রাত পোহালেই শান্তিগঞ্জে ভোটযুদ্ধ শুরু: কে পড়বেন বিজয় মুকুট?

প্রকাশিত: ১০:০৭ অপরাহ্ণ, জুন ৪, ২০২৪ 177 views
শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে উপস্থিত হলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। প্রচার-প্রচারণার অবসান ঘটিয়ে সেই বিশেষ মুহূর্তের অপেক্ষায় প্রার্থীরা। যে মূহুর্তে জন্য দীর্ঘ সময় ধরে রাত দিন এক করে মাঠ-ঘাট চষে বেড়াচ্ছেন শান্তিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ৩ পদের ১২ প্রার্থী। আজ রাত পোহালেই আগামীকাল সকাল ৮টা থেকে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের ১৫৫টি গ্রামে শুরু হবে ভোট গ্রহণ। চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। সমস্ত উপজেলায় ৫৬ ভোট কেন্দ্রে ভোট দেবেন ১ লক্ষ ৪৫ হাজার ৭৯৭ জন ভোটার। এদের মধ্যে মহিলা ভোটার রয়েছেন ৭১ হাজার ৫১০ জন, পুরুষ ভোটার ৭৪ হাজার ২৮৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ২ জন। ভোট নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত প্রার্থীদের কর্মী ও সমর্থকেরা। এখন শুধু ভোট দেওয়ার অপেক্ষা। তিন ধাপে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ৩শ’ ৯৫টি উপজেলায় ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। সব মিলিয়ে সারা দেশে গড়ে মোট ভোট পড়েছে ৩৬.৬৬ শতাংশ প্রায়। আশঙ্কা করা হচ্ছে, যদি আগামীকাল বুধবার শান্তিগঞ্জ উপজেলায় বৃষ্টি থাকে তাহলে এখানেও ভোটের হার কম পড়বে। এছাড়াও পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির পানিতে ইতোমধ্যে উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে গেছে। ডুবে গেছে তুলনামূলক নিচু রাস্তাঘাট। এজন্যও ভোটের সংখ্যা কম হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ভোট সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

সাধারণ ভোটাররা বলছেন, শান্তিগঞ্জ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে তিন প্রার্থীর মধ্যে মূল লড়াই হবে দ্বিমুখী। উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাজি আবুল কালামের মোটরসাইকেল ও সাবেক মন্ত্রী এম এ মান্নানপুত্র সাদাত মান্নান অভির আনারস প্রতীকের মধ্যে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বীতার আভাস পাচ্ছেন তারা। অপর চেয়ারম্যান প্রার্থী এড. বোরহান উদ্দিন দোলন তার অঞ্চলের কিছু ভোট পেতে পারেন বলে ধারণা ভোটারদের। মূলত: উপজেলার ভোটাররা মোটরসাইকেল ও আনারস প্রতীককে কেন্দ্র করে দুই ভাগে বিভক্ত পড়েছেন। অপরদিকে, দুইবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়ে পরাজিত হওয়ায় এবছর সাধারণ ভোটারদের ‘বিশেষ মানবিক’ দৃষ্টিতে আছেন মাইক প্রতীকের মোশাররফ হোসেন জাকির। তাকে ঘিরে ভোটারদের উচ্ছ্বাস চোখে পড়ার মতো। তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বীতা হবে চশমা প্রতীকের রোকনুজ্জামান রুকনের সাথে। রোকনও দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির মাঠে আছেন। স্থানীয় রাজনীতিতে তার সফলতাও আছে। এর আগে নোয়াখালী বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচনে সভাপতি পদে বিজয়ী হয়ে সকলের নজড়ে পড়েন রোকন। তিনিও জানেন কীভাবে ভোটারদের কাছ থেকে জয় আদায় করতে হয়। এই পদের আরও দুই প্রার্থী মাও. মো. জাহাঙ্গীর খাঁন (টিউবওয়েল) ও মো. আনোয়ার হোসেন (তালা) অঞ্চলভিত্তিক ভোট পেতে পারেন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে খুবই সরব রয়েছেন ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী রফিকা মহির। বাকী চারপ্রার্থীও আছেন সমান প্রতিদ্বন্দ্বীতায়।

