গ্রামের যুবকেরা। ছবিটি আস্তমা গ্রাম থেকে তুলা।
এদিকে, এমন একটি মহৎ কাজে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে পেরে আনন্দিত ডা. আবু সাঈদ আলী আহমদ ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. সুলতানা ওয়াহিদ চৌধুরী। তারা বলেন, প্রথমে আমরাই উদ্যোগ নিয়েছিলাম বাবা-মা’র নামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করার। একটি সাইনবোর্ডও ঝুলিয়েছিলাম। নানান কারণে সেটা আর হয়ে উঠেনি। এখন আবার কথা হচ্ছিলো স্কুল প্রতিষ্ঠার। তন্মধ্যে ইউএনও সাহেবও আগ্রহ দেখালেন। তিনি নিশ্চিত করেছেন, আমাদের বাবা-মা’র নামে একটি ভবন থাকবে। আমরা রাজি হয়ে যাই। এলাকায় শিক্ষা ক্ষেত্রে কিছু অবদান রাখার জন্যই আমাদের এই চেষ্টা। প্রতিষ্ঠানটি বাস্তবায়ন হলে আমরা খুশি হবো। ৭৫ শতক জায়গা রেজিস্ট্রি করে দেবো আগামীকাল (আজ)। এ জায়গার বর্তমান বাজার দর প্রায় ২ কোটি টাকা হবে। আমরা স্কুলের নামে জায়গাটি দিয়ে দিচ্ছি। সকলের সহযোগিতায় স্কুলটি প্রতিষ্ঠা হলে আমাদের এলাকারই লাভ। ইউএনও সাহেব খুব পরিশ্রম করেছেন এ ব্যপারে।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুকান্ত সাহা বলেন, প্রথমে ভূমি দাতাদের ধন্যবাদ প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের এতো দামী জায়গা স্কুলের নামে দান করে দেওয়ার জন্য। আগামীকাল (আজ) আমরা ভূমি রেজিস্ট্রি নেবো। স্কুলের পক্ষে ইউএনও ভূমি গ্রহণ করবেন। এখানে বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হবে। জানুয়ারি থেকেই ২০২৫ শিক্ষা বর্ষের শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। নিকটস্থ অস্থায়ী ভবনে কার্যক্রম শুরু হবে। প্রতিষ্ঠান প্রধানের দায়িত্ব পালন করবেন নির্বাহী কমিশনার (ভূমি) ফজলে রাব্বানী চৌধুরী। ফেব্রুয়ারিতে নতুন একটি ভবন নির্মাণ করা হবে। স্কুলটি প্রতিষ্ঠায় সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।