উপজেলার প্রায় সবক’টি ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন সাধারণ ভোটারদের সাথে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। ভোটাররা জানান, শেষ মূহুর্তে চেয়ারম্যান পদে খুবই প্রতিন্দ্বীতামূলক অবস্থানে গিয়ে দাঁড়িয়ে এই নির্বাচন। পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নে হাজি আবুল কালামের বাড়ি হওয়ায় আঞ্চলিক টানে এখানে জয় প্রায় সুনিশ্চিত মোটরসাইকেলের। ভোটের ব্যবধানও হতে পারে বেশি। অপরদিকে, জয়কলস ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী সাদাত মান্নান অভি (আনারস) ও এড. বোরহান উদ্দিন দোলন (ঘোড়া)। এই ইউনিয়নে প্রার্থী দু’জন হলেও সাদাত মান্নান অভি নিরঙ্কুশ জয় পেতে পারেন বলে অনেকটা যুক্তি দাঁড় করিয়েছেন ভোটাররা। তবে, জয়কলসে অভির নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন হাজি আবুল কালম। এই ইউনিয়নে তার সাথে অভি মান্নানের ভোটের ব্যবধানও বেশি হবে বলে ধারণা ভোট সংশ্লিষ্টদের। পশ্চিম পাগলা ও জয়কলস ইউনিয়নের ভোট যোগ বিয়োগ করলে এই দুই ইউনিয়নে ভোটের ব্যবধানে অভি মান্নান এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন ভোটাররা। এখানে সবচেয়ে বড় যুক্তি হচ্ছে পশ্চিম পাগলায় ভোটের সংখ্যা ১৬ হাজারের কিছু বেশি এবং জয়কলস ইউনিয়নে ভোট প্রায় দ্বিগুন। ২৮ হাজারেরও বেশি। চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানসহ এ ইউনিয়নে নির্বাচনে প্রার্থীর সংখ্যা ৭জন। সব প্রার্থীরাই তাদের নিজস্ব ভোট কাস্ট করানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। সে অনুযায়ী এই ইউনিয়নে ভোট কাস্ট হবে বেশি। বেশি ভোটারের ইউনিয়নে বেশি কাস্ট হলে লাভ হবে সাদাত মান্নান অভির এমনটাই ধারণা এ উপজেলার সাধারণ ভোট বিশ্লেষকদের।

এছাড়া পূর্বাঞ্চলীয় ইউনিয়নগুলোতে হাজি আবুল কালামের মোটরসাইকেল জয় লাভ করতে পারে বলে ধারণা অনেক ভোটারদের। তবে ভোটের ব্যবধান খুবই কম হতে পারে। উপজেলার পূর্বাঞ্চলের পূর্ব পাগলা, পশ্চিম পাগলা, দরগাপাশা ও পূর্ব বীরগাঁওয়ে হাজি আবুল কালামের প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ জয়ের কথা বললেও জয়কলস, পাথারিয়া ও পশ্চিম বীরগাঁওয়ে সাদাত মান্নান অভির নিরঙ্কুশ বিজয়ের কথা বলছেন ভোটাররা। শিমুলবাকে এই দুই প্রার্থী সমান ভোট পেতে পারেন বলে ধারণা করছেন সাধারণ ভোটাররা। এখানে বোরহান উদ্দিন দোলনও কিছু ভোট নিজের করে নিবেন।

তবে যে যতই হিসাব মিলনান না কেনো ভোটাররা কিন্তু বুধবার দিনব্যাপী তাদের যোগ্য নেতাকেই বেচে নেবেন। কার গলায় পড়বে বিজয় মালা, কার মাথায় উঠবে বিজয় মুকুট তা নির্ভর করছে সাধারণ ভোটারদের কাছে। এটি জানতে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের। একটি সুষ্ঠু ও তাৎপর্যপূর্ণ নির্বাচনের প্রত্যাশা সকলের।